অবৈধভাবে মজুত রাখা ১২৯ বস্তা সার সরকারি দামে পেলেন কৃষকেরা
পবায় মজুত সার জব্দের পর সরকারি দামে পেলেন স্থানীয় কৃষকেরা
Banglajibon.com – অব ধভ ব মজ ত র খ - রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির গুদাম থেকে নিয়মের বাইরে রাখা ১২৯ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দের পর ওই সার স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে সারসংকটে চাষাবাদ নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বুধবার দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইবনুল আবেদীন। ভ্রাম্যমাণ আদালত কৃষক মামুনুন্নবী মিলনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। প্রশাসনের ভাষ্য, কৃষকের প্রয়োজনের জন্য সারের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে এ ধরনের মজুতের বিরুদ্ধে নজরদারি চলবে।
গুদাম থেকে ১২৯ বস্তা সার উদ্ধার
অভিযানকালে মামুনুন্নবী মিলনের বাড়ির গুদামে ৪৮ বস্তা এমওপি এবং ৮১ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। দুটি মিলিয়ে জব্দ করা সারের পরিমাণ ১২৯ বস্তা। পরে এসব সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকারি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
কৃষিতে টিএসপি ও এমওপি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জমির ফসলের প্রয়োজন মেনে কৃষকেরা এসব সার কেনেন। ফলে বাজারে সারের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে চাষের পরিকল্পনা, জমি প্রস্তুত এবং পরিচর্যার সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকির কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্র তদারকি করা হচ্ছে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য। কেউ নিয়মবহির্ভূতভাবে সার জমিয়ে রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নিজের আলুচাষের জন্য রাখার দাবি
জরিমানা পাওয়া কৃষক মামুনুন্নবী মিলন অবশ্য সারের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিক্রির জন্য নয়; নিজের জমিতে আলু চাষের প্রয়োজন বিবেচনায় সারগুলো গুদামে রাখা হয়েছিল।
গত বছর ৪৫ বিঘা জমিতে আলু চাষের পর সারগুলো বেঁচে যায়। চলতি মৌসুমে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় সেগুলো মজুত করেছিলেন।
মিলনের এই বক্তব্যে বোঝা যায়, পরবর্তী মৌসুমে সার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা থেকেই তিনি অবশিষ্ট সার রেখে দিয়েছিলেন। তবে প্রশাসন মজুতের বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হিসেবে বিবেচনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়। কৃষি উপকরণ সংরক্ষণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যক্তি পর্যায়ের প্রয়োজন এবং স্থানীয় কৃষকদের সামগ্রিক চাহিদা—দুই বিষয়ই গুরুত্ব পায়। তাই সার রাখা, বিক্রি এবং বিতরণের নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি
জব্দ করা সার সরকারি দামে বিক্রি হওয়ায় মণ্ডলপাড়াসহ আশপাশের কৃষকেরা সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। স্থানীয় কৃষক মঞ্জু জানান, সারের ঘাটতির কারণে তাঁর কপি চাষে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। অভিযানের পর এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা এমওপি কিনতে পারায় তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন।
সারের সংকটের কারণে কপি চাষে সমস্যা হচ্ছিল। সরকারি দামে এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা এমওপি কিনতে পেরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।
কৃষকেরা সাধারণত চাষের নির্দিষ্ট পর্যায়ে সার প্রয়োগ করেন। প্রয়োজনের সময়ে সার না মিললে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে, আবার চাষের কাজও পিছিয়ে যেতে পারে। সরকারি নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার সুযোগ তাই শুধু তাৎক্ষণিক কেনাকাটার বিষয় নয়; এটি কৃষকের মৌসুমি পরিকল্পনা ধরে রাখার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
পবা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে সার মজুত ঠেকাতে ভবিষ্যতেও তদারকি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে। গুদাম, বিক্রয়কেন্দ্র এবং সারের সরবরাহব্যবস্থার ওপর নজর রেখে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার পৌঁছানোর চেষ্টা চলবে।
অভিযানে ছিলেন প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা
অভিযানে পবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন এবং কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত উপস্থিতি সারের সরবরাহসংক্রান্ত তদারকির গুরুত্ব তুলে ধরে।
স্থানীয় পর্যায়ে সারের স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা বজায় রাখতে নিয়মিত নজরদারি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিক্রয়ব্যবস্থা অনুসরণ করা এবং কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। এতে একদিকে চাষাবাদের প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে, অন্যদিকে কৃত্রিম সংকটের সুযোগও কমে আসবে।
মণ্ডলপাড়ার এ অভিযানের পর জব্দ সার কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন চাষির প্রয়োজন পূরণ হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী তদারকি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় কৃষকেরা প্রয়োজনের সময়ে নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার বিষয়ে আরও আস্থা রাখতে পারবেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is অব ধভ ব মজ ত র খ?অব ধভ ব মজ ত র খ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does অব ধভ ব মজ ত র খ matter?অব ধভ ব মজ ত র খ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.