Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দেশে ফিরল লেবাননে নিহত শুভ দাসের মরদেহ

Published September 6, 2026 · Updated September 6, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

দক্ষিণ লেবাননের ড্রোন হামলার শিকার প্রবাসীর মরদেহ দেশে: চার মাসের দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলারোয়ায় ফিরল শুভ দাস

Banglajibon.com – দ শ ফ রল ল ব নন - জীবিকা সন্ধানে সমুদ্রপারের দিকে পা বাড়িয়েছিলেন শুভ দাস। কিন্তু সেই যাত্রার ফেরা হয়েছিল কফিনের ভেতরে, নিথর দেহে। চলতি বছরের ১২ মে দক্ষিণ লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুর ৩ মাস ২৫ দিন পর, নানা কাগজপত্র ও প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে থাকার পর রোববার সকালে অবশেষে দেশে পৌঁছেছে তাঁর মরদেহ। কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরেছে সেই দেহ, যা একদিন স্বপ্ন দেখেছিল ভাগ্য বদলের।

হামলার রূপরেখা ও একই ঘটনায় নিহত তিন প্রবাসী

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান যুদ্ধের পটভূমিতে ১২ মে জেবদিন এলাকার একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালায়। সেই হামলায় একই এলাকায় কর্মরত তিন বাংলাদেশি প্রবাসী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং কলারোয়া উপজেলার শুভ দাস। প্রথম দুই প্রবাসীর মরদেহ গত ২৭ জুন দেশে এসেছিল। কিন্তু শুভ দাসের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি প্রায় চার মাস ধরে আটকে ছিল, যা পরিবারের জন্য আরও এক ধরনের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একজন প্রবাসীর পেছনে একটি গ্রামের পরিবারের আর্থিক আত্মসমর্পণ

নিহত শুভ দাসের বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর। তিনি ভ্যানচালক সুরঞ্জন দাস ও ধানচাতাল শ্রমিক শিখা দাসের মেজো ছেলে। গ্রামের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্নে পরিবারের কাছে কোনো বিকল্প ছিল না। পিতা সুরঞ্জন দাস জানান, ছেলেকে লেবাননে পাঠাতে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করতে হয়েছে, পাশাপাশি ধারদেনাও করতে হয়েছে। সেই আর্থিক আত্মসমর্পণের ফলাফল হয়েছিল একটি কফিন।

পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ছেলেকে জমি ও গবাদিপশু বিক্রি এবং ধারদেনা করে লেবাননে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ড্রোন হামলা।

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য লেবানন দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নির্মাণ, কৃষি ও পরিষেবা খাতে হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মরত। তবে গত কয়েক বছরে ইসরায়েল-হেজবোল্লা সংঘাত তীব্র হওয়ার পর এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে পড়ে। ড্রোন হামলা, আর্টিলারি গুলি ও বিমান হামলার ঘটনাগুলো প্রবাসীদের জন্য প্রতিনিয়ত ঝুঁকির কারণ।

সরকারি ক্ষতিপূরণ ও অনুদানের বিবরণ

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের খুলনাস্থ ওভারসিজ ওয়ার্কার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সহকারী পরিচালক মঈন আহমেদ জানান, নিহত শুভ দাসের মরদেহ সৎকারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া যুদ্ধে মৃত্যুর কারণে বিশেষ অনুদান হিসেবে আরও ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

এই দুই অর্থের বাইরেও পরিবার পাবে আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বীমা বাবদ আরও ১০ লাখ টাকা। মোটমোটক হিসেবে পরিবারের কাছে পৌঁছাবে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এই অর্থ সাহায্য একটি গ্রামের পরিবারের জন্য বড় সাহায্য, যদিও এটি একজন ২৩ বছর বয়সী যুবকের জীবনের কোনো মূল্য নির্ধারণ করে না।

প্রবাসী নিরাপত্তা: পুনরাবলোকনের দরকার

একই হামলায় তিন প্রবাসীর প্রাণহানি এবং মরদেহ ফেরাতে চার মাসের বিলম্ব — এই দুটি বিষয় মিলিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রবাসী নিরাপত্তা ও মরদেহ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার কার্যকারিতার বিষয়ে। যুদ্ধাভিযানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়মিত নিরাপত্তা সতর্কতা, তাৎক্ষণিক তথ্য প্রবাহ এবং মরদেহ ফেরতের দ্রুত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব — এসব প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুভ দাসের পরিবারের জন্য এই চার মাস ছিল অপেক্ষার, দুশ্চিন্তার এবং অসম্পূর্ণ শোকের। কফিনবন্দী দেহটি রোববার সকালে যখন শ্রীপতিপুর গ্রামে পৌঁছায়, তখন পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই স্বপ্নের শেষ অধ্যায় লেখা হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের মানুষের কাছে শুভ এখন আর একজন ভ্যানচালকের ছেলে নয় — তিনি একজন যুদ্ধের শিকার, যার পরিবার এখন সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ শ ফ রল ল ব নন?

দ শ ফ রল ল ব নন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ শ ফ রল ল ব নন matter?

দ শ ফ রল ল ব নন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.