দাম না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ীরা
দ ম ন প য় নদ ত – ফেনীর দাগনভূঞায় ঈদের পর পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এবং সংরক্ষণের খরচ বহন করতে অসামগ্রী হয়ে পড়ায় কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছোট ফেনী নদীতে চামড়া ফেলে দেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
পরিবেশ দূষণের অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের ক্ষমা চাওয়া
দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বিকেলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়িতে যান। সেতু থেকে নদীতে চামড়া ফেলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের ক্ষমা চান। ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে বিচার করে তাদের ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি ছোট ফেনী নদীতে গরুর চামড়া ফেলছেন। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ক্রমাগত সংকট সমাধানের জন্য ক্রিয়া নেয়। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অস্বীকৃত দাম না পেয়ে এ কার্যক্রম বাড়িয়ে তোলার সম্ভাবনা আছে।
ব্যবসায়ীদের কারণ জানতে চায় অভিযুক্ত ব্যক্তি
বিষয়টি বিশ্লেষণের জন্য সহকারী কমিশনার শাহিদুল আলম অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের কাছে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান দাম না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলার সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল। ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান।
এ ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “ব্যবসায়ীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাদের বিপণনে সহযোগিতা করতে পারতাম।” তিনি দাম না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলার কারণ হিসেবে লোকসানের কথা উল্লেখ করেন। চলতি মৌসুমে কাঁচা চামড়া বাজারে কম দাম না পেয়ে ব্যবসায়ীরা অসুবিধায় পড়েছেন।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম জানান, আমরা দাম না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটা করা উচিত হয়নি। তবে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়া সম্পর্কে আমরা জানতাম না। আর এ ধরনের ভুল কখনো করব না।
উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে চামড়ার বাজার দাম পড়ে সামগ্রী হয়ে পড়ায় বিভিন্ন জেলায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিপণন কার্যক্রমে সংকট ঘটেছে। দাম না পেয়ে নদীতে চামড়া ফেলার কার্যক্রম পরিবেশ দূষণের সাথে জড়িত হওয়ায় এ বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
