নামফলকে নিজের নাম দেখে ফলক উন্মোচন করেননি হাসনাত আবদুল্লাহ, আলোচনা-সমালোচনা
নিজের নাম থাকা ফলক উন্মোচন করলেন না হাসনাত আবদুল্লাহ
Banglajibon.com – ন মফলক ন জ র ন ম - কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নামফলকে নিজের নাম দেখে তা উন্মোচন থেকে বিরত থাকেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ভবনের প্রবেশপথের লাল ফিতা কাটেন, তবে ফলকের ওপর থাকা কাপড় সরাননি। একই সঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ফলকটি পরিবর্তনের নির্দেশ দেন তিনি।
গত শনিবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে জনপ্রতিনিধিদের নামকেন্দ্রিক প্রচারণার প্রচলিত ধারার বিপরীতে একটি অবস্থান হিসেবে দেখছেন। আবার কারও কারও মতে, এটি রাজনৈতিকভাবে একটি বার্তা দেওয়ার উদ্যোগও হতে পারে।
ফলকের সামনে আপত্তি
ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্বোধনী ফিতা কাটার পর হাসনাত আবদুল্লাহ নতুন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে লাল কাপড়ে ঢাকা একটি নামফলকের সামনে দাঁড়িয়ে কাপড়টি সামান্য সরানো হলে তিনি ফলকে নিজের নাম দেখতে পান। এরপর তিনি ফলকটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন না করে আয়োজকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন।
তাঁর বক্তব্য ছিল, জনসাধারণের করের অর্থে নির্মিত সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপনায় কোনো ব্যক্তির নামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রচারণার সংস্কৃতি সমর্থনযোগ্য নয়। উন্নয়নকাজের সঙ্গে জনপ্রতিনিধির নাম যুক্ত করার প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।
“জনগণের অর্থেই উন্নয়নকাজ হয়। তাই এসব ফলকে জনপ্রতিনিধির নামের বদলে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের তথ্য থাকতে পারে।”
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ইতিহাস, প্রতিষ্ঠাকাল বা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতিও এমন ফলকে তুলে ধরা যেতে পারে। এতে স্থাপনাটি শুধু উদ্বোধনের স্মারক না হয়ে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যবহুল উপকরণ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ও উদ্বোধন
রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি সেখানে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। অনুষ্ঠান শেষের দিকে ফলক উন্মোচনের আয়োজন করা হয়েছিল।
নিজের নাম খোদাই করা দেখতে পাওয়ার পর তিনি আপত্তি জানালেও ভবন উদ্বোধনের কর্মসূচি বাতিল করেননি। লাল ফিতা কেটে ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেন তিনি। তবে নামফলকটি সংশোধন করে পুনরায় স্থাপনের নির্দেশনা দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানান, সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুসরণ করে দ্রুত ফলকটি বদলে নতুনভাবে স্থাপন করা হবে। কী ধরনের তথ্য নতুন ফলকে থাকবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি নিয়ে অবস্থান
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যক্তির নাম ব্যবহারের রাজনৈতিক রীতির বিষয়টি উঠে এসেছে। বিভিন্ন সরকারি ও স্থানীয় উন্নয়নকাজের ফলকে অনেক সময় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত থাকে। সমর্থকদের কাছে তা কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হলেও সমালোচকদের ভাষ্য, জনঅর্থে বাস্তবায়িত কাজকে ব্যক্তিগত প্রচারের সঙ্গে মেলানো উচিত নয়।
দেবিদ্বারের এই ঘটনায় সেই বিতর্ক নতুনভাবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে অনেকে লিখেছেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত অবকাঠামো মানুষের সম্পদ হিসেবেই চিহ্নিত হওয়া উচিত। অন্যদিকে সমালোচনামূলক মতও রয়েছে—কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এমন অবস্থান বাস্তবে সব উন্নয়ন প্রকল্পে একইভাবে কার্যকর হবে কি না।
“নতুন বাংলাদেশে পুরোনো ধরনের ব্যক্তিপূজা বা আত্মপ্রচারের রাজনীতি দেখতে চাই না।”
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নকাজের ফলকে তাঁর নাম ব্যবহার না করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে দেবিদ্বার এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক তৈরির প্রচলিত ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।
ফলকে কী থাকতে পারে
নামফলক সাধারণত কোনো স্থাপনা নির্মাণ, উদ্বোধন ও সংশ্লিষ্ট সময়ের তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। তবে সেখানে ব্যক্তির নামের বদলে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, নির্মাণের উদ্দেশ্য, নির্মাণকাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস কিংবা এলাকার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যেতে পারে—এমন ভাবনাই তুলে ধরেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
বিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের তথ্য শিক্ষার্থীদের কাছে স্থানটির অতীত ও পরিচিতি জানার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ফলককে রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে জনসম্পদের স্মারক হিসেবে দেখার একটি দৃষ্টিভঙ্গিও গড়ে উঠতে পারে।
রাধানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনাটি এখন শুধু একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ নয়; জনঅর্থে নির্মিত স্থাপনায় কার পরিচয় থাকবে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। ফলক পরিবর্তনের পর সেখানে কী লেখা হবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ন মফলক ন জ র ন ম?ন মফলক ন জ র ন ম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ন মফলক ন জ র ন ম matter?ন মফলক ন জ র ন ম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.