ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজশাহীর সিটি হাটে পশু পরিবহনের গতিবিধি অসাধারণ হয়ে উঠেছে
সড়ক প্রকৃতি স্বাক্ষর করছে পরিবহনকারীদের উপর
ক রব ন র পশ পর বহন – ঈদুল আজহা আসা অতিক্রম করে রাজশাহীর সিটি হাটে পশু পরিবহনের গতিবিধি প্রায় অপেক্ষাকৃত বেশি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী হাটে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার গবাদিপশু হাতবদল হয়। এগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশু হাটে চলে যাচ্ছে। তবে পরিবহন প্রক্রিয়ায় চালকদের সম্মুখে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ জানাচ্ছেন।
চালকদের দাবি, সিটি হাট থেকে পশু বাহী ট্রাক বের হওয়ার পর বেলপুকুর এলাকায় প্রথম বাধার মুখে পড়তে হয়। সেখানে পুলিশ সদস্যদের কাছে ট্রাক প্রতি ৫০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের স্থানীয় নাম ব্যবহার করে আরও ৩০০ টাকা বেশি দিতে বাধ্য করা হয়।
যানবাহন নাটোরের বনপাড়া পার হওয়ার পর সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে টহল পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ট্রাক প্রতি ৫০০ টাকা আদায় করে। গোড়াই এলাকায় স্থানীয় বখাটেদের জন্য আরও ২০০ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়।
গাবতলী এলাকায় প্রবেশের পর চাঁদাবাজি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গাবতলী সহ শনির আখড়া, মদনপুর, গাউসিয়া ও আড়াইহাজার এলাকাতে এমন অভিযোগ রয়েছে বলে জানান চালকরা।
চট্টগ্রাম পর্যন্ত পশু বাহী ট্রাকের ভাড়া প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। তবে পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা দিতে গিয়ে আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়। ট্রাকমালিকদের মতে, রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত একটি ট্রাকের ভাড়া ৪০ হাজার টাকার কাছাকাছি।
হাইওয়ে পুলিশের উত্তর বিভাগের উপমহাপরিদর্শক আব্দুল্লাহ হিল বাকী জানান, পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চালকদের মহাসড়কে চাঁদাবাজির চিত্র তুলে ধরছেন। আমার মতে পরিস্থিতি আগের চেয়ে উন্নতি হলেও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।’
