কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত ২২
কুষ্টিয়ার ভৈরবাজারে কুকুরের কামড়ে একদিনে আহত ২২ জন — নারী-শিশুসহ পুরো এলাকায় আতঙ্ক
Banglajibon.com – ক ষ ট য য় ২৪ ঘণ - কুষ্টিয়া জেলার ভৈরবাজার উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনিভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে কুকুরগুলোর কামড়ে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ এবং শিশু রয়েছে। রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে উপজেলার দুটি ইউনিয়নে পৃথকভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। হঠাৎ করে এত সংখ্যক মানুষকে একই সময়ে আক্রমণ করা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে।
কোন এলাকাগুলোতে আক্রমণ
স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ৬৮ পাড়া এলাকায় ১২ জন এবং মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর ও তার আশপাশের এলাকায় ১০ জন কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ জন।
বাহিরচর ইউনিয়নের আহতদের মধ্যে রয়েছেন — জহুরুল, আব্দুল হান্নান, নাসের আলী মোল্লা, ডাবলু মোল্লা, জাহাঙ্গীর, রুবিনা, হালিম, বাবুল, রজিনা, রিফাদুল, বাইজিদ ও মানিক। অন্যদিকে মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর এলাকায় কামড়ানো ব্যক্তিদের তালিকায় আছে — মো. হালিম (৪০), বাইজিদ (৫), বাপ্পি (২৮), মোছা. রিজিনা খাতুন (৫৫), মো. ফিরাজুল (৪৫), মোছা. জামেলা খাতুন (৪০), মো. বাবলু (৫৫), মো. নাজমুল (২৩), মোহাম্মদ নুর (৬) ও মোছা. খাদিজা (১০)। তালিকা দেখলেই বোঝা যায়, আক্রান্তদের বয়স পরিসর খুবই বড় — পাঁচ বছরের শিশু থেকে পঞ্চাশ পাঁচ বছরের বয়স্ক নারী পর্যন্ত সবাই এই ঘটনার শিকার হয়েছেন।
চিকিৎসা ও মেডিকেল সাহায্য
সকল আক্রান্ত ব্যক্তি ভৈরবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভৈরবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কুকুরের কামড়ে আহত ২২ জনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের সবাইকে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন (অ্যান্টি-রেবিজ ভ্যাকসিন) প্রদান করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে; বাকিদের চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।
"কুকুরের কামড় থেকে রক্ষা পেতে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক রাখা প্রয়োজন। কেউ আক্রান্ত হলে কোনো ধরনের কালক্ষেপণ না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিই আমরা।" — ডা. মিজানুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
ডা. মিজানুর রহমানের এই পরামর্শের পেছনে একটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশে জলাতঙ্ক (রেবিজ) প্রতি বছর শতাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। কুকুরের কামড়ের পর যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন না দেওয়া হয়, তবে রোগটি মস্তিষ্কে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং তখন চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কামড়ের পর立্ভাবী বিলম্বকেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
বাহিরচর ইউনিয়নের একজন বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বিজলী মালিথা বিষয়টি নিয়ে বলেন:
"কুকুরের কামড়েই আমাদের বাহিরচর ইউনিয়নের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ কাজ করছে।"
এলাকাবাসীর এই উদ্বেগ বোঝা যায় সহজেই। যখন একই দিনে একই এলাকায় একাধিক মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়, তখন প্রতিটি পরিবারের শিশু বা বয়স্ক সদস্যের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে উঠে আসে। স্কুলে পাঠানোর আগে, বাজারে যাওয়ার সময় — দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে এখন একটি অতিরিক্ত চিন্তার বোঝা বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় মানুষগুলোকে।
প্রশাসনের অবস্থান ও আইনি বাধা
ভৈরবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত জানান, বেআইনি কুকুরের উপদ্রব সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সকালে কুকুরে কামড়ানো এক ব্যক্তি সহায়তা চাইতে তাঁর দপ্তরে এসেছিলেন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে একটি বড় আইনি বাধা রয়েছে। মহামান্য হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞা আদেশের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কুকুর মেরে ফেলার কোনো সুযোগ নেই। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে স্থানীয় প্রশাসন কুকুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে না, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউএনও আমিরুল আরাফাত আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আক্রান্ত এলাকাগুলোসহ পুরো উপজেলার সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পটভূমি ও বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের শহর ও উপশহর এলাকায় বেআইনি কুকুরের উপদ্রব একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। নগর পরিকল্পনায় পশু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন প্রায়শই হাতবান্দা হয়ে পড়ে। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আদেশগুলো সাধারণত কুকুর নিধনের বিপরীতে গৃহস্থালি পদ্ধতি বা পৌরসভার পক্ষ থেকে কুকুর ধরে মারার কাজে বাধা দেয়, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থার — যেমন স্টিরিলাইজেশন ক্যাম্পেইন, পোষা-কুকুরের নিবন্ধন, বা কুকুর আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন — জন্য পর্যাপ্ত কাঠামো অনেক সময় অনুপস্থিত থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ভৈরবাজারের ঘটনা কেবল একটি স্থানীয় ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়ে পশু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গাফিলতির একটি প্রতিফলন। ২২ জন মানুষের একদিনে আহত হওয়া, তার মধ্যে শিশু ও বয়স্ক নারীদের অন্তর্ভুক্তি, এবং প্রশাসনের আইনি বাধার মুখোমুখি অবস্থান — সব মিলিয়ে এটি একটি জরুরি নীতি-সমালোচনার দাবি তুলে ধরে। স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেভাবে দ্রুত সাড়া দিয়েছে তা প্রশংসনীয়, কিন্তু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা — কুকুর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা, এবং আইনি কাঠামোর পুনর্মূল্যায়ন — ছাড়া এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যায়।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক ষ ট য য় ২৪ ঘণ?ক ষ ট য য় ২৪ ঘণ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক ষ ট য য় ২৪ ঘণ matter?ক ষ ট য য় ২৪ ঘণ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.