Bangladesh

মানিকছড়িতে সংগৃহীত চামড়া নিয়ে বিপাকে মাদ্রাসাগুলো

মানিকছড়িতে সংগৃহীত চামড়া নিয়ে বিপাকে মাদ্রাসাগুলো

ম ন কছড় ত স গ হ – মানিকছড়ি উপজেলার মাদ্রাসাগুলো কোরবানির পশু চামড়া নিয়ে গুরুতর সমস্যায় পড়েছে। সরকারি কর্তৃপক্ষের বিনা মূল্যে সরবরাহ করা লবণ ব্যবহার করে চামড়া সংরক্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে পাইকার বা ট্যানারি সংশ্লিষ্ট কোনো ক্রেতাই চামড়া ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে না। ফলে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা কর্মসংস্থান এবং উপকরণ অভাবের কারণে আরও জটিল হয়ে আসছে।

প্রশাসন কর্তৃক সরবরাহ লবণ এবং মাদ্রাসার প্রতিক্রিয়া

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার কোরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণে সরকারিভাবে এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট চারটি মাদ্রাসাকে তিন টন লবণ সরবরাহ করা হয়েছে। এরপর ওই মাদ্রাসার লোকজন চামড়া সংগ্রহ করছে, কিন্তু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এখন এতিম শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং চামড়া বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সঞ্চিত চামড়া ও কর্মসংস্থান আঘাত

গত মৌসুমে সংগৃহীত প্রায় ৭০টি চামড়া এখনো অবিক্রীত আছে। এবার সরকার থেকে বিনা মূল্যে লবণ পেয়ে ৩৭টি চামড়া সংগ্রহ করেছে মাদ্রাসার পরিচালক। কিন্তু পাইকার ও ট্যানারির কারও আগ্রহ না পাওয়ায় চামড়া বিক্রির সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এ কারণে মাদ্রাসাগুলো চামড়া সংরক্ষণের কাজ শুরু করেছে, যে কাজটি তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার পরিচয়।

উপজেলার ডাইনছড়ি বাজার পুরোনো মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম মাওলানা জাফর আহমেদ বলেন, কোরবানির চামড়া থেকে মোটাদাগে আয় হতে পারে। কিন্তু বিগত দেড় দশকের মতো এখন চামড়া শিল্প ধ্বংস হতে চলছে। ফলে কওমি মাদ্রাসাগুলোতে এ প্রক্রিয়া নিয়ে বিপাক ছাড়া থাকে না।

মানিকছড়ি উপজেলা সদরের দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা ফজলুল হক বলেন, প্রায় আড়াই শ চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কোনো পাইকার বা ট্যানারির কারও সাড়াশব্দ পাচ্ছেন না। এ কারণে চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলার পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

গতকাল রাতে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ভিডিও প্রকাশ করে গচ্ছাবিল জামতলার মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন বিন সুরুজ বলেন, বিগত সময়ের মতো সরকার চামড়া শিল্প নিয়ে তামাশা করছেন। মাদ্রাসাগুলো এখন আরও নিরুপায় হয়ে আছে, কারণ চামড়া সংগৃহীত হলেও কোনো ব্যবসায়ী বা পাইকার আগ্রহ প্রকাশ করছে না।

এ বিষয়ে এতিমখানা-সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর কর্মকর্তারা দাবি জানাচ্ছেন যে, কওমি মাদ্রাসাগুলো কোরবানি চামড়া থেকে আয়ের উৎস হিসেবে তাদের প্রতিক্রমণ করে। কিন্তু চামড়া বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক এবং সরবরাহকারী কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার চামড়া শিল্প নিয়ে আন্তরিক হবে।

Leave a Comment