Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

রাউজানে দুই বছরে ২৭ খুন

Published September 6, 2026 · Updated September 6, 2026 · By James Anderson - banglajibon.com

Foto : James Anderson - banglajibon.com

রাউজান দুই বছরে ২৭ খুন: কিলার নেটওয়ার্ক ও অচল ন্যায়বিচার

Banglajibon.com – র উজ ন দ ই বছর ২৭ - চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় গত রাতে আবার এক যুবদল কর্মীর শরীরে গুলি ও কুপার আঘাতের সংবাদ। ৩ সেপ্টেম্বর রাতের এই ঘটনায় মোহাম্মদ করিমের জীবন শেষ। এটি রাউজান দুই বছর ধরে চলমান হত্যার ধারার ২৭তম অধ্যায়। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্টে শ্রমিক লীগ নেতা আবদুল মান্নানকে হত্যার মাধ্যমে যে রক্তপাতের সূচনা হয়েছিল, তা আজও থামেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হত্যার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসের তিনটি স্তম্ভ পরস্পর জড়িত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও শিকারের প্যাটার্ন

২৭ জন নিহতের মধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চিহ্নিত। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এ বি এম ফজলে করিমের খামারবাড়ির কর্মচারী থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী পর্যন্ত—শিকারের তালিকা এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর প্রায় প্রতিটি স্তর ছুঁয়ে গেছে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এই ২৭টি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে একজনের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

আবদুল মান্নানের পরপরই শিকারে পরিণত হন: মুহাম্মদ ইউসুফ মিঠা, মুহাম্মদ আজম খান, আবু তাহের, জাহাঙ্গীর আলম, মুহাম্মদ হাসান, কমর উদ্দিন জিতু, মো. রুবেল, নুর আলম বকুল, মো. জাফর, মানিক আবদুল্লাহ, মো. ইব্রাহিম, রূপন নাথ, মো. আলমগীর, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম রিংকু, আবদুল হাকিম, আলমগীর আলম ওরফে আলম, জানে আলম সিকদার, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওরফে রিহাদ, আবদুল মুজিব ওরফে মুজিব ভান্ডারি, কাউসার উজ জামান বাবলু, মো. নাছির তালুকদার ওরফে মধু নাছির, মাকসুদুল হক চৌধুরী ওরফে মাসুদ, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান সওদাগর এবং সর্বশেষ মোহাম্মদ করিম।

কিলার নেটওয়ার্ক: নেতৃত্ব, গ্রেপ্তার ও অধরা

এই হত্যাযজ্ঞের পেছনে হুকুমদাতা হিসেবে চিহ্নিত ভারতের পাঞ্জাবে অবস্থানকারী একসময়ের ক্যাডার সাজ্জাদ হোসেন খান ওরফে বি সাজ্জাদ। তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত আরও কয়েকজন: মো. ইলিয়াস ওরফে ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, মোহাম্মদ আবছার মিঠা, মোহাম্মদ রাহমান (বাহিনী প্রধান), মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ জাহেদ, মোহাম্মদ মোবারক, মোহাম্মদ আইনুব, ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ মোবারক ওরফে কালা মোবারক।

দলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কিলার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন মোহাম্মদ রাহমান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডেভিড ইমন, কালা মোবারক, ধামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার ও মোহাম্মদ আবছার মিঠাকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু রাহমান এখনো অধরা। ৩ সেপ্টেম্বর করিম হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা পর হাতে নাইন এমএম পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমের স্টোরিতে ছড়িয়ে দেন রাহমান। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আপলোড করা এই ভিডিওকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের দাবি বনাম মাঠপরিস্থিতি

পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সব কটি হত্যাকাণ্ডে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে এবং সম্প্রতি কয়েকজন দুর্ধর্ষ অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রাহমানসহ অন্য জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানানো হয়।

তবে মাঠপরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনামাফিক নৃশংস কাণ্ড ঘটাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা আগাম তথ্য পায় না। উন্মুক্তভাবে খুন ঘটলেও সাধারণ মানুষ সাহস করে তাদের থামাতে পারে না। ফলে কিলাররা খুনের পর নিজেদের ডেরায় ফিরে যেতে সক্ষম হয় প্রতিবারই। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী ও ফটিকছড়ির গহিন পাহাড়ি এলাকা সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন:

রাউজানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। কিলারদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুর্ধর্ষ কয়েকজন কিলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ কি পেরে উঠছে না—এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দেন:

এটা ঠিক নয়। পুলিশও পুলিশের মতো কাজ করছে। আশা কর

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is র উজ ন দ ই বছর ২৭?

র উজ ন দ ই বছর ২৭ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র উজ ন দ ই বছর ২৭ matter?

র উজ ন দ ই বছর ২৭ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.