Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

বরাদ্দের চাল কম দামে ক্রয় প্রভাবশালী চক্রের

Published Oktober 16, 2026 · Updated Oktober 16, 2026 · By Mary Taylor - banglajibon.com

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

সাভার-আশুলিয়ায় দুর্গাপূজার চাল বরাদ্দ কম দামে বিক্রির অভিযোগ

Banglajibon.com – বর দ দ র চ ল কম - দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকার এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ বাড়ালেও সাভার ও আশুলিয়ার অনেক মণ্ডপ সেই সুবিধার পুরো মূল্য পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ৬০০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বহু পূজারি ও মণ্ডপ প্রতিনিধি বরাদ্দপত্র বিক্রি করে বাজারদামের তুলনায় অনেক কম টাকা নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে গত বছরের ৫০০ কেজির পরিবর্তে এবার প্রতি মণ্ডপে ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশুলিয়ার শতাধিক মণ্ডপে এই বরাদ্দের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ হাজার টাকা। হিসাব করলে প্রতি কেজি চালের জন্য তাঁরা পেয়েছেন প্রায় ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সা। অথচ বাজারে চালের ন্যূনতম মূল্য ৫০ টাকা ধরা হলেও ৬০০ কেজি চালের দাম দাঁড়ানোর কথা প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

২৩৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সাভার ও আশুলিয়া মিলিয়ে ২৩৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এসব মণ্ডপের জন্য বরাদ্দ করা চাল ধর্মীয় আয়োজনের ব্যয় সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হওয়ার কথা। অনেক মণ্ডপে পূজার বিভিন্ন আনুষঙ্গিক খরচ, নিরাপত্তা, সাজসজ্জা ও দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনার চাপ থাকে। ফলে বরাদ্দের প্রকৃত মূল্য না পাওয়া গেলে আয়োজকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়।

আশুলিয়ার কয়েকটি মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বরাদ্দপত্র পাওয়ার পরই কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে প্রতি মণ্ডপের ৬০০ কেজি চালের বরাদ্দপত্রের বিনিময়ে প্রতিনিধিদের হাতে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহের আগেই বরাদ্দপত্রগুলো কম দামে কিনে নেয় একটি চক্র।

ফলে মণ্ডপ প্রতিনিধিরা সরাসরি চাল গ্রহণ, বিক্রি অথবা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। বরাদ্দের চাল হাতে পেলে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ বাজারদর বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে পারত; কিন্তু বরাদ্দপত্র নেওয়ার পরই নির্ধারিত অঙ্কের টাকা দেওয়ায় সেই সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

সাভারে কিছুটা বেশি, তবু বাজারদামের নিচে

সাভার পৌর এলাকা ও আশপাশের প্রায় ১০০টি মণ্ডপের চাল এক ব্যবসায়ী কিনে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব মণ্ডপকে প্রতি ৬০০ কেজি চালের বিপরীতে ২১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। পূজারিদের অনুরোধেই তিনি চাল কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

আশুলিয়ার মণ্ডপগুলোর চেয়ে সাভার এলাকার কিছু মণ্ডপ বেশি টাকা পেলেও সেটিও সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম। ন্যূনতম ৫০ টাকা কেজি দরে ৬০০ কেজি চালের মূল্য ৩০ হাজার টাকা হওয়ার কথা। সে হিসাবে ২১ হাজার ৫০০ টাকা পেলেও মণ্ডপপ্রতি প্রায় ৮ হাজার ৫০০ টাকার ব্যবধান থেকে যায়। আশুলিয়ার ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান আরও বেশি, প্রায় ১০ হাজার টাকা।

গত বছর প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ ছিল। সে সময় কেজিপ্রতি ৪০ টাকা ধরে মণ্ডপগুলোকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পূজারিরা জানিয়েছেন। এবার বরাদ্দে আরও ১০০ কেজি চাল যুক্ত হলেও আশুলিয়ার বহু মণ্ডপ আগের বছরের সমান ২০ হাজার টাকাই পেয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও অর্থমূল্য না বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আয়োজকেরা।

নগদ সহায়তার দাবি

আগামী বছর থেকে চালের বদলে সরাসরি নগদ অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ঢাকা জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্মরণ সাহা। তাঁর বক্তব্য, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর প্রভাবে পূজারিরা কম দামে চালের বরাদ্দ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। এ ঘটনায় সাভার উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।

“একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তির কারণে পূজারিরা কম দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

নগদ অর্থ দিলে বরাদ্দের পরিমাণ ও প্রাপ্যতা সহজে বোঝা সম্ভব হবে বলে অনেক মণ্ডপ প্রতিনিধি মনে করছেন। চাল সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং বিক্রির মতো ধাপ থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তালিকা, সময়মতো বিতরণ এবং প্রাপকদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোও জরুরি হবে।

পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাভার থানা কমিটির সভাপতি বরুণ ভৌমিক বলেছেন, চাল নিয়ে এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। তিনি এ বিষয়টি দেখার দায়িত্বও তাঁর নয় বলে উল্লেখ করেন।

“চাল নিয়ে এ ধরনের কিছু হয়ে থাকলে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি দেখার দায়িত্বও আমার নয়।”

অভিযোগ খতিয়ে দেখার কথা ইউএনওর

সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরাদ্দের চাল কেনাবেচা নিয়ে তাঁর কাছেও অভিযোগ এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসে চালের কেনাবেচার কার্যক্রম চলছিল। বিষয়টি জানার পর সেখানে থাকা ব্যক্তিদের বের করে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই বক্তব্যের পর মণ্ডপ প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, বরাদ্দপত্র কীভাবে কার হাতে গেছে এবং প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামের অভিযোগ কতটা সত্য, তা স্পষ্টভাবে যাচাই করা হবে।

ধর্মীয় উৎসবের সরকারি সহায়তা যেন নির্ধারিত মণ্ডপ ও আয়োজকদের উপকারে আসে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্দেশ্য তখনই পূরণ হবে, যখন প্রাপকেরা তার ন্যায্য মূল্য বা সুবিধা পুরোপুরি পাবেন।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is বর দ দ র চ ল কম?

বর দ দ র চ ল কম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does বর দ দ র চ ল কম matter?

বর দ দ র চ ল কম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.