Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

নীলফামারীর ডিমলা: বালু তোলায় ঝুঁকিতে তিস্তা বাঁধ

Published Oktober 4, 2026 · Updated Oktober 4, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

ডিমলায় তিস্তার তীর রক্ষা বাঁধের পাশে গভীর খনন, বাড়ছে ভাঙনের আশঙ্কা

Banglajibon.com – ন লফ ম র র ড মল - নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা সেচ প্রকল্প এলাকার সিল্ট ট্র্যাপের আশপাশে বালু ও মাটি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নিলামে বিক্রি হওয়া বালুর সীমা পেরিয়ে তীর রক্ষা বাঁধের একেবারে কাছে গভীরভাবে খনন করা হচ্ছে। এতে তিস্তা ব্যারাজ, সেচ প্রকল্পের সড়ক, সরকারি অবকাঠামো এবং নদীতীরের বসতিগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এলাকাটি কেপিআইভুক্ত তিস্তা ব্যারাজ অঞ্চলের অংশ। তবু নদীপাড় ও বাঁধসংলগ্ন স্থানে দিনরাত ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে মাটি-বালু তোলার অভিযোগ উঠেছে। খননের ফলে তীরের স্বাভাবিক কাঠামো দুর্বল হলে বর্ষার সময় পানির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।

সাত কোটি টাকার বাঁধের পাশেই খনন

গত বছর ডালিয়া বাইশপুকুর এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তিস্তা সেচ প্রকল্পে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে একই সময়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সিল্ট ট্র্যাপ খননের কাজও সম্পন্ন হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী খননকাজে পাওয়া বালু সিল্ট ট্র্যাপ ও তিস্তা নদীর ধারে বাঁধের কাছাকাছি স্তূপ করে রেখেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত জুনে জেলা প্রশাসন ওই বালু নিলামে বিক্রি করে। নিলামে থাকা বালুর পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ঘনফুট। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা নেন স্থানীয় ঠিকাদার জয়নাল আবেদীন।

তবে অভিযোগ উঠেছে, নিলামের বৈধ বালু সরানোর পরও গত দুই মাস ধরে সিল্ট ট্র্যাপের নিচের অংশ এবং তীর রক্ষা বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে নতুন করে মাটি ও বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি প্রভাবশালী চক্র এ কাজে যুক্ত এবং তারা এক্সকাভেটর ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করছে।

সরেজমিন চিত্রে দেখা যায়, সিল্ট ট্র্যাপ থেকে প্রায় ১০ মিটারের মধ্যে বাঁধের গা ঘেঁষে প্রায় তিন একর জায়গায় খনন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ২০ ফুট গভীর খালের মতো গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজ ও সরকারি পরিদর্শন বাংলোও নদীপাড় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

ইজারাদারের বক্তব্য ও স্থানীয় অভিযোগ

ইজারাদার জয়নাল আবেদীন বলেন, কার্যাদেশে উল্লেখিত বালু তিনি গত ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এরপর স্থানীয় কিছু ব্যক্তি অবৈধভাবে ওই এলাকা থেকে বালু তুলছে এবং বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামের বালু তোলা শেষ হওয়ার পর এখন নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু ডাম্প ট্রাকে করে রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নেওয়া হচ্ছে। রাত-দিন ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সেচ প্রকল্পের পরিদর্শন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে।

এ ধরনের কার্যক্রম শুধু বাঁধের নিরাপত্তাই নয়, আশপাশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। নদীতীরের মাটি কেটে ফেলা হলে পানির গতিপথ ও তীরের স্থিতি বদলে যেতে পারে। বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোত থাকলে দুর্বল অংশে ধস নামার ঝুঁকি বাড়ে।

“কাকে বলব, কেউ কথা শোনে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কোনো গুরুত্ব নাই। বাধা দিলে উল্টো প্রভাবশালীরা দাবি করেন, তাঁরা টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছেন এবং প্রশাসনকে নিয়মিত টাকা দেন। আমরা কার কাছে বিচার দেব।”

জাহের আলী, লুৎফর রহমান, মাসুদসহ অন্তত ১০ জন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কথা বলেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিবাদ জানালে এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

“এবারের বর্ষাটা না হয় শেষ। ভবিষ্যতে ঠিকমতো বর্ষা হলে ৭ কোটির বাঁধ, জনবসতি, আবাদি জমি সব নদীতে তলিয়ে যাবে।”

বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাঁধের নিচ ও পাশের মাটি সরে গেলে একসময় নদীর স্রোত সরাসরি প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাতে শুধু সরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, কৃষিজমি ও বসতবাড়িও ভাঙনের আওতায় চলে আসতে পারে।

রাজস্ব ও অবকাঠামো ক্ষতির প্রশ্ন

স্থানীয়দের বক্তব্য, কেপিআইভুক্ত এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন চললে সরকার রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে বালুবোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলে সড়ক ও সেতুর ক্ষতি হয়। নিলামের শর্ত ও প্রচলিত আইনে নদীর স্বাভাবিক গঠন এবং পরিবেশ বিনষ্ট করার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, বাঁধের নিচ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি সরানো হলে যেকোনো সময় বাঁধ ধসে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নদীর আশপাশে বড় ধরনের ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে নিলামের শর্ত লঙ্ঘন কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিস্তা তীরের এই অবকাঠামো সেচব্যবস্থা, যোগাযোগ ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিলামকৃত বালু অপসারণের সীমা, খননের অবস্থান এবং ভারী যান চলাচলের প্রভাব দ্রুত যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ন লফ ম র র ড মল?

ন লফ ম র র ড মল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন লফ ম র র ড মল matter?

ন লফ ম র র ড মল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.