বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র
শেরপুর-শাজাহানপুর এলাকায় ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে উদ্বেগ
Banglajibon.com – বগ ড় র শ রপ র - বগুড়ার শাজাহানপুর ও শেরপুরের বিভিন্ন স্থানে অর্থের প্রলোভনে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষের ছবি, পাসপোর্টের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ফেস ভেরিফিকেশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জনবসতি থেকে দূরে থাকা একটি পরিত্যক্ত মুরগির খামার ও ডেমাজানি ব্রিজসংলগ্ন একটি গুদামকে কেন্দ্র করে এই কার্যক্রম চলেছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তাঁদের আশঙ্কা, সংগ্রহ করা সংবেদনশীল তথ্য দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে।
ঘটনাস্থলগুলোর একটি শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামে। সেখানে পরিত্যক্ত খামারটিতে প্রতিদিন লোকজনের যাতায়াত দেখতে পান আশপাশের বাসিন্দারা। অভিযোগ আছে, একটি সংঘবদ্ধ দল দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য ও পরিচয়সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করছে। এভাবে হাজারের বেশি মানুষের তথ্য নেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি শেরপুর উপজেলার মহিপুর কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। পরে জানা যায়, তারা ব্যাগ বিদ্যালয়ে রেখে রহিমাবাদের ওই মুরগির খামারের দিকে গিয়েছিল। শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেখানে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রায় তিন মাস আগে বন্ধুর সূত্রে সে খামারটিতে যায়। সেখানে তার ভিডিও করা হয় এবং অ্যাপ ব্যবহার করে ফেস ভেরিফিকেশন নেওয়া হয়। কাজটির বিনিময়ে সে ২০০ টাকা পেয়েছিল। পরে অর্থের বিনিময়ে সে অন্য শিশু ও কিশোরদেরও সেখানে নিয়ে যেতে শুরু করে।
শেরপুর পৌরসভার উত্তর সাহাপাড়ার ১৭ বছর বয়সী কবির হোসেনের অভিজ্ঞতাও প্রায় একই রকম। প্রায় দুই মাস আগে এলাকার এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে সাত বন্ধুকে নিয়ে সে সেখানে যায়। তার ভাষ্যমতে, সবার ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরার দিকে স্থিরভাবে তাকাতে বলা হয়। পরে ডান ও বাঁ দিকে মাথা ঘোরানো এবং চোখের পাতা ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ধরনের ভিডিও সাধারণ ছবি তোলার চেয়ে ভিন্ন এবং তা মুখ শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিকেল নামলেই বাড়ে আনাগোনা
শাজাহানপুর উপজেলার বামুনিয়া মণ্ডলপাড়া গ্রামের কৃষক আরিফুল ইসলাম প্রতিদিন কৃষিজমিতে যান। তিনি বলেন, বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খামারের আশপাশে প্রায়ই ২০ থেকে ২৫ জন কিশোরকে দেখা যায়; কোনো কোনো দিন এই সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছে যায়। তাদের কেউ খামারের ভেতরে ঢোকে, আবার কেউ বাইরে অপেক্ষা করে বা ঘোরাফেরা করে। কেন তারা সেখানে এসেছে, জানতে চাইলে স্পষ্ট উত্তর মেলে না বলে তিনি জানান।
কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ার কৃষক শাহিনুল ইসলামও গত প্রায় তিন মাস ধরে ওই এলাকায় শিশু-কিশোরদের নিয়মিত উপস্থিতি দেখছেন। জনবসতিহীন এমন জায়গায় স্কুলপড়ুয়াদের দলবেঁধে যাওয়া স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও শঙ্কা বাড়িয়েছে।
অ্যাপের অ্যাকাউন্ট খোলার দাবি
ফেস ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়ে স্থানীয় সাব্বির হাসান রাকিব, যিনি সাব্বির আহমেদ নামেও পরিচিত, শিশু-কিশোরদের ভিডিও নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় তিন মাস আগে তিনি ‘বিগপে’ নামের একটি অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ পান। প্রতিটি অ্যাকাউন্ট চালুর জন্য মুখের যাচাই প্রয়োজন হওয়ায় প্রথমে পরিচিত লোকদের দিয়ে এই কাজ করাতেন। পরে তাঁদের মাধ্যমে অন্যরাও আসতে শুরু করে এবং কয়েকজন তাঁর এজেন্ট হিসেবেও কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আগে তিনি সৈকত ইসলামের সহযোগী হিসেবে প্রায় দুই বছর কাজ করেছেন। এখন প্রায় তিন মাস ধরে নিজ উদ্যোগে এই কাজ করছেন। তাঁর কাছে লোকজন নিয়ে আসা ব্যক্তিদের প্রত্যেকের জন্য ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।
