শরীয়তপুর: সাব-রেজিস্ট্রার নেই দুই উপজেলায়, ভোগান্তি
শরীয়তপুর সদর ও ডামুড্যায় সাব-রেজিস্ট্রার সংকটে জমি নিবন্ধনে ধীরগতি
Banglajibon.com – শর য়তপ র - শরীয়তপুর সদর ও ডামুড্যা উপজেলায় দীর্ঘ দেড় বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রারের পদ খালি থাকায় জমি কেনাবেচা এবং দলিল নিবন্ধনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নিবন্ধন কার্যক্রম। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি দলিল লেখকদেরও প্রতিদিনের আয় কমে গেছে।
জমি বিক্রি বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দলিল নিবন্ধন একটি অপরিহার্য ধাপ। অনেকেই পারিবারিক প্রয়োজন, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত কিংবা জরুরি আর্থিক কারণে দ্রুত জমির লেনদেন সম্পন্ন করতে চান। কিন্তু নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে অতিরিক্ত দায়িত্বে আসা কর্মকর্তার নির্ধারিত দিনের জন্য।
সদরে সপ্তাহে দুই দিনের নিবন্ধন
শরীয়তপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে অন্য একটি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি সপ্তাহে দুই দিন সেখানে গিয়ে দলিল নিবন্ধন করেন। ফলে বাকি দিনগুলোতে সাধারণভাবে নতুন দলিল নিবন্ধনের সুযোগ থাকে না।
জেলা সদর হওয়ায় এ উপজেলায় জমি কেনাবেচার চাপ তুলনামূলক বেশি। নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার না থাকায় অনেকের কাজ সময়মতো শেষ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধনের দিনের অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে, যা লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. সাগির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অন্য উপজেলার একজন কর্মকর্তা সপ্তাহে দুদিন এসে নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে জমির ক্রেতা ও বিক্রেতারা সমস্যায় পড়ছেন, আর নিয়মিত কাজ না থাকায় দলিল লেখকেরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
“অন্য উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার সপ্তাহে দুই দিন এসে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি হচ্ছে। পাশাপাশি দলিল লেখকেরাও নিয়মিত কাজ করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
দলিল লেখকদের কাজ কেবল নিবন্ধনের দিনেই সীমিত নয়; দলিল প্রস্তুত, তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিবন্ধনের আগের নানা প্রস্তুতির সঙ্গেও তাঁদের কর্মজীবন যুক্ত। তবে নিবন্ধন দিনের সংখ্যা কমে গেলে এসব কাজের ধারাবাহিকতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সপ্তাহের অধিকাংশ সময় কাজের সুযোগ না থাকায় তাঁদের অনেকের আয় কমেছে।
সমিতির সাবেক সভাপতি মো. নুরুল হক মনে করেন, জেলা সদরের জমি লেনদেনের পরিমাণ বিবেচনায় সেখানে স্থায়ীভাবে একজন সাব-রেজিস্ট্রার থাকা জরুরি। দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকায় দলিল লেখকদের জন্য কাজের সংকটও বাড়ছে।
দলিল লেখক বাবুল বেপারী জানান, সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কাজের সুযোগ পাওয়ায় আগের মতো রোজগার হচ্ছে না। অন্য দিনগুলোতে অপেক্ষায় থাকতে হয়, ফলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে উঠছে।
“সপ্তাহে দুই দিন কাজ হওয়ায় আগের মতো আয় হচ্ছে না। বাকি দিনগুলোতে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে পরিবার নিয়ে চলতে কষ্ট হচ্ছে।”
ডামুড্যায় আরও সীমিত সেবা
ডামুড্যা উপজেলায়ও সাব-রেজিস্ট্রারের পদ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে খালি। সেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক আরও কঠিন, কারণ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা সপ্তাহে মাত্র এক দিন গিয়ে কাজ করেন। ফলে নিবন্ধনযোগ্য দলিলের চাপ একটি দিনের মধ্যে সামলাতে হচ্ছে।
ডামুড্যা উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পদটি শূন্য থাকায় জমি নিবন্ধন ও কেনাবেচার কাজে স্থানীয় মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সপ্তাহে এক দিনের সীমিত কার্যক্রমে অনেকের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।
“দেড় বছরের বেশি সময় ডামুড্যাতে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। সপ্তাহে মাত্র এক দিন অন্য উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।”
জমি লেনদেনের ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ক্রেতা ও বিক্রেতার পারস্পরিক সমঝোতা, অর্থের ব্যবস্থা, দলিলের প্রস্তুতি এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা একসঙ্গে সম্পন্ন হলেও নিবন্ধনের সুযোগ না মিললে পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়। নির্ধারিত দিনের বাইরে সেবা না পাওয়ায় ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নানা সিদ্ধান্তও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সদর ও ডামুড্যার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, শূন্য পদে দ্রুত নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে প্রতিদিনের নিবন্ধন কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, জমি লেনদেনে অপেক্ষা কমবে এবং দলিল লেখকদের কাজের ধারাবাহিকতাও ফিরবে।
শরীয়তপুরের জেলা রেজিস্ট্রার হেলেনা পারভীন বলেন, সদর ও ডামুড্যা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি এখন তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
“শরীয়তপুর সদর ও ডামুড্যায় সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শর য়তপ র?শর য়তপ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শর য়তপ র matter?শর য়তপ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.