আগুন-লোহার জীবনে ৫৫ বছর, এখনো থামেননি অরুণ কর্মকার
ফটিকছড়ির পুরানো ঐতিহ্য জীবন্ত রাখেন অরুণ কর্মকার
আগ ন ল হ র জ বন – প্রাকৃতিক সন্ধ্যা আসার আগেই ফটিকছড়ির কাজিরহাট বাজারে লোহার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সকালের আলো বাজারকে আঁকড়ে ধরে থাকলেও আগুনে লাল হয়ে ওঠা লোহার চোখে তার সামগ্রিক সৌন্দর্য দেখা যায়। বাজারের পরিস্রাবে কোথাও বঁটি তৈরি হচ্ছে, আবার কোনো কোণে নতুন কৃষি সরঞ্জাম করা হচ্ছে। কাজিরহাট বাজারের ঐতিহ্য বহন করা অরুণ কর্মকার তার কাজে আপনাকে মনে করিয়ে দেন যে এই জায়গাটি কতটা জীবন্ত ইতিহাস। তার হাতুড়ির ছন্দময় শব্দ ছোট্ট কামারের দোকানে প্রতিদিন তৈরি হয়ে থাকে কৃষি সরঞ্জামের অস্তিত্ব ধারণ করে। এই আগুন, ধোঁয়া আর লোহার শব্দের মধ্যে অরুণ কর্মকারের জীবনের ৫৫ বছর কেটে গেছে। তিনি এখনো বাজারে বসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করেন, কিন্তু তার কর্মশালার আগুন কমেনি।
সামাজিক উত্তরাধিকার হিসেবে কাজ করেন অরুণ কর্মকার
১৯৭২ সালে তাঁর বাবা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে প্রথম হাতুড়ি ধরেছিলেন অরুণ কর্মকার। তখন থেকে কাজিরহাট বাজারের আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি নিজেকে এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে বলরাম কর্মকার অরুণের সঙ্গে এখনো দোকানে কাজ করেন। ছোট ছেলে তপু কর্মকার ওমানে চলে গেছেন, যেহেতু বিয়ে কয়েক বছর আগে হয়েছে তাঁর মেয়েকে। তাঁর কাছে এই কামারশিল্প শুধু পেশা নয়, উত্তরাধিকার; কৃষি সরঞ্জাম শুধু জীবিকা নয়, সামাজিক সম্পদ। সামনে ওঠা ঈদুল আজহা সামনে এলে বাজারটি যেন নতুন প্রাণ ফেরে। এক সময়ে কাজিরহাট বাজারের পুরোনো ক্রেতা জহুর আহমদ তার আস্থা এখনো অরুণ কর্মকারের প্রতি রাখেন। তিনি বলেন, ‘কারখানার তৈরি সরঞ্জামের চেয়ে অরুণ কর্মকারদের হাতে বানানো দা-বঁটি বেশি টেকসই এবং ধারালো। তাই আজও আমরা তাঁদের ওপর ভরসা রাখি।’
কৃষি সরঞ্জামের আয়তন ছোট কিন্তু সামগ্রিক অর্থে ভারী
অরুণ কর্মকারের কর্মশালায় লোহার টুকরো কেটে ওঠে সাধারণ সরঞ্জাম হিসেবে। দোকানের তিন-চারজন শ্রমিক সমানতালে কাজ করে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনে লোহা গরম করা আর হাতুড়ি পেটানো চলে। দোকানে বসে কখনো দা-বঁটির ধার পরীক্ষা করেন অরুণ কর্মকার, কখনো কাঠের হাতলে লিখে দেন মালিকের নাম। তাঁর নিপুণ হাতে সাধারণ লোহার টুকরো পরিবর্তিত হয়ে ওঠে ক�
