Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বিরামপুরে ২৮ ভারতীয়কে পুশ ইনের চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ

Published September 7, 2026 · Updated September 7, 2026 · By Matthew Wilson - banglajibon.com

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

বিরামপুর সীমান্তে রাতের অন্ধকারে ২৮ ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলার চেষ্টা, বিজিবি-গ্রামবাসীর যৌথ প্রতিরোধে ব্যর্থ বিএসএফ

Banglajibon.com – ব র মপ র ২৮ ভ রত - দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি নির্জন পিলারের কাছে গত রোববার রাতের গভীর অন্ধকারে একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা প্রায় ২৮ জন ভারতীয় নাগরিককে জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে সীমান্তপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে আশপাশের গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে বিএসএফকে ওই নাগরিকদের আবার ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়।

ঘটনার সময়-স্থান ও প্রাথমিক বিবরণ

ঘটনার স্থান ছিল কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির গোবিন্দপুর সীমান্ত, পিলার নম্বর ২৮৯/৪৬-এর সংলগ্ন এলাকা। রাত প্রায় ১১টার দিকে বিএসএফের একটি দল ভারতপাশের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে একদল ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে ঠেলতে শুরু করে। সীমান্তের শূন্যরেখার খুব কাছে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই ধরনের চাপা-চাপা নড়াচড়া প্রথমবারের মতো টের পান মাঠে অবস্থানকারী জাহেনুর নামে এক গ্রামবাসী। তিনি চিৎকার করে আশপাশের সবাইকে সতর্ক করেন। সেই ডাকের পর পোস্টের বিজিবি সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে ছুটে আসেন, আর আশেপাশের গ্রামের লোকজনও দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন।

দুইবার চেষ্টা, দুইবার ব্যর্থতা

স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলীর বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কিছু সময় পর বিএসএফ সদস্যরা পাশের আরেকটি পয়েন্ট দিয়ে একই কাজের পুনরায় চেষ্টা চালায়। কিন্তু সেখানেও গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। রাত প্রায় ১টার দিকে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের উপস্থিতিতে ওই ২৮ জনকে আবার ভারতের কাঁটাতারের ভেতরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম জানান, বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৮ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশ ইনের জন্য আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী ছিলেন।

গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা

এই ঘটনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো স্থানীয় গ্রামবাসীর সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত ভূমিকা। বিজিবি পোস্টের সদস্যরা যখন দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন গ্রামের পুরুষ-নারীরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে সীমান্তবর্তী সকল পথ ও পয়েন্টে পাহারায় অবতীর্ণ হন। নারীদেরও এই পাহারায় অংশ নেওয়া দেখা গেছে। এটি সীমান্তবাসী জনগণের নিজেদের ভূমি ও নিরাপত্তার প্রতি যে সচেতনতা জন্ম নিয়েছে, তার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।

বিজিবি ও পুলিশের বিবৃতি

দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,

পুশ ইনের চেষ্টা আমরা সফলভাবে প্রতিহত করেছি। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীও নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন। পুশ ইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

পটভূমি ও পরবর্তী পরিস্থিতি

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোর করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলার ঘটনা নতুন নয়। বিশেষত দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা ও বগুড়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের পুশ ইন চেষ্টা সময়-সময়ে ঘটে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, বিএসএফ নিয়মিত ভারতপাশের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে থেকেই এই চাপ দেয়, যা সীমান্তবাসীদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

গত রোববারের ঘটনার পর থেকে গোবিন্দপুর ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিএসএফের পুনরায় অনুপ্রবেশ চেষ্টার শঙ্কায় বিজিবি টহল বাড়িয়েছে। পাশাপাশি গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাহারার উদ্যোগ নিয়েছে। রাতের অন্ধকারে সীমান্তবর্তী পথগুলোতে গ্রামের লোকজনের উপস্থিতি এখন নিয়মিত দৃশ্য।

বিরামপুর উপজেলা দিনাজপুর জেলার সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্তসংলগ্ন এলাকাগুলোর একটি। এখানে হাজারো পরিবার শূন্যরেখার কয়েকশো মিটারের মধ্যে বসবাস করে। তাদের জন্য সীমান্তের প্রতিটি নড়াচড়া সরাসরি নিরাপত্তা-সমস্যা। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের জন্য এই এলাকায় নিয়মিত নজরদারি, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশ ইন চেষ্টার বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এখন অপরিহার্য।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ব র মপ র ২৮ ভ রত?

ব র মপ র ২৮ ভ রত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ব র মপ র ২৮ ভ রত matter?

ব র মপ র ২৮ ভ রত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.