“আমি সৈকতের সহযোগী হিসেবে দুই বছর কাজ করেছি। এখন নিজেই প্রায় তিন মাস ধরে এই কাজ করছি। আমার কাছে অনেকেই লোকজন নিয়ে আসে। তাদের মাথাপিছু ৫০০ টাকা করে দিই।”
তবে কোনো অ্যাপের জন্য তথ্য নেওয়া হলেও, ব্যক্তির পাসপোর্ট, এনআইডি, ভিডিও এবং মুখের বায়োমেট্রিক তথ্য কোথায় ও কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে—এ প্রশ্নের পরিষ্কার জবাব জরুরি। কারণ এসব তথ্য ব্যক্তির পরিচয়, আর্থিক নিরাপত্তা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত নথির সঙ্গে সম্পর্কিত। অপরিচিত ব্যক্তি বা অনির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এগুলো দেওয়া হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়।
পাসপোর্টের ছবি ও পরিচয়তথ্য নেওয়ার অভিযোগ
রহিমাবাদ গ্রামের পান ব্যবসায়ী হাসেন আলী জানান, তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করা হয়েছিল। প্রায় তিন মাস আগে একই গ্রামের ২৫ বছর বয়সী সৈকত ইসলাম ও তাঁর সহযোগী মামুন হাসেন আলী ও তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্টের ছবি নেওয়ার প্রস্তাব দেন। বিনিময়ে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয়।
প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর দুজনকে শাজাহানপুরের ডেমাজানি ব্রিজের কাছের একটি গুদামে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের ছবি তোলা, মুখের যাচাই এবং পাসপোর্টের ছবি সংগ্রহ করা হয় বলে হাসেন আলী জানান।
আড়িয়া বাজারের চা-দোকানি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকেও প্রায় দুই মাস আগে সৈকত পাসপোর্টের ছবি ও ফেস ভেরিফিকেশন নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই বাজারের ইলিয়াস হোসেনও বলেন, তাঁর পাসপোর্টের ছবি নেওয়া হয়েছে এবং ওই গুদামেই মুখের যাচাই করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকত ও মামুনের মাধ্যমে বহু মানুষের পাসপোর্টের ছবি, এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্য এবং ফেস ভেরিফিকেশন সংগ্রহ করা হয়েছে।
থানায় অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য
গত ২০ জুলাই রহিমাবাদ এলাকার সাবেক সেনাসদস্য আমিরুল ইসলাম শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই সৈকত ইসলাম ও তাঁর তিন সহযোগী তিনজন স্কুলছাত্রকে সৈকতের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাদের স্কুলের পোশাক বদল করিয়ে ছবি তোলা এবং ফেস ভেরিফিকেশন করা হয়।
আমিরুল ইসলামের দাবি, অভিযোগের পর ২১ জুলাই পুলিশ সৈকতকে আটক করে থানায় নেয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সৈকত তাঁর কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও তিনি জানান।
সৈকত ইসলাম বলেন, তিনি আগে অনলাইনে ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি এবং ফেস ভেরিফিকেশনের কাজ করতেন। পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েছিল এবং লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ার পর তিনি ওই কাজ বন্ধ করেন বলে তাঁর বক্তব্য।
অন্যদিকে শাজাহানপুর থানার ওসি আশিক ইকবাল বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সৈকতকে আটক করেনি। থানায় বসে কোনো আপস-মীমাংসাও হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি বা মুখের ভিডিও দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, কাজের বৈধতা এবং তথ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা দরকার, কারণ সামান্য অর্থের বিনিময়ে দেওয়া একটি ভিডিও বা পরিচয়তথ্য ভবিষ্যতে জটিলতার কারণ হতে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is বগ ড় র শ রপ র?বগ ড় র শ রপ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does বগ ড় র শ রপ র matter?বগ ড় র শ রপ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.