Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

খুলনায় চোর সন্দেহে গণপিটুনির ৫ দিন পর যুবকের মৃত্যু

Published September 10, 2026 · Updated September 10, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

কুয়েটের ছোট গেট এলাকায় মারধরের পাঁচ দিন পর যুবকের মৃত্যু

Banglajibon.com – খ লন য় চ র সন দ - খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজমীর (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। চুরির সন্দেহে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

সাজমীর খুলনা নগরীর তেলিগাতী বুচিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রুহুল কুদ্দুসের ছেলে। গত শনিবার রাতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েটের ছোট গেটসংলগ্ন এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরদিন সকালে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

পরিবারের অভিযোগ

নিহতের মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে কুয়েটের এক শিক্ষার্থী সাজমীরকে নিজের বাসায় আসতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এরপর কয়েকজন বহিরাগতকে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের দাবি।

“তাঁকে চুরির অপবাদ দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে আহত হলে পরদিন সকালে সাজমীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একাধিক দফায় সাজমীরকে পেটানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের ঘটনায় কেউ তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানার ভিন্ন বক্তব্য

মারধরের স্থান কোন থানার আওতায় পড়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হালিমুর রহমান জানান, মূল ঘটনা খানজাহান আলী থানার এলাকায় ঘটেছে। অন্যদিকে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার বলেন, ঘটনাস্থলটি আড়ংঘাটা থানার সীমার মধ্যে।

মো. আবুল বাশার জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। তবে তাঁর থানার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে থাকলে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই থানার সীমারেখা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য থাকলেও একজন যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং দায় নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীলদের জন্য এ ধরনের ঘটনায় প্রাথমিক কাজ হলো ঘটনাস্থল, সময়, উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং আহত ব্যক্তির চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা। কারণ গুরুতর মারধরের ঘটনায় সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুলিশ সদস্যের দেখা ঘটনার বর্ণনা

ঘটনার রাতে কুয়েট রোড এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন খানজাহান আলী থানার উপপরিদর্শক দীপক। তিনি জানান, রাত আড়াইটা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে কুয়েটের ছোট গেটের কাছে গিয়ে তিনি এক যুবককে বসিয়ে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। তখন যুবকটির বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ২৫ বছর বলে মনে হয়েছিল।

“তাঁকে দাঁড়াতে বললে তিনি দাঁড়াতেও পারছিলেন না।”

উপপরিদর্শক দীপকের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো অপরাধ করে থাকলেও তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সাজমীরকে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল আড়ংঘাটা থানার অধীনে মনে হওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন। পরে তিনি জানতে পারেন, আহত যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

“ছেলেটি অপরাধ করলে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা যেত। কিন্তু তাঁকে বেদম মারপিট করা হয়েছে।”

আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

চুরির অভিযোগ উঠলেই কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা আইনসম্মত কোনো পথ নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিরাপদে আটকে রাখা এবং পুলিশকে খবর দেওয়া—এসবই প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। গণপিটুনির মতো ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়ে যেতে পারে এবং নিরপরাধ কেউও গুরুতর ক্ষতির শিকার হতে পারেন।

সাজমীরের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের জন্য শোকের পাশাপাশি ন্যায়বিচারের প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মারধরে কারা অংশ নিয়েছিল, কী অভিযোগে তাঁকে ডাকা হয়েছিল, কতক্ষণ তিনি নির্যাতনের শিকার ছিলেন এবং চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

কুয়েটের ছোট গেট এলাকার এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোনো অপরাধের অভিযোগ দেখা দিলে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা রোধ করা জরুরি। সন্দেহকে প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়ে সহিংসতা ঘটলে একটি অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত হতে পারে।

পুলিশের তদন্তে ঘটনার প্রকৃত স্থান ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নির্ধারিত হলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি পরিষ্কার হবে। সাজমীরের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Reading

Frequently Asked Questions

What is খ লন য় চ র সন দ?

খ লন য় চ র সন দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does খ লন য় চ র সন দ matter?

খ লন য় চ র সন দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.