Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

চট্টগ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা বলছে পুলিশ

Published September 11, 2026 · Updated September 11, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

চট্টগ্রামে ভাড়া নেওয়া ১৪ ফ্ল্যাটে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক, গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিক

Banglajibon.com – চট টগ র ম ব ড় ভ - চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন বিভিন্ন দেশের ৬৩ জন নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, দেড় মাস ধরে সেখানে থেকে তাঁরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) এবং খুলশী থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের নাগরিক ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন এবং ভিয়েতনামের ১ জন রয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, আটকদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের তথ্য

শুক্রবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই চক্রটি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসা ব্যবহার করে অনলাইনভিত্তিক অপরাধে যুক্ত ছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাড়া বাসায় থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে সংঘবদ্ধভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চক্রটির দেশীয় ও বিদেশি সহায়তাকারী রয়েছে। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থান চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য এলাকাতেও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

জব্দ করা হয়েছে ফোন, ল্যাপটপ ও পরিচয়পত্র

অভিযানের সময় ফ্ল্যাটগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ১৩৪টি মুঠোফোন, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ এবং একটি স্যামসাং মনিটর। এ ছাড়া একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ডও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জব্দ তালিকায় তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড রয়েছে। এসব নথি ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করে চক্রটির যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং অনলাইন কার্যক্রমের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এবং তাঁদের পলাতক সহযোগীরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং আইনসম্মত কর্তৃত্ব ছাড়া ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমেও তাঁরা অপরাধ করে থাকতে পারেন বলে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভাড়া বাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কার্যক্রম

আবাসিক এলাকার একটি ভবনের এতগুলো ফ্ল্যাট একসঙ্গে ভাড়া নেওয়ার ঘটনা তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ বলছে, আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে অবস্থান করার মাধ্যমে দলটি নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিস্তৃত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক থাকায় তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিজিটাল প্রতারণার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, সিমকার্ড এবং অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগের সরঞ্জাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জব্দ করা ১৩৪টি ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপের তথ্য পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগী, ব্যবহৃত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধপদ্ধতি বা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়নি।

পাসপোর্ট না থাকার বিষয়টিও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। গ্রেপ্তারদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। উদ্ধার হওয়া পরিচয়পত্রগুলোও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচিতি ও যোগাযোগের সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আইনি প্রক্রিয়া চলছে

ফয়সাল আহম্মদ জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে জব্দ করা সরঞ্জামের ফরেনসিক পরীক্ষা, পলাতক সহযোগীদের শনাক্তকরণ এবং চক্রটির সম্ভাব্য আর্থিক ও ডিজিটাল যোগাযোগের অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্যও অনলাইন লেনদেন ও ডিজিটাল যোগাযোগে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। অচেনা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভন, সন্দেহজনক ওয়েবসাইট, অনিরাপদ লিংক কিংবা যাচাইবিহীন আর্থিক অনুরোধে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে চট্টগ্রামের এই অভিযানে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা চক্রটি কোন কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is চট টগ র ম ব ড় ভ?

চট টগ র ম ব ড় ভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does চট টগ র ম ব ড় ভ matter?

চট টগ র ম ব ড় ভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.