Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাট, ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Published September 5, 2026 · Updated September 5, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

দর্শনায় চাঁদাবাজি-ভাঙচুরে কারাগারে দুই রাজনৈতিক নেতা, যুবদল থেকে বহিষ্কার

Banglajibon.com – চ দ র দ ব ত ব - দর্শনার এক ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএনএফ) ব্যবসায়ীর অফিসে লাঠিসোঁটা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত দুই রাজনৈতিক কর্মীকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন দর্শনা থানা যুবদলের সদস্য রকিবুল ইসলাম ব্রাইট ও কলেজ ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ আমিন। ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় যুবদল ব্রাইটকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিরোধ থেকে চাঁদা-দাবির পথ

ঘটনার মূল কারণ ছিল দুই সিএনএফ এজেন্টের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক বিরোধ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের মামলার এজাহারে উঠে আসে, সম্প্রতি আমদানিকৃত পাথরের চালানে পণ্য খালাসের একটি কাজ নিয়ে তিনি আরেক সিএনএফ এজেন্ট মোহাম্মদ রশিদের সঙ্গে মতভেদে পৌঁছান। এই বিরোধকে সুযোগ করে নিয়ে একটি গোপন চক্র রফিকুলের কাছে প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। বৃহস্পতিবার রাতে ফোনে আবার ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালেও একই ধরনের ফোন আসে — টাকা না দিলে অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

বাণিজ্যিক বিরোধকে চাঁদাবাজির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের এই পদ্ধতি বাংলাদেশের পোর্ট-সিটি করিডরে বেশিদিনের একটি সমস্যা। সিএনএফ এজেন্টরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পণ্য খালাস ও কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করেন, আর এই খাতে জড়িত প্রতিযোগিতা ও মতভেদ অনেক সময় স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্রের কাছে সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

হামলার বিস্তারিত

এজাহারে রফিকুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে দর্শনা রেলগেট এলাকায় তাঁর অফিসে লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র নষ্ট করে। এ সময় অফিসে রাখা ২৩ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা ও স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক লুট করা হয়।

হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফটোকপি মেশিন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় অফিসে থাকা ২৩ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা ও স্বাক্ষর করা দুটি ব্যাংক চেক লুট হয়েছে।

এই ধরনের হামলায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, ব্যবসায়ীর মানসিক চাপ ও স্থানীয় বাণিজ্য পরিবেশে আস্থা-হানিরও গভীর প্রভাব পড়ে। একজন সিএনএফ এজেন্টের অফিসে এত বড় পরিমাণ নগদ টাকা রাখা স্বাভাবিক হলেও, হুমকির পরপরই হামলা চালানো মানে হলো চক্রটি লক্ষ্যভেদ করে অপারেশন পরিচালনা করছিল।

পুলিশি ব্যবস্থা ও মামলা

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন চারজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর জমা দেওয়া অভিযোগের আলোকে যুবদল নেতা ব্রাইট ও ছাত্রদল নেতা আমিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুক্রবার রাতেই ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে সন্ত্রাস দমন আইন ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয় দর্শনা থানায়।

দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যুবদলের বহিষ্কার সিদ্ধান্ত

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দর্শনা পৌর যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত ওই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনােম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নওনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এত দ্রুত — ঘটনার পরপরই — বহিষ্কার সিদ্ধান্ত নেওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নজিরবিহীন নয়, তবে এটি নির্দেশ করে দলটি চাঁদাবাজি-ভাঙচুরের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চায় না। দর্শনার মতো বাণিজ্য-কেন্দ্রিক এলাকায় রাজনৈতিক কর্মীদের এই ধরনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আস্থা-হানিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা দীর্ঘমেয়াদে এলাকার অর্থনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is চ দ র দ ব ত ব?

চ দ র দ ব ত ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চ দ র দ ব ত ব matter?

চ দ র দ ব ত ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.