Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সারের দাবিতে কর্মকর্তার ওপর হামলা: গ্রেপ্তার আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কৃষকদের

Published September 12, 2026 · Updated September 12, 2026 · By Betty Thomas - banglajibon.com

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণ ঘিরে উত্তেজনা, মামলার পর আতঙ্কে কৃষক পরিবারগুলো

Banglajibon.com – স র র দ ব ত কর - কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারে নাম থাকা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে অজ্ঞাত আসামির তালিকা থাকায় এলাকার সাধারণ কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও হয়রানির আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাতে নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড়ে। ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কের একটি সার ডিলার পয়েন্টে কয়েক শ কৃষক জড়ো হয়ে সার বিতরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার দেওয়া হচ্ছিল না। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ও নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির সুযোগে অন্যদের চেয়ে বেশি সার পাচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

কৃষকদের ভাষ্য, অনেকেই একাধিকবার ডিলার পয়েন্টে গিয়েও সার পাননি। অথচ টাকা দিয়ে কেউ কেউ কয়েক বস্তা সার সংগ্রহ করেছেন—এমন অভিযোগে উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি একসময় উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা বাঁশ ফেলে সড়ক আটকে দেন এবং সেখানে আগুন জ্বালানো হয়। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ ও হামলার অভিযোগ

বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার এবং একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, যাঁকে স্থানীয়ভাবে বিএস হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের ঘিরে ফেলা হয় এবং হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুই কর্মকর্তা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাঁরা নিজেদের নিরাপদ রাখেন বলে ঘটনাস্থলে থাকা কৃষকেরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার নিজে বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মামলা দায়েরের তথ্য নিশ্চিত করেন, তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কৃষকদের দাবি, সেদিন সবার জন্য ১০ কেজি করে সার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবে সমানভাবে কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। অনেক ছোট কৃষক দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরে গেছেন। সার মৌসুমে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পাওয়া গেলে জমির কাজ ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগও তাঁদের মধ্যে রয়েছে।

‘কুলাইতে না পাইরা কৃষি অফিসার আর বিএসকে অন্য মানুষের বাড়ির ঘরের ভিতর ঢুইকা দরজা দিয়ে জীবন রক্ষা করছে। না হইলে বিরাট সমস্যা হইতো। নিচে ছয়-সাতশো মানুষ ছিল। পরে ইউএনও সাহেব আইসা মাইকে কইল, “তোমরা এখন খুচরাভাবে সার পাবা—দুই জনে এক বস্তা।” কিন্তু সেদিনই টাকা ওয়ালা গৃহস্থরা টাকা দিয়ে একেকজন পাঁচ-সাত বস্তা করে সার পাইছে।’

প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক মোজাম্মেল হক এভাবেই ওই দিনের পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তাঁর বক্তব্যে সার বিতরণের অসাম্য নিয়ে কৃষকদের ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে বিক্ষোভের মধ্যে কারা হামলার উসকানি দিয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। উপস্থিত কয়েকজন কৃষকও বলেছেন, ভিড়ের মধ্য থেকে কিছু ব্যক্তি কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার দিকে হামলার জন্য অন্যদের উসকে দেন।

অজ্ঞাত আসামি থাকায় বাড়ছে উদ্বেগ

মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করায় স্থানীয় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তাঁদের অনেকে বলছেন, যাঁরা কোনো হামলায় অংশ নেননি, তাঁরাও এখন পুলিশের তৎপরতা নিয়ে আতঙ্কে আছেন। দিনের বেলায় কৃষিকাজ করলেও রাতে বাড়িতে না থাকার কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন।

‘এখন মামলা হইছে। গ্রামের কৃষকেরা ঘরে থাকতে পারতেছে না। গ্রেপ্তারের ভয়ে রাইতে পালায় থাকতেছে।’

মোজাম্মেল হক বলেন, মামলার পর গ্রামের পরিবেশ বদলে গেছে। গুনাইয়েরকুটি গ্রামের একজন কৃষক জানান, দুজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং প্রায় প্রতি রাতেই পুলিশ এলাকায় আসছে বলে তাঁদের মনে হচ্ছে।

‘দুইজনকে ধইরা নিয়া গেছে। প্রতি রাইতে পুলিশ আসতেছে। আমরা সারা দিন রইদে কাজ করি। রাইতে বাড়িতে ঘুমাইতে পারি না। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে রাত কাটাই।’

আরেক কৃষক রমজান আলী জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং কৃষি কর্মকর্তা ও বিএসকে সহায়তা করেছিলেন। তাঁর দাবি, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, তবে অজ্ঞাত আসামির কারণে নির্দোষ মানুষের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়েছে।

‘ঘটনার সময় আমি ছিলাম। কৃষি অফিসার আর বিএসকে সহযোগিতা করছি। যারা দোষ করছে, তাদের ধরলে ধরুক। কিন্তু অজ্ঞাত আসামি নিয়ে এখন সবার ভয়। পুলিশ কখন কাকে ধরে, তার ঠিক নাই।’

ভিডিও দেখে শনাক্তের কথা পুলিশের

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলাটি হয়েছে। এজাহারভুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।

নিরীহ কৃষকদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে যারা সত্যিই অপরাধে জড়িত ছিল, তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। তাঁর ভাষ্য, নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই এবং সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণও নেই।

সার বিতরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট এখন দুটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—প্রয়োজন অনুযায়ী সার পৌঁছাচ্ছে কি না এবং বিতরণ প্রক্রিয়ায় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে কি না। একই সঙ্গে হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্দোষ কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে। কৃষকদের দাবি ও প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া প্রয়োজন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স র র দ ব ত কর?

স র র দ ব ত কর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স র র দ ব ত কর matter?

স র র দ ব ত কর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.