Business

ই-সেবা থাকলেও ভোগান্তি কমেনি গ্রাহকদের: সিপিডির গবেষণা

khrisna-edit-1788203470-186110da71
Foto : Richard Smith - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ডিজিটাল সেবার নামেই পুরোনো কাগজপত্রের জাল: সিপিডির গবেষণায় উন্মোচিত স্থানীয় সরকারের ই-গভর্ন্যান্সের বাস্তবতা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ডিজিটাল সেবার নামেই পুরোনো কাগজপত্রের জাল: সিপিডির গবেষণায় উন্মোচিত স্থানীয় সরকারের ই-গভর্ন্যান্সের বাস্তবতা

Banglajibon.com – ই স ব থ কল ও ভ – বাংলাদেশে ইন্টারনেট সংযোগের আওতা দিনদিন বাড়ছে, স্মার্টফোন প্রায় প্রতিটি হাতে পৌঁছে গেছে। তবুও স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নাগরিক আজও দফায় দফায় দপ্তরের দরজায় দাঁড়িয়ে কাগজ জমা দিচ্ছেন, স্বাক্ষর করছেন, টাকা পরিশোধ করছেন। অনলাইনে আবেদন করলেও প্রক্রিয়ার শেষ ধাপগুলো এখনো পুরোনো পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতাকে সংখ্যায় ধরতে গিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডালাগ (সিপিডি) এক বড় জরিপের প্রাথমিক ফলাফল সামনে রেখেছে।

গবেষণার পরিধি ও পদ্ধতি

রাজধানীতে গত সোমবার অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত হয় এই গবেষণার ফলাফল। সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘যুবসমাজ, নারী-পুরুষ (লিঙ্গ) ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ই-গভর্ন্যান্স প্রতিষ্ঠা’। সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

জরিপে মোট ২ হাজার ৬১১ জন নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৮২ জন যুব, ৯৫৭ জন নারী, বাকিরা আদিবাসী, চরবাসী, হাওরবাসী, বস্তিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কাজরত ২৯৭টি সরকারি অফিসকে সরবরাহপক্ষ হিসেবে জরিপে ধরা হয়েছে।

অনলাইনে শুরু, দপ্তরে শেষ: সেবার অসম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশন

তথ্যগুলো বলছে, পুরো সরকারি সেবা-প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে শেষ করতে পেরেছেন মাত্র ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ নারী এবং ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ যুব। অর্থাৎ তিন নারী-ব্যক্তির মধ্যে একজনও পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পথে সম্পন্ন করতে পারেননি।

আরও উদ্বেগজনক সংখ্যা হলো—অনলাইনে আবেদন দেওয়ার পরও কাগজপত্র জমা, স্বাক্ষর বা সনদ সংগ্রহের জন্য সরাসরি দপ্তরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ও ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ যুব। সিপিডি এই চিত্রকে ব্যাখ্যা করে বলছে, বর্তমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেবার কিছু প্রাথমিক ধাপ অনলাইনে এনেছে, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল করার ক্ষমতা এখনো অর্জন করেনি।

দক্ষতার ঘাটতি ও প্রশিক্ষণের অভাব

এই সীমাবদ্ধতার পেছনে নাগরিকের ডিজিটাল সক্ষমতার অভাব একটি বড় ভূমিকা রাখে। জরিপে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ও ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ যুব ডিজিটাল দক্ষতার অভাবকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের অনুপস্থিতিও একই রকম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

যেখানে প্রশিক্ষণের কথা আসে, সেখানে ছবি আরও তীব্র। ডিজিটাল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। অর্থাৎ পাঁচ নারীর মধ্যে চারজনই কোনো ধরনের ডিজিটাল স্কিল-বিল্ডিং কার্যক্রমের বাইরে রয়েছেন।

তথ্য-নিরাপত্তা: আস্থার ভিত্তিই ক্ষত

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অধ্যায় তথ্য-নিরাপত্তা নিয়ে। মাত্র ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ নারী সরকারি ই-সেবায় ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়াকে পুরোপুরি নিরাপদ মনে করেন। ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ নারী তথ্য ফাঁস বা হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা করেন। ৬১ শতাংশ নারী ই-সেবা ব্যবহারের পর অননুমোদিত কল বা বার্তা পাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এই অভিজ্ঞতা নাগরিকের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থার প্রতি নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। যখন নাগরিক মনে করেন তার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত নয়, তখন সেবা-গ্রহণের ইচ্ছা নিজে থেকেই কমতে থাকে।

অভিযোগ-প্রতিকার: নীরবতার সংখ্যা

জবাবদিহির ক্ষেত্রেও গভীর ঘাটতি দেখা গেছে। ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ও ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ যুব কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থার অনুপস্থিতি এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানার কোনো সুযোগ না থাকা—এই তিনটি কারণ সমস্যাটিকে আরও গভীর করেছে।

স্থানীয় অফিসের প্রস্তুতি: সংখ্যায় ভয়

সরকারি অফিসগুলোর প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও চিত্রের অন্য প্রান্ত। স্থানীয় সরকার অফিসগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ। অবকাঠামোগত প্রস্তুতি আরও নিম্ন—মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ।

ইউনিয়ন কৃষি অফিসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রায় অবৈধ। গড়ে সচল কম্পিউটার মাত্র ০.১৫টি; ৪৪ শতাংশ কম্পিউটার অচল। ৯৭ শতাংশ ইউনিয়ন কৃষি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যাকআপ নেই, ৯৩ শতাংশে বিকল্প ইন্টারনেট সংযোগ নেই। অঞ্চলভেদে বৈষম্যও তীব্র—ইউনিয়ন পর্যায়ে ময়মনসিংহের প্রস্তুতি স্কোর ৫৭ দশমিক ৩ হলেও রংপুরের মাত্র ৮ দশমিক ৮।

সিপিডির সুপারিশ ও পথ-নির্দেশ

সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন,

শুধু অনলাইন সেবার সংখ্যা বাড়ালেই ই-গভর্ন্যান্স কার্যকর হবে না; নাগরিকের বাস্তব অভিজ্ঞতা, ডিজিটাল দক্ষতা, তথ্যের নিরাপত্তা, অভিযোগের প্রতিকার, স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো এবং নারী-যুব-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই ই-গভর্ন্যান্সকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব।

সিপিডির মতে, ই-গভর্ন্যান্সের সমস্যা কেবল প্রযুক্তির ঘাটতি নয়—এটি অবকাঠামো, দক্ষতা, নিরাপত্তা, জবাবদিহি ও অন্তর্ভুক্তির সমন্বিত সংকট। এই সংকট মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি একাধিক সুপারিশ তুলে ধরেছে: ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানো, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার শক্তিশালী করা, সরকারি ডেটাবেইস আন্তসংযুক্ত করা, একক আবেদন-স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা, সহজ অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ই-গভর্ন্যান্স পারফরম্যান্স ড্যাশবোর্ড চালু

Frequently Asked Questions

What is ই স ব থ কল ও ভ?

ই স ব থ কল ও ভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ই স ব থ কল ও ভ matter?

ই স ব থ কল ও ভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment