Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ঢাবির তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের

Published September 2, 2026 · Updated September 2, 2026 · By Matthew Wilson - banglajibon.com

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন অধ্যাপকের সামরিক বরখাস্তে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের তীব্র প্রতিবাদ

Banglajibon.com – ঢ ব র ত ন শ ক - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা সিন্ডিকেটের গত সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় তিনজন অধ্যাপককে সামরিক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনও করা হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ পেশ করা হয়।

বরখাস্তের অভিযোগ ও প্রক্রিয়া

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে বরখাস্ত করা তিন শিক্ষক হলেন—বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু। অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো তাঁরা জুলাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত জানতে পেরে সংগঠন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, অধ্যাপক অহিদুজ্জামান তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করেছেন। তবুও তাঁকে শাস্তি দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ায় ঘাট

বিবৃতিতে তদন্ত প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতিনিধি রাখার এবং অভিযুক্তকে জেরা করার সুযোগ থাকার কথা। অথচ অধ্যাপক এম. অহিদুজ্জামান লিখিতভাবে একাধিকবার আবেদন করার পরও তাঁকে সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্তের প্রতিনিধির স্বাক্ষর ছাড়াই সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এটি ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসারে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা আবশ্যক—এই দাবি সংগঠনটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভীতির পরিবেশ

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। সংগঠনটি এক স্পষ্ট বক্তব্যে বলেছে:

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জ্ঞানচর্চা, প্রশ্ন, মতপ্রকাশ এবং অন্যের সমালোচনা করবেন—এটাই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। মতপার্থক্যের সমাধান যুক্তি, আলোচনা, সহনশীলতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত; প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহান স্বাধীনতার আদর্শের পক্ষে অবস্থানকারী শিক্ষাবিদরা যেন মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে প্রশাসনিক হুমকি কিংবা শাস্তির আশঙ্কায় নীরব না হন—এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সচেতন হতে হবে।

পুনঃপর্যালোচনার দাবি

সংগঠনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিষয়টি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পুনঃপর্যালোচনার সুযোগ দেওয়া হোক। সামরিক বরখাস্ত ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত কোনো স্বাভাবিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়; এটি একাডেমিক স্বাধীনতার মৌলিক নীতিতে আঘাত। বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে প্রশ্ন করা, ভিন্নমত প্রকাশ করা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তি দেওয়া স্বাভাবিক, সেখানে একক সিদ্ধান্তে তিনজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা একাডেমিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।

জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মতভেদের কারণে চাপ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে ভিন্নমতের অস্তিত্বই জ্ঞানচর্চার ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে তিনজন অধ্যাপকের সামরিক বরখাস্ত কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়—এটি পুরো একাডেমিক সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য একটি সতর্কবার্তা। প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের এই প্রতিবাদ সেই সতর্কবার্তার প্রতি সাড়া দেওয়ার চেষ্টা।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is ঢ ব র ত ন শ ক?

ঢ ব র ত ন শ ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ঢ ব র ত ন শ ক matter?

ঢ ব র ত ন শ ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.