ঝিনাইদহে চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের সড়ক অবরোধ
আমন ধানের ভরা মৌসুমে সার সংকটে ঝিনাইদহের কৃষক: বাজার-ডিলারের দামে ফার্মের খরচ দ্বিগুণ
Banglajibon.com – ঝ ন ইদহ চ হ দ মত - ঝিনাইদহ জেলার আমন ধানের ভরা পর্যায় চলছে, আর এই সময়েই কৃষকেরা ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্য চরম বিপাকে পড়েছেন। সরকারি অনুমোদিত ডিলার-সাবডিলার পয়েন্টে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম পরিমাণে সার মিলছে, অথচ পাশের খুচরা বাজারে একই পণ্য উচ্চ দামে সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এই দ্বৈত বাজারের ফাঁকে কৃষকের আর্থিক বোঝা বাড়ছে, আর সার-বিতরণ ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমছে।
শনিবার সকালে গাঙ্গঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি
শনিবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার গাঙ্গঞ্জ পুরাতন বাজারের সামনে স্থানীয় কৃষকেরা সার নিতে উপস্থিত হন। ডিলার 'শুব এন্টারপ্রাইজ'-এর কাউন্টার থেকে সার পাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে ক্ষোভের সীমা ছাড়িয়ে যায়। কৃষকেরা গাঙ্গঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে চলাচল বন্ধ করে দেন। যানবাহন দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার সরবরাহ নিশ্চিত করলে কৃষকেরা অবরোধ তুলে নেন।
কৃষকদের মুখে: "প্রয়োজনের এক-পঞ্চমাংশও পাই না"
সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলছেন, সাবডিলার পয়েন্টে একদিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হয়। সার নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অথচ বেশি টাকা দিলে খোলা বাজারে সারের কোনো অভাব নেই। তার অভিযোগ, ডিলাররা গোপনে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।
"সাবডিলার পয়েন্টে গেলে এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হচ্ছে। সার নিতে লাইন ধরতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি টাকা দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই। ডিলারেরা গোপনে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন।" — নজরুল ইসলাম, পাইকপাড়া গ্রাম
কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন কাশিপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসাইন জানান, স্থানীয় ডিলার সোহরাব হাজীর দোকানে এক বস্তার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ইউরিয়া মিলল মাত্র ২০ কেজি। সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষক বকুল হোসেন বলছেন, তাঁর ১৬ বিঘা ধানের আবাদ চলছে। গত শুক্রবার ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার 'মেসার্স মাহমুদ খাতুন'-এর পয়েন্টে কৃষকদের সার বিতরণ হচ্ছিল, কিন্তু কাজের কারণে সেদিন যেতে পারেননি। পরদিন সার নিতে গেলে দোকানের ম্যানেজার জানান, তাঁর বরাদ্দের সার বিক্রি হয়ে গেছে। ন্যূনতম ১০ বস্তার প্রয়োজনে মাত্র ৪ বস্তা পেয়েছেন।
"যেখানে আমার ন্যূনতম ১০ বস্তা সার প্রয়োজন, সেখানে আমাকে মাত্র ৪ বস্তা সার দিয়েছে।" — বকুল হোসেন, রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রাম
উপজেলার মালিগাত গ্রামের কৃষক সুমন হোসেনের অভিযোগও একই রকম। ৫০ কেজি সারের প্রয়োজনে সরকার অনুমোদিত ডিলার-সাবডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছেন মাত্র ২০ কেজি। পাশেই থাকা খুচরা দোকানে চড়া দামে সার পাওয়া যাচ্ছে।
দামের ফাঁক: সরকারি মূল্যের চেয়ে ৩০–৫৫ শতাংশ বেশি
কৃষকদের তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য (প্রতি কেজি ২৭ টাকা) ১ হাজার ৩৫০ টাকা। খোলা বাজারে একই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকা। টিএসপি সারের ক্ষেত্রে সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, খোলা বাজারে ২ হাজার ১০০ টাকা। ডিএপি সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৫০ টাকা, বাজারমূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা। স্থানভেদে এই মূল্যে কিছুটা কমবেশি থাকলেও সামগ্রিক চিত্র একই।
বাফার গুদামের হিসাব: "মজুত আছে, বিতরণ চলছে"
কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গুদামের ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের এই গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া বিতরণ করা হচ্ছে। আগস্ট মাসে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন, যার ৮৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে চাহিদা ১০ হাজার 373 মেট্রিক টন। গত বছরের একই মাসে চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি আগে সামনে আনা হয়েছিল কারণ একই ব্যক্তি বারবার সার নিয়ে সংকট তৈরি করতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল। কৃষকদের হারানির কথা চিন্তা করে এখন ডিলারদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র আনার প্রয়োজন নেই। কেউ অনিয়ম করলে সংবাদ পাওয়ার মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"অনেক সময় একই ব্যক্তি বারবার সার নিয়ে সংকট তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। কৃষকদের হারানির কথা চিন্তা করে এখন ডিলারদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।" — মাহবুব আলম রনি, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই; কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। সব
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ঝ ন ইদহ চ হ দ মত?ঝ ন ইদহ চ হ দ মত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ঝ ন ইদহ চ হ দ মত matter?ঝ ন ইদহ চ হ দ মত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.