Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর: মেঘনার নতুন চরও দখলের আশঙ্কা

Published Oktober 2, 2026 · Updated Oktober 2, 2026 · By Richard Smith - banglajibon.com

Foto : Richard Smith - banglajibon.com

কমলনগরে মেঘনার বুকে নতুন চর, জমি ফিরে পাওয়ার আশায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

Banglajibon.com – লক ষ ম প র র কমলনগর - লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ জগবন্ধু এলাকার মেঘনা নদীতে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বিস্তীর্ণ নতুন চর। উর্বর পলিমাটির ওপর ইতিমধ্যে সবুজ ঘাস জন্মেছে। দীর্ঘদিন নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানো মানুষদের কাছে এই চর নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে সেই সম্ভাবনার সঙ্গে তৈরি হয়েছে দখল নিয়ে উদ্বেগও। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকদের আশঙ্কা, আগের মতো এবারও স্থানীয় প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠী নতুন জেগে ওঠা জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।

মেঘনার ভাঙনে কমলনগরের বহু পরিবার বছরের পর বছর সর্বস্ব হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছেন ঘরবাড়ি, কেউ হারিয়েছেন চাষের জমি, আবার অনেকে নদীর তীরে টিকে থাকতে না পেরে অন্য এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। নদীতে বিলীন হওয়া ভূমির কিছু অংশে এখন চর জেগে ওঠায় পুরোনো মালিকেরা নিজেদের জমির অধিকার ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, নতুন জমির ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ বন্দোবস্তে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের স্বার্থ নিশ্চিত করা জরুরি।

দীর্ঘ ভাঙনের ক্ষত

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে অব্যাহত নদীভাঙনে কমলনগর উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা মেঘনার গর্ভে চলে গেছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের দিকে চর কালকিনি এবং সাহেবেরহাট ইউনিয়নের বড় অংশ নদীতে হারিয়ে যায়। একইভাবে চর ফলকন, পাটওয়ারীর হাট ও চর লরেন্স ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে।

এই ভাঙন শুধু জমির সীমানা বদলায়নি; মানুষের জীবন-জীবিকাতেও বড় প্রভাব ফেলেছে। কৃষিনির্ভর বহু পরিবারের আয়ের উৎস হারিয়েছে, ভিটেমাটি ছেড়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নতুন করে জীবন শুরু করতে হয়েছে। তাই নদীর বুক থেকে পুনরায় জেগে ওঠা চরকে তারা কেবল নতুন ভূখণ্ড হিসেবে নয়, হারানো জীবনের একটি সম্ভাব্য পুনরুদ্ধার হিসেবেও দেখছেন।

আগের চর নিয়ে দখলের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কটোরিয়া ও কাঁকড়ার চর এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে জেগে ওঠা প্রায় ৬০০ একর জমি স্থানীয় প্রভাবশালী ‘মাতব্বর’ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই চরটি ভোলার চরফ্যাশনের বাসিন্দা সকেট জামালের কাছে এক বছরের জন্য ৩৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এবার দক্ষিণ জগবন্ধু সীমানার নতুন চর নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন জমি হারানো লোকজন। তাঁদের দাবি, ওই চরে মাতব্বর গোষ্ঠীর বৈধ মালিকানা নেই। তা সত্ত্বেও গোষ্ঠীটি জমি নিজেদের দখলে আনতে তৎপর বলে অভিযোগ তাঁদের। নতুন চর পুরোপুরি জেগে ওঠার আগেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা আবারও বঞ্চিত হতে পারেন বলে তাঁরা মনে করছেন।

নিজেদের দাবি সংগঠিত করতে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমিমালিকেরা গঠন করেছেন ‘চর জগবন্ধু, ফলকন ও পাটওয়ারীর হাট ভূমিমালিক ঐক্য পরিষদ’। সংগঠনটির উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্তদের একত্র করা, নতুন চরের বিষয়ে তাঁদের দাবি তুলে ধরা এবং শান্তিপূর্ণ চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

“সাহেবেরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ জগবন্ধুর নিজস্ব সীমানায় নতুন এই চর জেগে উঠেছে। এতে মাতব্বরদের কোনো জমি নেই। প্রকৃত ভূমিমালিকেরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ করতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টা করছি।”

দক্ষিণ জগবন্ধু ভূমিমালিক সমিতির সভাপতি জহির উদ্দিন রিয়াজ এ কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, নদীতে হারানো এলাকার সীমানা ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন চরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

“ভাঙনের শিকার জগবন্ধু, ফলকন ও পাটওয়ারীর হাটের ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। কিন্তু একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী জমিগুলো জোরপূর্বক ভোগদখলের চেষ্টা করছে বলে আমরা জানতে পারছি।”

পাটওয়ারীর হাট ইউনিয়নের ভূমিমালিক সমিতির নেতা জাহাঙ্গীর মেম্বার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ। জমি নিয়ে বিরোধ যেন উত্তেজনায় না গড়ায়, সেদিকেও তাঁদের নজর রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, অস্বীকার মাতব্বর গোষ্ঠীর

সাহেবেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদের অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে মাতব্বরেরা একটি চর দখল করে লাভবান হয়েছে। তাঁর দাবি, দক্ষিণ জগবন্ধুর নতুন চরেও প্রকৃত ভূমিমালিকদের বাদ দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

তবে অভিযোগগুলো মানতে নারাজ মাতব্বর বংশের পক্ষে খোকন মাতব্বর। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের নিয়ন্ত্রণে থাকা চরটি তাঁদের পূর্বপুরুষ ও স্বজনদের চাষের জমির সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন জেগে ওঠা চরের জায়গায় তাঁদের বসতবাড়ি ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

“এককভাবে যে চরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেটি আমাদের পূর্বপুরুষ ও আত্মীয়স্বজনের চাষাবাদের জমি। নতুন করে জেগে ওঠা চরটিতে আমাদের বসতবাড়ি ছিল। তাই ওই চরে আমাদের দাবি থাকাটা স্বাভাবিক।”

৩৪ লাখ টাকায় চর ইজারা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে খোকন মাতব্বর বলেন, সেখানে অন্য কারও জমি নেই বলেই তাঁরা নিজেদের বিষয় নিজেরা দেখছেন।

“সেখানে অন্য কারও জমি নেই। তাই সেখানে আমরা যা করি, তা আমাদের নিজস্ব বিষয়।”

জরিপের পর হবে বন্দোবস্ত

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চরটি সম্পূর্ণভাবে জেগে ওঠার পর এর জরিপ করা হবে। এরপর প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান জানিয়েছেন, জরিপ ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চরের ওপর মালিকানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

“চর পুরোপুরি জেগে উঠলে জরিপ পরিচালনা করা হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী তা বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। এর আগে চরের ওপর কারও মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

নতুন চরের জমি নিয়ে বিরোধের প্রশ্নে প্রশাসনিক জরিপ, সীমানা নির্ধারণ এবং নিয়মমাফিক বন্দোবস্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে তাঁদের হারানো জমি ও জীবিকার বাস্তবতা গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে দখলসংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি না হলে মেঘনার নতুন চর ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is লক ষ ম প র র কমলনগর?

লক ষ ম প র র কমলনগর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does লক ষ ম প র র কমলনগর matter?

লক ষ ম প র র কমলনগর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.