ফকিরহাটে বালতির পানিতে চুবিয়ে শিশু হত্যার অভিযোগ, সৎমা আটক
ফক রহ ট ব লত র প – বাগেরহাটের ফকিরহাটে সাত বছর বয়স্ক আবু তালহাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ জানানো হয়েছে। ঘটনাটি উপজেলার লখপুর এলাকায় ঘটেছে। নিহত শিশুটি উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়া এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী সৈকত শেখের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিনদের মতে, নিহত আবু তালহার মা মনিরা বেগম এক বছর আগে স্বামীর সংসার ত্যাগ করে অন্য ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী অন্য জায়গায় চলে যাওয়ার পর সৈকত শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করে সৎমা রুকাইয়া শিকদারকে নিয়ে লখপুর ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর আবু তালহাকে তার দাদা সিরাজুল ইসলামের কাছে থাকত। চার দিন আগে ছেলেটি পিতামাতার কাছে বেড়াতে যায়। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা সাড়ে ৩ ফুট উচ্চতার বালতির পানিতে নিহত শিশুকে উল্টো হয়ে পড়ে থাকতে দেখে। সেখানে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অভিযোগে প্রকাশ পেয়েছে যে, শিশুটির মা মনিরা বেগম আগেকার স্বামীর সংসার ছেড়ে গেলে বাবা সৈকত শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বালতির পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এবং সৎমা রুকাইয়া শিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বালতির ভেতর উপুড় হয়ে পড়েছিল শিশুটি
সৎমা রুকাইয়া শিকদার জানান, তিনি সকালে কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফেরত আসার সময় দেখেন শিশুটি বালতির ভেতর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। তাঁকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
“আমি সকালে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারি ছেলেটি অসুস্থ। খবর পেয়ে এসে দেখি তার মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।” – নিহত শিশুর মা মনিরা বেগম
বাবা সৈকত শেখ জানান, তিনি বাইরে কাজে ছিলেন। খবর পেয়ে বাসায় আসতে দেখেন ছেলেটি আর বেঁচে নেই। তিনি জানান যে ছেলেকে কেউ মেরে ফেলতে পারে।
বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার হাসান মোহম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, শিশুটির মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
