কর্মকর্তাদের সামনেই ভেঙে পড়ল পুরোনো ব্রিজ, আহত ৪
পিরোজপুরে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ভেঙে আহত চারজন
Banglajibon.com – কর মকর ত দ র স মন - পিরোজপুর পৌর এলাকার পিটিআইসংলগ্ন বৌদ্ধপাড়া খালের ওপর থাকা একটি পুরোনো বেইলি ব্রিজের অংশ ধসে চারজন আহত হয়েছেন। সরকারি খাল দখলমুক্ত করা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ করে ফেরার সময় শনিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিজের কাছে অবস্থান করলেও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলা বিএনপির নেতা গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পজিটিভ পিরোজপুরের সাধারণ সম্পাদক ও জিটিভির পিরোজপুর প্রতিনিধি নাঈম তালুকদার, সংগঠনটির সহসভাপতি জুবায়ের আল মামুন এবং পিরোজপুর পৌরসভার সার্ভেয়ার সুপ্রতি হালদার। ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা খালে পড়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সকাল থেকে চলছিল খাল পরিষ্কার ও দখলমুক্ত করার কাজ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সরকারি খালগুলো দখলমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে শনিবার সকাল ৯টা থেকে অভিযান শুরু হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। নগর ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে খালের স্বাভাবিক প্রবাহের সম্পর্ক থাকায় এসব উদ্যোগে একাধিক এলাকার খালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযানের আওতায় শিকারপুর এলাকার নাপিতখালী খাল, পুলিশ লাইন সড়কের কুমারখালী খাল এবং পিটিআই-বৌদ্ধপাড়ার পাশের খালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চালানো হয়। খালে আবর্জনা জমে থাকলে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। এ কারণে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খালের ব্যবহারযোগ্যতা ও আশপাশের পরিবেশ—দুই বিষয়ই বিবেচনায় ছিল।
কার্যক্রমের একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন এবং অন্য কর্মকর্তারা বৌদ্ধপাড়া খালের মোহনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে ফেরার সময় উপস্থিত কয়েকজন খালের ওপরের পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ব্যবহার করে পার হচ্ছিলেন। তখন হঠাৎ কাঠামোটির একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
কর্মকর্তারাও ছিলেন ঘটনাস্থলের কাছেই
ব্রিজ ধসের সময় জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসক খুব কাছাকাছি ছিলেন। কাঠামোটি ভেঙে পড়লেও তাঁরা শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হননি। তবে তাঁদের সামনেই কয়েকজন খালে পড়ে আহত হওয়ায় অভিযানস্থলে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ঘটনার পর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে যান এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরোনো সেতু ও চলাচলের পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ছিল ঝুঁকির অভিযোগ
এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খালের ওপরের বেইলি ব্রিজটি অনেক দিন ধরেই নাজুক অবস্থায় ছিল। তাঁদের ভাষ্য, পুরোনো এই কাঠামো দিয়ে চলাচলের সময় আগে থেকেই সতর্কতা প্রয়োজন ছিল। দুর্ঘটনার পর তাঁরা এলাকার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও কালভার্টও পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বেইলি ব্রিজ সাধারণত অস্থায়ী বা দ্রুত স্থাপনযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দীর্ঘ ব্যবহারে এর বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই এমন কাঠামোতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল থাকলে নিয়মিত অবস্থা যাচাই, প্রয়োজন হলে চলাচল সীমিত করা এবং সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বৌদ্ধপাড়ার এ দুর্ঘটনা স্থানীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনেছে।
আহত নাঈম তালুকদার বলেন, ব্রিজটি আগে থেকেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল।
“খালের ওপর থাকা পুরোনো ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আমরা ব্রিজটির ওপর উঠতেই ভেঙে যায় এবং খালে পড়ে আহত হই।”
পৌরসভার সার্ভেয়ার সুপ্রতি হালদারও জানান, পরিচ্ছন্নতা ও খাল দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলাকালে ব্রিজটি ভেঙে এই ঘটনা ঘটে। তাঁর বক্তব্য, কাঠামোটি চলাচলের উপযোগিতা হারিয়েছিল।
“ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সরকারি খাল দখলমুক্ত করার সময়ে পৌরসভার পিটিআইসংলগ্ন বৌদ্ধপাড়া খালের ওপর ব্রিজটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।”
নিরাপদ চলাচলের দাবি
খাল পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত করার মতো জনস্বার্থের কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, শুধু ভেঙে পড়া ব্রিজটি নয়, আশপাশের পুরোনো সেতু, কালভার্ট ও পথচারী পারাপারের কাঠামোগুলোর অবস্থাও দ্রুত যাচাই করা হবে। ঝুঁকি চিহ্নিত হলে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা, মেরামত কিংবা বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা নেওয়া মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পিরোজপুরের এ ঘটনায় চারজন আহত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তবে ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে, পুরোনো অবকাঠামোর দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি উপেক্ষা করা হলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরাও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is কর মকর ত দ র স মন?কর মকর ত দ র স মন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does কর মকর ত দ র স মন matter?কর মকর ত দ র স মন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.