Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

মা-বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল দেবাশীষের মেয়ে মহিমা

Published Agustus 20, 2026 · Updated Agustus 20, 2026 · By James Anderson - banglajibon.com

Foto : James Anderson - banglajibon.com

সাত বছরের মহিমার অপেক্ষায় এখনো জমিয়ে আছে জামা আর চকলেটের কথা

Banglajibon.com – ম ব ব র ফ র আস - কুষ্টিয়া শহরের এডুকেশন স্কুলের কেজি শ্রেণিতে পড়ছে ছোট মহিমা দত্ত। বুধবার বিকেলে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় মেয়েটির সঙ্গে। শোকের গভীরতা এখনো তার বয়সে ধরা পড়েনি। তার মনে শুধু একটুকু জায়গা পেয়ে আছে—বাবা তার জন্য জামা আর চকলেট কিনেছেন, সকালে দেশে ফিরেই সেগুলো হাতে দেবেন।

কিন্তু সেই সকাল আর আসবে না। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেল শিখা ইনে ভাঙাবহ অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন—চারজনই কফিনবন্দী হয়ে যান। জীবিত কেউ নেই।

শেষ ফোনে যা বলা হয়েছিল

মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে বৃদ্ধ বাবা দিলীপ দত্তের সঙ্গে মহিমার শেষবারের মতো কথা হয়। দেবাশীষ ফোনে মেয়েকে জানিয়েছিলেন, তার জন্য জামা ও চকলেট কিনেছেন। আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে দেশে ফিরবেন বলেছিলেন।

বাবা বলেছিলেন, তার জন্য জামা ও চকলেট কিনেছেন। আজ বুধবার দুপুরের মধ্যে দেশে ফিরবেন।

এই কথাগুলোই এখন মহিমার মনে জমিয়ে আছে। মা-বাবা ও ছোট ভাই বুধবার না এলেও দু-এক দিন পর দেশে ফিরবেন ঠিকই—তবে জীবিত নয়।

ভারতযাত্রার পেছনের কাহিনি

দিলীপ দত্ত জানান, চলতি মাসের ৩ তারিখে ছেলে, পুত্রবধূ ও ছোট নাতিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তিনি। পরদিন ৪ আগস্ট বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নিতে যান তাঁরা। সেখানে চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন। বুধবার সকালে দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই ঘটায় মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড।

দিলীপ দত্ত আরও জানান, পরিবারের ভারতে যাওয়ার কয়েক দিন পর দেবাশীষের শ্বশুরও চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তাঁরও একই সঙ্গে দেশে ফেরার কথা ছিল।

কুষ্টিয়ায় নেমে আসা শোক

আউয়াপাড়া দেবাশীষের বাসায় এখন শোকের ছায়া। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নার ভারী শব্দে পরিবেশ ভরে গেছে। ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন দেবাশীষের মা স্বপ্না datta। শোকাবহ পরিবেশে নির্বাক হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা।

দেবাশীষ ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁর ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার। কর্মজীবনে সাংবাদিকতার পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বও সামলাতেন তিনি।

শূন্য চেয়ার, শূন্য পরিবার

কুষ্টিয়ার এনএস রোডের আলো ভবনে দেবাশীষের অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর ব্যবহৃত চশমাটি ঠিক আগের মতোই পড়ে আছে। পাশে রাখা ল্যাপটপ—যে ল্যাপটপে প্রতিদিন লেখা হতো কুষ্টিয়ার মানুষের অসহায়ত্ব, সম্ভাবনা, সংকট ও স্বপ্নের গল্প। যে চেয়ারে বসে দিনের পর দিন মানুষের কথা লিখেছেন, সেই চেয়ার আজ শূন্য।

শুধু অফিসের চেয়ার নয়, শূন্য হয়ে গেছে একটি পরিবারও। আর বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকা ছোট্ট মহিমার কাছে সেই শূন্যতা ধীরে ধীরে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। মা-বাবা ও ছোট ভাই ফিরবেন—কিন্তু মহিমাকে আর কখনো জড়িয়ে ধরে বলবেন না, 'তোমার জন্য জামা আর চকলেট এনেছি।'

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ম ব ব র ফ র আস?

ম ব ব র ফ র আস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ম ব ব র ফ র আস matter?

ম ব ব র ফ র আস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.