Bangladesh

চাবি হস্তান্তরের দেড় বছরেও বরাদ্দ হয়নি আশ্রয়ণের ৩৬ ঘর

মহাদেবপুরে দুই বছর পর আশ্রয়ণ ঘরগুলো কাজে লাগছে না

নির্মিত ঘরগুলো খালি থাকায় মাদকসেবীদের আড্ডাখানা হয়েছে

চ ব হস ত ন তর র – যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মহাদেবপুর গ্রামে ভূমিহীন ব্যক্তিদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ৩৬টি আশ্রয়ণ ঘর। কিন্তু এগুলো দেড় বছর ধরে পরিচালনার অভাবে খালি পড়ে আছে। এই প্রকল্পের নির্মাণ শেষ হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে। অতীতে সরকার ঘোষণা করেছিল যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও নলকূপ স্থাপন করা হবে ঘরগুলো জনস্বাদৃষ্টি করার জন্য। কিন্তু অবিলম্বে সেসব সুবিধা সরবরাহ করা হয়নি।

মহাদেবপুরে নির্মিত ৩৬টি ঘর অনুমান করা হয়েছিল যে সেগুলো খালি থাকার কারণে তালার কোনো দৃঢ়তা রয়েছে না। সরেজমিন দেখা গেছে যে কিছু ঘরে গোবর শুকাচ্ছে, অন্যান্যেতে গবাদিপশু বাঁধা রয়েছে। কয়েকটি ঘরে খড়কুটা ও অন্যান্য জ্বালানি সামগ্রী রাখা হয়েছে। একটি ঘরে আগুন দেওয়ার চিহ্ন দেখা গেছে। যার পরিণতি হিসাবে ঘরগুলো এখন মাদকসেবীদের সমাগমের জায়গা হয়ে গেছে।

দেড় বছর আগে ঘরগুলোর নির্মাণ শেষ হয়েছে। কিন্তু আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি। কাগজপত্র আসেনি তাই ঘরে উঠতে পারিনি। সবগুলো খালি থাকা ঘর দেখছি আমরা পাঁচ ভাইবোন। জমি নেওয়ার সময় ইউএনও বলেছিল আমাদের পাঁচটি ঘর পাওয়া যাবে। কিন্তু ঘরের কাজ শেষ হয়েছিল দেড় বছর আগে এখনও কোনো কিছু হয়নি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পৌরসভার সহযোগিতায় মোট ৬২টি আশ্রয়ণ ঘর নির্মিত হয়। যার মধ্যে মহাদেবপুর মৌজায় নির্মিত ৩৬টি, রোহিতা ও গোবিন্দপুরে ৯টি প্রতিটি ঘরে ব্যয় হয়েছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকা। প্রকল্পের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি মাহির দায়ান আমিনের সহযোগিতায়। তবে এখনও অধিকাংশ ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি।

সরকারের প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা

১১টি ঘর বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে চলতি সপ্তাহে। তবে কিছু ঘর পরিচালনার প্রক্রিয়ায় আটকে রয়েছে। জয়পুর গ্রামে নাজমা বেগম বলেন, আমার মা এখন দেড় বিঘা জমি পেয়েছিলেন। সেই জমি খাস হয়ে গেলে সরকার ৩২টি ঘর করেছে। আমরা মামার ভিটায় থাকি জমিজমা না থাকায়। সবগুলো ঘর খালি পড়ে আছে।

Leave a Comment