গজারিয়ায় সুবিধাবঞ্চিতরা পেলেন বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
গজারিয়ায় বিনা মূল্যের চক্ষুসেবায় প্রায় এক হাজার মানুষের চিকিৎসা
Banglajibon.com – গজ র য় য় স ব ধ - মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ মানুষের জন্য আয়োজিত দিনব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা শিবিরে প্রায় এক হাজার রোগী বিনা মূল্যে সেবা পেয়েছেন। চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি ছানি অপারেশনের জন্য ১০০ জন নারী ও পুরুষ রোগীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে উপজেলার আনারপুরায় গজারিয়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি ও ইসলামুল হক চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রম চলে। চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকের জন্য কাছাকাছি স্থানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগটি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা, পরামর্শ ও অপারেশনের প্রস্তুতি
শিবিরে আগত রোগীদের চোখ পরীক্ষা করে তাঁদের সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। যাঁদের ওষুধ প্রয়োজন, তাঁদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ছানি আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাঁদের অপারেশন প্রয়োজন বলে নির্ধারণ করা হয়েছে, তাঁদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বিনা মূল্যের অস্ত্রোপচারের জন্য।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত ১০০ রোগীর ছানি অপারেশনের আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ছানি একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলিত থাকলে দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ পেলে অনেক মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা, কাজকর্ম ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সহজ হয়।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে গজারিয়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি। চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করেন চাঁদপুরের মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। সহযোগিতায় ছিল রোটারি ক্লাব অব ধানমন্ডি।
দীর্ঘদিনের সেবামূলক উদ্যোগ
চক্ষু চিকিৎসা শিবিরের উদ্বোধন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানে গজারিয়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মফিজুল ইসলাম আলো, সহসভাপতি মো. এবাদুল্লাহ, যুগ্ম সচিব অ্যাডভোকেট আশরাফুল করিম বাবু, প্রকাশনা সচিব গাজী আলাউদ্দিন, কার্যকরী সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা মো. মুরাদ হোসাইন এবং শহিদুজ্জামান মেনন উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এই শিবিরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের পক্ষে নিয়মিত চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা বা অপারেশনের ব্যয় বহন করা কঠিন, তাঁদের জন্য এ ধরনের আয়োজন বড় সহায়তা হয়ে ওঠে।
আমাদের সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি এএফএম আব্দুর রহমান প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। গজারিয়া উপজেলার একাধিক কৃতী সন্তানসহ আমরা দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে এই চক্ষু শিবির পরিচালনা করে আসছি। গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধ করাই এই শিবিরের প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মহাসচিব মফিজুল ইসলাম আলোর বক্তব্যে উঠে আসে, শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় সচেতনতা তৈরি করাও এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। চোখে ঝাপসা দেখা, দূরের বস্তু দেখতে অসুবিধা, আলোতে কষ্ট হওয়া কিংবা ছানির উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের শিবিরে মানুষের সামনে স্পষ্টভাবে আসে।
অর্থাভাবে থেমে থাকা চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা
শিবিরে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয়রা বিনা খরচে পরীক্ষা ও পরামর্শ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ছানি অপারেশনের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে অনেকেই আগে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেননি। তাঁদের কাছে এই সুযোগটি স্বস্তি ও আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।
সত্তর বছর বয়সী আছিয়া খাতুন জানান, তাঁর স্বামী নেই এবং তাঁর ছেলেরা অটোরিকশা চালান। কম দেখতে পাওয়ার কারণে তিনি স্থানীয় এক চক্ষু চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে দুই চোখে ছানি অপারেশনের প্রয়োজনের কথা বলা হয়। অপারেশনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাগবে জানার পর পরিবারের পক্ষে সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
স্বামী নেই, ছেলেরা অটোরিকশা চালায়। চোখে কম দেখার কারণে স্থানীয় চক্ষু চিকিৎসককে দেখালে দুই চোখে ছানি অপারেশনের কথা বলেন। এতে ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু এত টাকা সন্তানরা জোগাড় করতে না পারায় অপারেশন করতে পারিনি। এখানে আসার পর তাঁরা বিনা মূল্যে অপারেশন করবেন বলে জানিয়েছেন। আমি খুব খুশি।
আছিয়া খাতুনের মতো মানুষের জন্য চক্ষুসেবা কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়; এটি স্বনির্ভরতা, নিরাপদ চলাচল এবং পরিবারে স্বাভাবিকভাবে ভূমিকা রাখার সঙ্গেও যুক্ত। দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হলে বয়সী মানুষদের দৈনন্দিন কাজ কঠিন হয়ে পড়ে, আর ব্যয়বহুল চিকিৎসা অনেক পরিবারকে সিদ্ধান্তহীনতায় রাখে।
গজারিয়ার এই শিবিরে রোগী বাছাই, পরীক্ষা, ওষুধ বিতরণ এবং পরামর্শ—সবকিছু এক জায়গায় পাওয়া যাওয়ায় চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তিও কমেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নিয়মিত এমন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চোখের রোগ দ্রুত শনাক্ত হবে এবং প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব কমাতে সহায়তা মিলবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গজ র য় য় স ব ধ?গজ র য় য় স ব ধ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গজ র য় য় স ব ধ matter?গজ র য় য় স ব ধ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.