Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

খুলনা মহানগর: ডেঙ্গুতে সাত দিনে মৃত্যু ৫, রেড জোন ৪ ওয়ার্ড

Published Agustus 20, 2026 · Updated Agustus 20, 2026 · By Matthew Wilson - banglajibon.com

Foto : Matthew Wilson - banglajibon.com

খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সপ্তাহে পাঁচ মৃত্যু, হাসপাতালে শয্যা সংকট

Banglajibon.com – খ লন মহ নগর - চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বর্তমান পর্যন্ত খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৮২৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ২৬৭ জন। বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫০২ জন রোগী। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে এ পর্যন্ত ৩৯ রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিভাগে চলতি বছরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। এর মধ্যে খুলনা জেলাতেই মারা গেছেন ১৪ জন, বাগেরহাটে ১ জন। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়। এর ফলে গত এক সপ্তাহে খুমেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর প্রাণহানি ঘটে।

বিভাগে ২৪ ঘণ্টার ভর্তির চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। খুলনার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ১০৩ জন, যার মধ্যে খুমেকে ৩৫ জন। বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে ১২৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। জেলার অন্যান্য হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৩৪৪ রোগী ভর্তি আছে।

খুলনা সিটিতে ওয়ার্ডভিত্তিক ঝুঁকি-বিভাজন

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) তৈরি পরিসংখ্যান অনুযায়ী নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটি ওয়ার্ডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ এই রেড জোনে চলতি মৌসুমে মোট ২৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

রেড জোনের মধ্যে ওয়ার্ড ৩০-এ আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ — ১১১ জন। দ্বিতীয় স্থানে ওয়ার্ড ২৯-এ ১০০ জন শনাক্ত হয়েছে। ওয়ার্ড ২৮-এ ৮০ জন এবং ওয়ার্ড ২২-এ ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।

মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ 'কমলা জোন' ঘোষণা করা হয়েছে ওয়ার্ড ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৭-কে। এই পাঁচ ওয়ার্ডে মোট ২৬৮ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ 'হলুদ জোনে' থাকা ওয়ার্ড ১৫, ২০, ২৫ ও ৩১-এ এ পর্যন্ত ১১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালে শয্যা সংকট ও রোগীদের অভিযোগ

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় অন্য রোগীর সঙ্গে বিছানা পেতে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, কেসিসির মশকনিধন কর্মসূচি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো কাজে আসছে না।

হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

— খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান

কেসিসির পালিত পদক্ষেপ ও কর্তৃপক্ষের অবস্থান

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এডিস মশার বিস্তার রোধে নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। মশকনিধনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য কেসিসিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পজিটিভ আসা রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতেই ওয়ার্ডভিত্তিক আক্রান্তের তালিকা তৈরি করা হয়।

— কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরীফ শাম্মীউল ইসলাম

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেসিসির ওয়ার্ডগুলোকে ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন জোনে ভাগ করে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রে মাধ্যমে মশকনিধন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালায় মশকনিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে হুইল ব্যারো ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

— শরীফ শাম্মীউল ইসলাম

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মন্তব্য

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৮২৩ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়াপত্র পেয়েছে ৩ হাজার ২৬৭ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৩৯ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।

— খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ মো. মোশারফ হোসেন

কেসিসি প্রশাসকের সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সতর্ক করেছে, খুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। সরকারও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আরও দুই-তিন মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

— কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসি ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া খুমেক হাসপাতাল, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মনিটরিং

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is খ লন মহ নগর?

খ লন মহ নগর is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does খ লন মহ নগর matter?

খ লন মহ নগর matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.