কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউসে হামলা-লুটের অভিযোগ, পুলিশের ‘পরামর্শে’ যোগ হলো ‘চাঁদাবাজি’
হাজারীবাগের কুরিয়ার ওয়্যারহাউসে হামলা ও সরঞ্জাম নেওয়ার অভিযোগ
Banglajibon.com – ক র য় র স র ভ - রাজধানীর হাজারীবাগে একটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় সর্টিং সেন্টারের ওয়্যারহাউসে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর এবং প্রযুক্তি সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এ.জে.আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, নিয়ে যাওয়া সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ লাখ টাকা।
হামলার ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখার দাবি করলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে সংঘটিত ঘটনার দিকটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃতি যাচাইয়ের পর চাঁদাবাজির মামলা নেওয়া হচ্ছে। ডাকাতির আইনি সংজ্ঞার সঙ্গে এটি মেলে কি না, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
সন্ধ্যায় ওয়্যারহাউসে হামলার অভিযোগ
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৪৪ মিনিটে মেন্ডি ডেন্টাল কলেজ রোডে সিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে থাকা প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সেন্ট্রাল সর্টিং সেন্টারের অংশ, যেখানে বিভিন্ন পার্সেল ও পরিচালনাগত কার্যক্রমের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।
বুধবার সকালে প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিন হাজারীবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁর ভাষ্য, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ৩৫ থেকে ৪০টি মোটরসাইকেলে ওয়্যারহাউসের পশ্চিম ফটকে আসেন। তাঁদের অনেকের মুখে মাস্ক এবং মাথায় হেলমেট ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দলটির ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করে ওয়্যারহাউসের ভেতরে প্রবেশ করেন। অন্যরা বাইরে অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীদের মধ্যে আট থেকে নয়জনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আরও দু-তিনজনের হাতে শর্টগানের মতো অস্ত্র দেখা গেছে বলেও প্রতিষ্ঠানের দাবি।
প্রযুক্তি সরঞ্জাম নেওয়ার দাবি
লিখিত অভিযোগে ওয়্যারহাউস থেকে একাধিক নেটওয়ার্কিং, নজরদারি ও কম্পিউটার সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে একটি সিসকো কোর ডিভাইস, একটি রাউটার, ভিন্ন সক্ষমতার নয়টি ডাহুয়া এনভিআর এবং ১০ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার ৩৮টি হার্ডডিস্ক।
এ ছাড়া একটি সার্ভার র্যাক, ৪০টি ক্যামেরা, আটটি সিপিইউ, আটটি মনিটর এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য ৩১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সার্ভার, ক্যামেরা ও নেটওয়ার্ক ডিভাইস কোনো কুরিয়ার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে; এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা সরিয়ে নেওয়া হলে নজরদারি, তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিচালনাগত যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকে।
পুলিশ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়। বুধবার সকালে এডিসি, এসি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ওয়্যারহাউসটি পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ব্যবস্থা এবং অভিযোগে বর্ণিত সরঞ্জামের তথ্য যাচাই করা হলে হামলার ধরন ও ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
আগের ভয়ভীতি ও চাঁদা দাবির প্রসঙ্গ
প্রতিষ্ঠানের অভিযোগে ১৮ অক্টোবরের একটি ঘটনার কথাও এসেছে। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ওয়্যারহাউসে আসেন এবং অপারেশন ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনের খোঁজ করেন। তাঁকে না পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে তারা চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ থাকার দাবিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জুয়েল নামের একজন প্রতিষ্ঠানের অন্য একটি কার্যালয়ে হামলা, ডাকাতি ও দখলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। হামলার পর সাইফুল নামের এক ব্যক্তি ফোনে ঘটনা আড়াল করার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আফসার উদ্দিনের বক্তব্য, এর আগেও ক্যাপ্টেন ইমনের নামে প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। তিনি লিখিত অভিযোগে ডাকাতির পাশাপাশি চাঁদা দাবির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তবে চাঁদা না দেওয়ার কারণেই হামলাটি ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি। কারা হামলা চালিয়েছে, সেটিও তাঁর জানা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
“কুরিয়ার সার্ভিসে চাঁদাবাজির উদ্দেশে এসেছিল এবং চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করেছে, আমরা চাঁদাবাজির মামলা নেব।”
হাজারীবাগ থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনার মূল উদ্দেশ্য বিবেচনায় চাঁদাবাজির ধারায় মামলা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ডাকাতির পর্যায়ে পড়ে কি না, তা পরীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে।
মামলার ধারা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
আফসার উদ্দিন অভিযোগ করেন, থানায় যাওয়ার পর প্রথমে চুরির ধারায় মামলা করার কথা বলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তিনি ডাকাতির অভিযোগে লিখিত আবেদন দিয়েছেন এবং সেখানে চাঁদা চাওয়ার প্রসঙ্গও রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মিলছে না বলেও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, রাত ১০টার দিকে ওসি মো. মোশাররফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় চাঁদাবাজির মামলা নেওয়া হচ্ছে। আগে চুরির ধারা ব্যবহারের কথা উঠলেও পরে ঘটনাটির উদ্দেশ্য ও অভিযোগের বিষয়গুলো বিবেচনায় চাঁদাবাজির মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
হামলা, সরঞ্জাম নেওয়া, অস্ত্র প্রদর্শন এবং আগের চাঁদা দাবির অভিযোগ—সবগুলো বিষয়ই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের ক্ষয়ক্ষতি, মোবাইল যোগাযোগের তথ্য এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হলে ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ক র য় র স র ভ?ক র য় র স র ভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ক র য় র স র ভ matter?ক র য় র স র ভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.