Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রাম বন্দর: ১৩ দিনে পাঁচ জাহাজের সংঘর্ষ, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

Published Agustus 18, 2026 · Updated Agustus 18, 2026 · By Matthew Wilson - banglajibon.com

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

চট্টগ্রাম বন্দরে ১৩ দিনে পাঁচটি জাহাজে সংঘর্ষ — নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

দুই সপ্তাহে পাঁচটি ঘটনা

Banglajibon.com – চট টগ র ম বন দর - মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমান্তে পাঁচটি জাহাজে ধাক্কার ঘটনা ঘটেছে। কোনো হতাহত বা বড় ধরনের পরিবেশ-দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেলেও, সংশ্লিষ্ট মহলগুলো বিষয়টিকে গুরুতর আশঙ্কার সূচক হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমুদ্র-উত্তাল এবং আউটার অ্যাংকরেজে জায়গার অভাব এই ধাক্কাগুলোর মূল কারণ।

এমটি সি স্পাইকের ইঞ্জিন-রুম প্লাবিত

বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার বহির্নোঙরে পাশাপাশি নোঙর করা ছিল ৩৩ হাজার টন ডিজেলবাহী ট্যাংকার এমটি সি স্পাইক ও গমবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি সান শাইন। সেদিন দুপুরে সমুদ্র-উত্তালের প্রভাবে দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সি স্পাইকের হাল-ক্ষতিতে পানি ঢোকে এবং ইঞ্জিন রুম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়। জেনারেটর ও প্রধান ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ায় পুরো জাহাজে বিদ্যুৎ-বিপর্যয় দেখা দেয়। রাতের বেলা জরুরি ব্যাটারির সাহায্যে যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হয়।

জোয়ার-ভাটার প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ায় দুর্ঘটনাস্থলে ফ্লোটিং অয়েল বুম স্থাপন করে জাহাজটি ভাসমান রাখা হয়েছে। সব কার্গো ট্যাংক বন্ধ ও নিরাপদ অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে ইঞ্জিন রুম পুরোপুরি প্লাবিত এবং পাওয়ার সিস্টেম বিকল হওয়ায় জাহাজটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ফিলিপাইনের ২৪ জন নাবিক অক্ষত। ডিজেল-ট্যাংকগুলো অক্ষত থাকায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়েনি। ফাটলের মধ্য দিয়ে তেলের ট্যাংকেও পানি প্রবেশ করেনি। উল্লেখ্য, জাহাজে ছিল ৩৩ হাজার টন ডিজেল — সম্পূর্ণ দাহ্য পদার্থ। ধাক্কার পর আগুন লাগার আশঙ্কা ছিল; তা হলে আশপাশের জাহাজগুলোও আক্রান্ত হতে পারত।

এ ঘটনার পর নৌবাণিজ্য অধিদপ্তর দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যার রিপোর্ট সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে।

আলফা অ্যাংকরেজে আরেক ধাক্কা

গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বহির্নোঙরের আলফা অ্যাংকরেজে সিমেন্ট-কাঁচামাল (স্ল্যাগ) বহনকারী এমভি আনাসসা প্রবল স্রোতের কারণে পাশে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই জাহাজের নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন।

স্টিয়ারিং-গিয়ার বিকল, নৌবাহিনীর বাঁধে আটকে পড়ে কনটেইনার-জাহাজ

৩ আগস্ট বেলা সাড়ে ২টার দিকে মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার-জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাস চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশমুখে পৌঁছালে এর স্টিয়ারিং গিয়ার বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি প্রথমে ২ নম্বর লাল সংকেত-বুয়েরে ধাক্কা দেয়। এরপর ভাসতে ভাসতে নৌবাহিনীর স্থাপনার পাশের পাথরের বাঁধে আটকে পড়ে। এই ঘটনার জন্যও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. রেফাইয়েত হামিম জানান, শনিবার দিবাগত রাতে প্রবল স্রোতের কারণে এমভি আনাসসা নোঙরকৃত এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য স্পর্শ করে। কোনো হতাহত, পানি-প্রবেশ বা পরিবেশ-দূষণ ঘটেনি। উভয় জাহাজ নিরাপদে আলাদা হয়ে নোঙর করেছে এবং বর্তমানে নৌচলাচল স্বাভাবিক। দুই জাহাজের ২১ জন ক্রু নিরাপদ।

প্রতিটি ঘটনা আলাদা। সে হিসেবে তদন্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ঘটনাগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রবল স্রোতের কারণেই হচ্ছে।

নৌবাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রধান ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী বলেন:

আমি দেখেছি, ৯০ শতাংশ জাহাজ দুর্ঘটনার কারণ হিউম্যান এরর। এটিও ব্যতিক্রম হবে না। কর্ণফুলীর মোহনা, সাগরের স্রোত কেমন আমরা সবাই জানি। হঠাৎ করেই স্রোত এসেছে; বিষয়টি এমন না। নেভিগেশনের মূল কথাই হলো তথ্য সংগ্রহ, অ্যাসেসমেন্ট, এরপর পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বন্দর-মোহনা ও বহির্নোঙরের মতো ক্রিটিক্যাল স্থানে অভিজ্ঞতার সমন্বয় অপরিহার্য; না হলে দুর্ঘটনা অনিবার্য। ডিজাস্টার-প্রতিরোধে এখনই সতর্কতার প্রয়োজন। ১৫ দিনে পাঁচটি জাহাজে সংঘর্ষ চিন্তার বিষয় — জাহাজের আধিক্য কি প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তা নির্ণয় করা কঠিন।

পাইলটের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা-বিষয়ে মতভেদ

বন্দরের মেরিন বিভাগের দাবি, নেভিগেশনের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় গাইডের দূরদর্শিতা ও উপযুক্ত সমন্বয়ের অভাব ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সামুদ্রিক প্রবল স্রোতের পূর্বাভাস জানা থাকার পরও নোঙরকৃত জাহাজের খুব কাছাকাছি বিপজ্জনকভাবে অগ্রসর হওয়া এবং সঠিক নেভিগেশনাল সিদ্ধান্ত না নেওয়া ভুল ছিল। এই প্রেক্ষাপটে পাইলটের ভূমিকা পর্যালোচনার সুপারিশ এসেছে।

পাইড শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলছেন:

আবদুল কাদির মেরিন একাডেমির ইনস্ট্রাক্টর। ফলে অভিজ্ঞতার ঘাটতির অভিযোগ সত্য নয়। এটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

পৃথক তদন্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ, বন্দরের স্থাপনায় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নির্ধারণে দুই সংস্থাই পৃথক কমিটি গঠন করেছে। নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, অধিদপ্তরের দুই সদস্যের কমিটি প্রকৃত কারণ, স্থাপনা-ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ-কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন দেবে। রিপোর্ট প্রাপ্তির পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী মন্তব্য করেন, এই সময়ে সাগর-উত্তাল থাকে এবং আউটার অ্যাংকরেজে জায়গার অভাব থাকে — এই দুই কারণেই সংঘর্ষ ঘটে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is চট টগ র ম বন দর?

চট টগ র ম বন দর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চট টগ র ম বন দর matter?

চট টগ র ম বন দর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.