রায়পুরার মির্জানগর: ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের স্থান নিয়ে আপত্তি
মির্জানগরে ইউপি ভবন নির্মাণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট
Banglajibon.com – র য়প র র ম র জ - নরসিংদীর রাঘুপুরা উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন পুরোনো এলাকার পরিবর্তে চেয়ারম্যানের বাসভবনের কাছাকাছি নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ওই এলাকার এক জমিদানকারী। তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন নিজের সুবিধার জন্য ভবন নির্মাণের স্থান পরিবর্তন করছেন। সরকারি পরিপত্র এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনিক সুপারিশের সাথে এই স্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও জমি দান
১৯৬৪ সালে উত্তর মির্জানগর মৌজার সাবেক ১৫৫৩ নম্বর দাগে ইয়াকুব আলী ১০ শতাংশ জমি দান করেন ইউপি ভবনের জন্য। পরবর্তীতে ওই জমিতে সরকার একতলা ভবন নির্মাণ করে। বর্তমানে ওই ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, তাই নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, পুরোনো ভবনের পাশের প্রায় ৫০ শতাংশ জমিও নতুন ইউপি কমপ্লেক্সের জন্য দান করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পুরোনো পরিষদ ভবন থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাঙ্গালীনগর মৌজায় নতুন ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছেন। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ১ হাজার ২৮৩ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যে ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনিক সুপারিশ ও জটিলতা
২০০৭ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আলম নতুন ভবনের জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। তিনি পুরোনো ভবনের জমিটি উপযুক্ত বলে সুপারিশ করেন। একই সময়ে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জমিটি নিষ্কণ্টক বলে প্রত্যয়ন দেন। পরে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জিন্নুল বারী দুটি স্থান পরিদর্শন করে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পুরোনো ভবনের স্থানটিকে অগ্রাধিকারযোগ্য বলে মতামত দেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৭ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. জিল্লার রহমান স্থানীয় সরকার বিভাগে পুরোনো ভবনের স্থানে নতুন ইউপি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের সুপারিশসহ প্রস্তাব পাঠান। তবে ২০১১ সালে দুই স্থানের জটিলতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কমিটি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে ইউপি কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাইকোর্টে রিট ও আইনজীবীর বক্তব্য
হাইকোর্টে রিটকারী ও পুরোনো ভবন এলাকার জমিদাতা আজিজুল হক বলেন,
মির্জানগর ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে বর্তমান পরিষদ ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু চেয়ারম্যান নিজের সুবিধার জন্য অন্য এলাকায় ভবন নির্মাণ করছেন। আমার পরিবার ইউপি ভবনের জন্য ৬০ শতাংশ জায়গা দিয়েছে। বিদ্যমান স্থানে ভবন নির্মাণ না হলে আমাদের জমি ফেরত দেওয়া হোক।
হাইকোর্টের আইনজীবী কে এম সামসাদ বলেন,
গত ২৭ জুলাই আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন। বিদ্যমান স্থানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ না করে অন্যত্র নির্মাণ করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের বক্তব্য
ইউপি চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিন রিপন সরকার বলেন,
২০১১ সালে দুই স্থানের জটিলতা নিরসনের জন্য স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও জনবান্ধব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আমি ২০২১ সালে চেয়ারম্যান হওয়ার পর দৌড়াদৌড়ি করে ভবনটির অনুমোদন আনতে সক্ষম হয়েছি। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। তবে আদালতের বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাইনি।
এ বিষয়ে রাঘুপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন,
এ বিষয়ে এখনো আমরা কোনো চিঠি পাইনি।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is র য়প র র ম র জ?র য়প র র ম র জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does র য়প র র ম র জ matter?র য়প র র ম র জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.