Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

সাইবার সহিংসতার ৮০ অভিযোগের মধ্যে ৫৫টিই নারীদের

Published Oktober 1, 2026 · Updated Oktober 1, 2026 · By James Anderson - banglajibon.com

Foto : James Anderson - banglajibon.com

সাইবার সহিংসতার অভিযোগে নারীদের সংখ্যাই বেশি

Banglajibon.com – স ইব র সহ সত র ৮০ - ডিজিটাল পরিসরে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২১ মাসে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেনের (সিএসডব্লিউসি) কাছে আসা ৮০টি অভিযোগের মধ্যে ৫৫টিই করেছেন নারী ভুক্তভোগী। অভিযোগগুলোর ধরন বলছে, অনলাইনে ব্যক্তিগত মর্যাদা, পরিচয়, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নটি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অক্টোবরকে ‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ হিসেবে পালনের সময় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্ল্যাটফর্মটি এসব তথ্য তুলে ধরে। নারী ও শিশুদের লক্ষ্য করে সংঘটিত অনলাইন সহিংসতায় দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ, দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনমতো আইনি সহায়তার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

অভিযোগের ধরন ও ভুক্তভোগীদের চিত্র

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিএসডব্লিউসির ফেসবুক পেজে পাওয়া অভিযোগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয়ের অপব্যবহারের পাশাপাশি সাইবার সহিংসতার নানামুখী ঘটনা ঘটছে। মোট ৮০ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ৫৫ জন, পুরুষ ১২ জন এবং ১৩ জনের লিঙ্গ-পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত আবেদনকারীদের পাঁচজন নিজের জন্য নয়, বরং স্ত্রী, অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা, ভাগনি কিংবা অন্য নারী স্বজনের পক্ষে সহায়তা চেয়েছেন। এতে বোঝা যায়, সাইবার সহিংসতার ক্ষতি একজনের মধ্যে সীমিত থাকে না; পরিবারও এর মানসিক, সামাজিক ও আইনি চাপের মুখে পড়ে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ, ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খোলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিকৃত বা অশালীন ছবি তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া এবং অনলাইন ব্ল্যাকমেল। এসব ঘটনার অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে নীরব রাখা বা আরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা হয়।

সিএসডব্লিউসি মনে করছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং এআইনির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদাকে নতুন ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষত আপত্তিকর কনটেন্ট বা নকল পরিচয়ের ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

সহায়তা ও আইনি পথে অগ্রগতি

ভুক্তভোগীদের সহযোগিতায় ১৭টি ঘটনায় ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরানোর জন্য সরাসরি সহায়তা দিয়েছে সিএসডব্লিউসি। আরও ২১ জনকে আইনি সহায়তার জন্য বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে (ব্লাস্ট) পাঠানো হয়েছে। পাঁচজনকে স্টপএনসিআইআই ডট অর্গে এবং চারজনকে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ব্লাস্টের প্রধান কার্যালয়, শাখা ও হেল্পলাইনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত ২৫টি সাইবার-সম্পর্কিত আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারী। একই সময় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করতে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হয়। মামলাটি এখন সংশ্লিষ্ট আদালতে চলমান এবং সেখানে বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে ব্লাস্ট।

আইনি পরামর্শ, কনটেন্ট অপসারণের উদ্যোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রেফার করার ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ অনলাইন অপরাধে অনেকেই কোথায় যাবেন, কী প্রমাণ লাগবে বা কোন প্রতিষ্ঠান কোন সহায়তা দেয়—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পান না।

আইন সংশোধন নিয়ে তিন দাবি

‘সাইবার সচেতনতা মাস ২০২৬’ উপলক্ষে সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলেছে সিএসডব্লিউসি। প্রথমত, সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর প্রস্তাবিত সংশোধনীকে আইনে পরিণত করার আগে তা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, সংশোধনী নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের আগে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে অর্থবহ পরামর্শের উদ্যোগ চেয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় বাংলাদেশের দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সংশোধিত খসড়া প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মটির বক্তব্য, সংশোধিত আইনে সাইবার পরিসরের বিস্তৃত উদ্বেগগুলোর সমাধান এবং নাগরিকদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনলাইন নিরাপত্তার আইন কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি অভিযোগকারীর অধিকার, গোপনীয়তা এবং প্রতিকারের সুযোগও সমানভাবে বিবেচনায় রাখা জরুরি।

ভুক্তভোগীদের জন্য করণীয়

সাইবার সহিংসতার মুখে নীরব না থাকতে আহ্বান জানিয়েছে সিএসডব্লিউসি। এমন পরিস্থিতিতে স্ক্রিনশট, পোস্ট বা প্রোফাইলের লিংক এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্দেহজনক লিংক বা বার্তায় সতর্ক থাকা এবং সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার না করাও অনলাইন ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের তাঁদের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সাইবার সহিংসতার ঘটনায় প্রাসঙ্গিক ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত সহায়তা নেওয়া জরুরি।

ব্লাস্টের উদ্যোগে ১৭টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম। এর আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছে ব্লাস্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন বা সিক্যাফ এবং সদস্যসচিব নারীপক্ষ। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা রোধ, আইনি সহায়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is স ইব র সহ সত র ৮০?

স ইব র সহ সত র ৮০ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স ইব র সহ সত র ৮০ matter?

স ইব র সহ সত র ৮০ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.