Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ময়মনসিংহ অঞ্চল: স্বস্তির ট্রেনযাত্রায় এখন ভোগান্তি-মৃত্যুঝুঁকি

Published Agustus 31, 2026 · Updated Agustus 31, 2026 · By Michael Williams - banglajibon.com

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

ময়মনসিংহ রেলপথে জরাজীর্ণ অবকাঠামো: যাত্রীর নিরাপত্তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ

Banglajibon.com – ময়মনস হ অঞ চল - বাংলাদেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ-ঢাকা, জামালপুর, মোহনগঞ্জ, ঝারিয়া, কিশোরগঞ্জ ও চট্টগ্রাম রেলপথ দশক ধরে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। তবে এই পথগুলোর বেশিরভাগ লাইন এখন ৭০ বছর বা তারও বেশি পুরোনো। চাহিদার তুলনায় ইঞ্জিন ও কোচের সংখ্যা অপর্যাপ্ত, আর যা আছে তার বেশিরভাগই জরাজীর্ণ অবস্থায় চলাচল করছে। ফলে একসময় নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ট্রেন এখন যাত্রীদের কাছে ভোগান্তি ও প্রাণঝুঁকির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত তিন মাসের ভয়াবহ পরিসংখ্যান

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথে গত তিন মাসে পাঁচটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে ইঞ্জিন বিকল, আগুন, বগি-ইঞ্জিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও লাইনচ্যুতিসহ অন্তত ২২টি ভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এপ্রিলে ছয়টি, মেতে আটটি এবং জুনে তিনটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়েছে। এই ধরনের ঘটনাগুলো এখন আর বিরল নয়—বরং নিয়মিত অংশ হয়ে গেছে এই রুটের দৈনন্দিন চিত্রের।

সর্বশেষ ঘটনাসমূহ

২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ময়মনসিংহ নগরের নতুন বাজার এলাকায় ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে থেমে যায়। ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা এতটাইন দুর্বল হয়ে পড়েছে যে সামান্য ত্রুটিতেই ট্রেন থেমে যায়। পরে বিকল্প ইঞ্জিন সংযোগের মাধ্যমে তিস্তা এক্সপ্রেসকে ময়মনসিংহ স্টেশনে আনা হয় এবং রুটে চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে ২২ আগস্ট সকাল আটটার দিকে ঢাকা থেকে আসা দেওঘাণগঞ্জ কমিউটার গফরগাঁও স্টেশনে পৌঁছালে ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। চালক, পরিচালক ও রেলওয়ে কর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রুটি দূর করা হয়। ১৫ আগস্ট দুপুরে গফরগাঁও উপজেলায় অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয়। ৭ আগস্ট গফরগাঁও স্টেশনের কাছে জামালপুর কমিউটারের পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়, যার ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে সাত ঘণ্টা চলাচল বন্ধ থাকে।

১৬ জুলাই একই রুটে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। ১০ জুন ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ রেলক্রসিং এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাশের কার লাইনচ্যুত হলে উদ্ধারকারী ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়। ১৫ জুন গফরগাঁওয়ে জামালপুর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ও বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। একই দিন আঠারোবাড়িতে বিজয় এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনে আগুন লাগে এবং বিকল্প ইঞ্জিনও বিকল হয়। ১৩ জুন ময়মনসিংহ স্টেশনে তিস্তা এক্সপ্রেসের এসি কোচে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

অবকাঠামোর ধ্বংসাত্মক অবস্থা

রেলপথ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের বিভিন্ন স্থানে স্লিপারের সঙ্গে লাইন সংযুক্ত রাখা ফাস্টেনিং ক্লিপ ভাঙা বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। কোথাও কোথাও ক্ষয়প্রাপ্ত স্লিপার, দুর্বল বেস প্লেট ও সংযোগস্থল চোখে পড়ে। এসব ত্রুটি দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে ট্র্যাকের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় এবং লাইনচ্যুতির ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। পাশাপাশি পুরোনো ট্র্যাক, দুর্বল ব্যালাস্ট, বসে যাওয়া লাইন এবং সেতুর উভয় পাশের মাটি ধসে পড়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।

এই রুটে বর্তমানে ১৮ জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও ইঞ্জিন ও কোচ সংকটের কারণে কয়েকটি মেইল ও লোকাল ট্রেন বন্ধ আছে। অসংখ্য অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিং, গেটম্যান সংকট এবং দুর্বল সিগন্যালিং ব্যবস্থাও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের স্বীকারোক্তি

ময়মনসিংহ লোকোশেডের পরিদর্শক শফিউল হাসান জানান, অনেক পুরোনো ইঞ্জিন পূর্ণাঙ্গ মেরামতের আগেই চলাচলে নামাতে হচ্ছে, ফলে বিকলের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

এই রুটের অধিকাংশ ইঞ্জিন মেয়াদোত্তীর্ণ। নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের পাশাপাশি শ্রীপুর থেকে ময়মনসিংহ হয়ে বিদ্যাগঞ্জ, গৌরীপুর, আঠারোবাড়ি, মোহনগঞ্জ ও ঝারিয়া পর্যন্ত রেলপথ দ্রুত সংস্কার জরুরি। পাথরের ঘাটতির কারণে ট্র্যাক দুর্বল হয়ে পড়েছে।

উক্ত মন্তব্য দেন রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান।

যাত্রীদের দাবি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি

বারবার দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কার্যকর পরিবর্তন না হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের দাবি স্পষ্ট: ঝুঁকিপূর্ণ ট্র্যাকের সংস্কার, ভাঙা ফাস্টেনিং ক্লিপ ও স্লিপারের প্রতিস্থাপন, নতুন ইঞ্জিন সংযোজন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথকে নিরাপদ করা।

ময়মনসিংহ অঞ্চল দেশের কৃষি ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই রুটের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজারো কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও কর্মী যাতায়াত করেন। অবকাঠামোর এই অবহেলা শুধু যাত্রীদের প্রাণঝুঁকিই নয়—সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যকলাপকেও বিপর্যস্ত করছে। যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আরও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ময়মনস হ অঞ চল?

ময়মনস হ অঞ চল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ময়মনস হ অঞ চল matter?

ময়মনস হ অঞ চল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.