Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব: হাসপাতালে কাতরাচ্ছে শিশুরা

Published September 19, 2026 · Updated September 19, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

চট্টগ্রামে হামের চাপ বাড়ছে, হাসপাতালের শয্যা সংকটে শিশু রোগীরা

Banglajibon.com – চট টগ র ম হ ম র - চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৫ উপজেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত মার্চের মাঝামাঝি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৮০ জন। তাদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৮৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও এখনো ২৯৬ জন হাসপাতালে আছে। হাম ও হামের মতো উপসর্গে এ সময় মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে হাসপাতালের বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন। প্রতিদিন নতুন রোগী আসছে, যাদের বড় অংশই শিশু। উৎকণ্ঠিত স্বজনেরা শিশুদের নিয়ে শয্যার অপেক্ষায় থাকছেন; অনেকের চিকিৎসার জায়গা হয়েছে মেঝেতে। প্রচণ্ড গরম ও বিদ্যুৎ-সংকট আক্রান্ত শিশুদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

নগরেই রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব বলছে, বৃহস্পতিবার মহানগর ও ১৫ উপজেলা মিলিয়ে নতুন করে ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৪ জনই নগরের বাসিন্দা। মহানগরে মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৭১২ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৭ হাজার ৪২৫ জন এবং ভর্তি রয়েছে ২৮৭ জন। পরীক্ষায় নগরে ৪৮৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।

জেলার ১৫ উপজেলায় একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৬৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৫৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং নয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলাগুলোতে পরীক্ষায় ২৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে সেখানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

মার্চ থেকে হামের পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো নমুনার সংখ্যা ১৬ হাজার ৯৬০টি। পরীক্ষায় চট্টগ্রামে মোট ৭৪৩ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৮ জন, আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। নগর এলাকায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ১৪টি।

শয্যার চেয়ে রোগী বেশি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হামের বিশেষায়িত ইউনিটে গিয়ে দেখা গেছে, শয্যার স্বল্পতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে একটি বেডে দুই শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের জন্য বেড মেলেনি, তাদের মেঝেতে বিছানা পেতে রাখা হয়েছে। অনেক অভিভাবক শিশুকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেছেন।

এই ইউনিটে হামের রোগীর জন্য নির্ধারিত শয্যা ৫০টি। পিএসইউ ওয়ার্ডে রয়েছে আরও ১০টি বেড, আর অন্যান্য ওয়ার্ডে আছে ১৬টি আইসোলেশন শয্যা। কিন্তু প্রতিটি জায়গাতেই রোগীর সংখ্যা সক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। ফলে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি অনেক শিশুর নিউমোনিয়াসহ নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে। হাম সাধারণত জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হতে পারে; কিন্তু জটিলতা তৈরি হলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। তাই শিশু অসুস্থ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

একটি শিশুর দীর্ঘ হাসপাতালে থাকা

বিশেষায়িত ইউনিটের মেঝেতে চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে হালিশহরের মো. রিফাত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর ২৮ দিন ধরে হাসপাতালে আছে শিশুটি। সন্তানের দীর্ঘ কষ্ট দেখে মা শিরিন আক্তার বারবার ভেঙে পড়ছেন। ওয়ার্ডে থাকা অন্য অনেক পরিবারের চিত্রও একই রকম—শিশুর অসুস্থতা, অনিশ্চয়তা এবং ভিড়ের মধ্যে চিকিৎসা পাওয়ার সংগ্রাম।

হাসপাতালে অবস্থানরত শিশুদের স্বজনদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে ক্লান্তিকর। একদিকে শিশুর জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে দুশ্চিন্তা; অন্যদিকে জায়গার অভাব, গরম এবং দীর্ঘ অপেক্ষা। ভিড় বেশি হওয়ায় একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও রোগীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিকা ও পৃথক রাখার ওপর গুরুত্ব

চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক সেখ ফজলে রাব্বি হাম প্রতিরোধে টিকাদান এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

“হাম প্রতিরোধের দুটি বড় উপায় হলো টিকাদান ও আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখা। হাসপাতালের পাশাপাশি বাড়িতেও আক্রান্ত রোগীকে পৃথক রাখতে হবে। তবে হাসপাতালে সেই সুযোগ নেই।”

এই বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, আক্রান্ত শিশুর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষার দিকেও নজর দিতে হবে। বিশেষত উপসর্গ দেখা দিলে শিশুদের ভিড়পূর্ণ পরিবেশে নেওয়া বা অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। হাসপাতালের সীমিত জায়গায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা আরও জটিল হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে সংকট সামলাতে অতিরিক্ত প্রস্তুতি প্রয়োজন হবে।

“হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংকট মোকাবিলায় বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, হাম প্রতিরোধে টিকার আওতা নিশ্চিত করা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং আক্রান্তদের যথাসম্ভব আলাদা রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে পরিবার ও সম্প্রদায় পর্যায়ে সচেতনতারও বড় ভূমিকা রয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is চট টগ র ম হ ম র?

চট টগ র ম হ ম র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চট টগ র ম হ ম র matter?

চট টগ র ম হ ম র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.