Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

দিনাজপুর: গম-ভুট্টা গবেষণায় অনন্য বিডব্লিউএমআরআই

Published Agustus 14, 2026 · Updated Agustus 14, 2026 · By Mary Taylor - banglajibon.com

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

দিনাজপুরের বিডব্লিউএমআরআই: গম ও ভুট্টা গবেষণায় অনন্য অবদান

Banglajibon.com – দ ন জপ র - বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সহনশীল, দেশজুড়ে আবাদযোগ্য এবং উচ্চ ফলনদানকারী নতুন নতুন গম ও ভুট্টার জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই) অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে দেশে চাষ হওয়া গমের প্রায় সবকটি জাতই এই প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত। ফলে আমদানি-নির্ভরতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

গত সাত বছরে প্রতিষ্ঠানটি গমের পাঁচটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে, যাদের নামকরণ করা হয়েছে বিডব্লিউএমআরআই ১ থেকে ৫ পর্যন্ত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মোট ৩৮টি উচ্চফলনশীল গমের জাত তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ২৯টি ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড। এছাড়াও সাদা ভুট্টা, সুইট কর্ন, বেবি কর্ন ও পপ কর্নের জাত রয়েছে।

ইতিহাস ও কাঠামো

গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে বিডব্লিউএমআরআই। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অধীনে 'গম গবেষণা কেন্দ্র' হিসেবে যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠানটির। ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর 'বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭' অনুযায়ী এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুরে অবস্থিত বিডব্লিউএমআরআই ১৪টি গবেষণা বিভাগ, ৫টি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র (গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, যশোর ও হাটহাজারী), ১টি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র (দেবীগঞ্জ) এবং ১টি বীজ উৎপাদন উপকেন্দ্র (ঠাকুরগাঁও) নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কৃষকদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

সনাতনী চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে কৃষকদের মাঝে বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বিডব্লিউএমআরআই। চাষাবাদে ২৫টি নতুন উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, চার-ফসলভিত্তিক লাভজনক ফসল ধারা, পাওয়ার টিলারচালিত বীজ বপন যন্ত্রের মাধ্যমে এক চাষে সারিতে বীজ বপন প্রযুক্তি (যার মাধ্যমে চাষের ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যায়), ব্লাস্ট রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা, ফল আর্মি ওয়ার্ম ব্যবস্থাপনা এবং অম্লীয় মাটি সংশোধনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সীমিত সম্পদ, গবেষণাগার ও যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা, অপ্রতুল জনবল এবং গবেষণা মাঠের অপর্যাপ্ততা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মান অর্জনে কাজ করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণার ফলাফল ব্যবহার করে দেশের বাইরে ভারত, নেপাল, বলিভিয়া ও জাম্বিয়ায় ১০টি ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের জাত অবমুক্ত করেছে।

আগে গমের ফলন ও উৎপাদন তুলনামূলক কম ছিল। যে পরিমাণ জমিতে গম চাষ করতাম, এখন করছি তার মাত্র পাঁচ ভাগের এক ভাগ জমিতে। তবে আগে প্রতি বিঘা (৪৮ শতাংশ) জমিতে ৫ থেকে ৮ মণ ফলন হতো। এখন সেখানে প্রতি বিঘার ৩২-৩৩ মণ পর্যন্ত গম উৎপাদিত হচ্ছে। আবার এক বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত ভুট্টা উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া এবং ভালো দাম পাওয়ার কৃষকেরা আবারও গম ও ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার তরঙ্গিনী গ্রামের কৃষক মো. দবিরুল ইসলামের এই মন্তব্য কৃষকদের নতুন উৎসাহের ইঙ্গিত দেয়।

ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও চাহিদা পূরণ

বিডব্লিউএমআরআই জানায়, দেশে গমের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১০ থেকে ১২ লাখ টন। চাহিদা পূরণে প্রতিবছর ২৪ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, 'সীমিত সম্পদের মধ্যেও আমাদের বিজ্ঞানীরা তাপসহনশীল, ব্লাস্ট-প্রতিরোধী, স্বল্পমেয়াদি ও জিংকসমৃদ্ধ গমের জাত এবং উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যা দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের অভিযোজন সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।' তিনি আরও বলেন, 'আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়; বরং জলবায়ু সহনশীল, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও অধিক উৎপাদনশীল দানাদার ফসলের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের আমদানি-নির্ভরতা কমানো, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে গবেষণার ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is দ ন জপ র?

দ ন জপ র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ ন জপ র matter?

দ ন জপ র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.