উন্নয়নের ভোগান্তিতে রাজশাহী
Table of Contents
উন্নয়নকাজের চাপে থমকে যাচ্ছে রাজশাহীর স্বাভাবিক চলাচল
Banglajibon.com – উন নয়ন র ভ গ ন ত – একদিকে চারটি ফ্লাইওভার, অন্যদিকে ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণ—দুই ধরনের বড় প্রকল্প একসঙ্গে চলায় রাজশাহীর বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দৈনন্দিন যাতায়াত কঠিন হয়ে উঠেছে। কোথাও রাস্তা আংশিক বন্ধ, কোথাও সরু পথ দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। খোঁড়াখুঁড়ির পর তৈরি গর্ত, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ভোগান্তি আরও বাড়ছে।
শহরের বাসিন্দাদের সময় নষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ যানজটে। বিকল্প পথ ধরতে গিয়ে অনেককে কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরতে হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন এবং ব্যবসায়িক পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। রাস্তার ভাঙা অংশ এড়িয়ে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
ফ্লাইওভার প্রকল্পে বাড়তি সময়
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্পে ২০২৩ সালের শেষ ভাগে চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণ শুরু হয়। প্রকল্পগুলোর প্রাথমিক সময়সীমা ছিল চলতি বছরের জুন পর্যন্ত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হয়নি। তিনটি ফ্লাইওভার সম্পন্ন করতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় চাওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বরের ফ্লাইওভার। এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। নির্মাণ দীর্ঘায়িত হওয়ায় নিউমার্কেট পর্যন্ত সড়কের চলাচল প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। এই এলাকার যাত্রী ও চালকদের নিয়মিতভাবে বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে।
রায়পাড়া রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভারের কাঠামো দৃশ্যমান হলেও সড়কটি এখনো পুরোপুরি যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। ফলে ওই পথে সরাসরি চলাচলের সুযোগ সীমিত। বিলশিমলা-বন্ধগেট এলাকায় নির্মাণকাজের কারণে রাস্তা সরু হয়েছে, আর বিলশিমলা-বহরমপুর ফ্লাইওভারের কাজ চলায় সিটি বাইপাস দিয়ে সরাসরি যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। যানবাহনকে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
কলাবাগান এলাকাতেও নির্মাণের প্রভাবে রাস্তার ব্যবহারযোগ্য অংশ কমে গেছে। ব্যস্ত সময়গুলোতে এই সংকীর্ণতা যানজটকে দীর্ঘ করে তুলছে। শহরের নানা অংশের সঙ্গে রেলগেট, কলাবাগান, রায়পাড়া ও বন্ধগেট এলাকার যোগাযোগ থাকায় এসব বাধার প্রভাব আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
“যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তাঁরা।” — ডিয়েনকো লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক সুবোধ চন্দ্র মিত্র
বন্ধগেট, রায়পাড়া ও গৌরহাঙ্গা রেলক্রসিংয়ের তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ পেয়েছে ডিয়েনকো লিমিটেড। বিলশিমলা এলাকার ফ্লাইওভার নির্মাণে নিয়োজিত মজিদ সন্সের নির্বাহী পরিচালক জারগিছুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁদের প্রকল্পের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করছেন।
“তাঁদের প্রকল্পের ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।” — জারগিছুর রহমান
লাইন না সরানোয় আটকে আছে গৌরহাঙ্গার কাজ
গৌরহাঙ্গা এলাকার ফ্লাইওভারের একটি অংশে গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন স্থানান্তর না হওয়ায় নির্মাণকাজ এগোচ্ছে না। নগর ভবন ও স্টেশন এলাকার অংশটি এ কারণে বন্ধ আছে। এসইএলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাসেল আলম বলেছেন, লাইন সরানোর কাজ শেষ না হলে সেখানে নির্মাণ চালানো সম্ভব নয়। তবে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অংশে কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে ওই অংশ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পাইপলাইন বসাতে কাটা হচ্ছে সড়ক
ফ্লাইওভারের পাশাপাশি ওয়াসার পাইপলাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পও নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার এক পাশ বন্ধ রেখে পাইপ বসানো হচ্ছে। তালাইমারী-ভদ্রা সড়কের নর্দানের মোড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ভদ্রা-নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল সড়ক, বারোরাস্তা-বুধপাড়া সড়ক, বড়বনগ্রাম থেকে নাদের হাজির মোড় এবং ছোট বনগ্রাম থেকে ভদ্রা পার্ক পর্যন্ত একই ধরনের সমস্যা রয়েছে।
অনেক জায়গায় পাইপ বসানোর পর মাটি দিয়ে রাস্তা ঢেকে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যানবাহনের চাপে সেই মাটি বসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে সেখানে কাদাপানি জমে থাকে, আর শুকনা দিনে উড়ে ধুলো। কাজ শেষ হওয়ার পরও কিছু সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
রায়পাড়া-কাশিয়াডাঙ্গা সড়ক, ছোট বনগ্রাম-চকপাড়া মোড়, সাধুর মোড় থেকে অগ্রণী স্কুল, দায়রাপাক মোড়, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনের পথ, ডাবতলা-সিটিহাট সড়ক, উপশহর-শাহ মখদুম থানা মোড়, বিনোদপুর-মির্জাপুর এবং চৌদ্দপাই থেকে বিমান চত্বর সড়কেও পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এসব পথের অনেকগুলোই স্থানীয় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ওয়াসা জানিয়েছে, পাইপলাইন বসানোর জন্য ইতিমধ্যে ১৪ কিলোমিটার সড়ক খোঁড়া হয়েছে। সামনে আরও ৩৪ কিলোমিটার সড়ক কাটার পরিকল্পনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য গত জুনের আগেই সিটি করপোরেশনকে ১৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ। সিটি করপোরেশনের হিসাবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক এই অর্থ।
নাগরিক জীবনে সময় ও নিরাপত্তার চাপ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রাদার তুহিন আলী প্রতিদিন রেলগেট হয়ে অটোরিকশায় অফিসে যান। তাঁর অভিজ্ঞতায়, নির্মাণকাজের কারণে রেলগেট ও কলাবাগান পার হতেই প্রায় ৩০ মিনিট লেগে যায়। কয়েক বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
“এক দিনের কাজ হচ্ছে এক মাসে। এই অবস্থায় একটা রাস্তা ব্যবহার করে সোজা পথে কোথাও যাওয়ার কোনো উপায় নেই।” — রায়পাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান
হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, কাজ শুরুর দিকে গতি থাকলেও ৫ আগস্টের পর তা থমকে যায় এবং পরে ধীর হয়ে পড়ে। তাঁর অভিযোগ, মূল সড়ক এড়িয়ে একাধিক বিকল্প পথে ঢুকতে হয় বলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, ফ্লাইওভার নির্মাণ, ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর এবং সড়ক সংস্কারের কাজগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল পেতে হলে নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা, যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা এবং খোঁড়া সড়ক দ্রুত মেরামত—এই তিন বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is উন নয়ন র ভ গ ন ত?
উন নয়ন র ভ গ ন ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does উন নয়ন র ভ গ ন ত matter?
উন নয়ন র ভ গ ন ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
