নিলামপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের সমস্যা তীব্র হচ্ছে
Banglajibon.com – ন ল মপ রক র য র - বছরের পর বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার নিলামযোগ্য কনটেইনার জমা পড়ে আছে। এই বিশাল পরিমাণ পণ্য ও কনটেইনার বন্দরের মোট ইয়ার্ডের এক চতুর্থাংশেরও বেশি জায়গা দখল করে রেখেছে। ফলে পণ্য খালাস এবং জাহাজ পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। একই সময়ে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত এই পণ্য সরানো না গেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্ষমতা আরও কমে যাবে।
রাজস্ব ও ক্ষতির হিসাব
চলতি বছরের ত্রিশ জুন পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ডে নয় হাজার তিনশত ত্রিশটি টিইইউস কনটেইনার জমে ছিল। একই সময়ে বিভিন্ন শেডে একাধিক আমদানিকারকের প্রায় এক লাখ ত্রিশ হাজার প্যাকেজ এলসিএল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। এই নিলামযোগ্য পণ্যগুলোতে সরকারের আট থেকে দশ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বেসরকারি হিসাবে শিপিং এজেন্ট চার্জ ও কনটেইনার ভাড়া ধরলে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. নাসির উদ্দিন জানান, শুধু নিলামযোগ্য পণ্য সরিয়ে ফেলতে পারলেই নতুন কোনো অবকাঠামো নির্মাণ ছাড়া বিদ্যমান সুবিধাতে প্রায় চল্লিশ শতাংশ বেশি পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা
উদ্বেগের বিষয় হলো, আটকে থাকা কনটেইনারগুলোর মধ্যে তিনশত ত্রিশটিতে দাহ্য পণ্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে চৌদ্দটি কনটেইনারকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আবার কিছু কনটেইনার বিশ থেকে ত্রিশ বছর ধরে বন্দরে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন খোলা পরিবেশে থাকায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দীর্ঘদিন বিপজ্জনক রাসায়নিক ও দাহ্য পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন বিপজ্জনক রাসায়নিক ও দাহ্য পণ্য বন্দরে পড়ে থাকায় অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ ও পরিবেশগত দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সমাধানের উদ্যোগ
এই পরিস্থিতিতে গত দুই জুলাই এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে দ্রুত নিলামপ্রক্রিয়া শেষ করা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ হওয়া পণ্য দ্রুত ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। চিঠিতে বলা হয়, ইয়ার্ডে জায়গার সংকটের কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানো ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জাহাজের অবস্থানকাল বেড়ে যাচ্ছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
ব্যবসায়ীদের সমস্যা
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কাস্টমসের মূল্যায়ন শেষ হতে আট থেকে দশ দিন লেগে যায়। অথচ পণ্য আসার চার দিন পর থেকে ডেমারেজ চার্জ শুরু হয়। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ে, মূলধন আটকে যায় এবং কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হয়।
যদিও কাস্টমসের তথ্য বলছে, আগের তুলনায় নিলাম কার্যক্রম বেড়েছে। দুই হাজার পঁচিশ সালে চারশত তিরিশটি কনটেইনার নিলাম হলেও চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে নিলাম হয়েছে ছয়শত ছাব্বিশটি কনটেইনার। তবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার মো. আবু সুফিয়ান বলেন, অনেক পণ্যের বিরুদ্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতা থাকায় ইচ্ছা করলে দ্রুত নিলাম করা যায় না। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেগুলো নিলামে তোলা হয়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন ল মপ রক র য র?ন ল মপ রক র য র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন ল মপ রক র য র matter?ন ল মপ রক র য র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.