Banglajibon
Fast mobile article powered by Nexiamath-SEO AMP.
AMP Article

ভূমিধস বিজয়ের দুই বছরের মাথায় কেন প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন স্টারমার

Published Juni 23, 2026 · Updated Juli 21, 2026 · By Susan Hernandez - banglajibon.com

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com

ভূমিধস বিজয়ের দুই বছরে কেন স্টারমার প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লেন

Banglajibon.com – ভ ম ধস ব জয় র দ - ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লেবার পার্টি কনজারভেটিভ পার্টিকে এক দশকের মধ্যে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসে। দলের নেতা কিয়ার স্টারমারকে অনেকে ব্রিটেনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আশা করেছিলেন। কিন্তু দুই বছরের মধ্যে তিনি নেতৃত্ব থেকে বিদায় ঘোষণা করেন। তাঁর বিদায়ে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে এক দশকের মধ্যে।

ক্ষমতায় আসার সময় স্টারমার দলটিকে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় নির্বাচনী জয় অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত হ্রাস পায়। একাধিক বিতর্ক, ভুল সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক চাপ তাঁকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে। সমালোচকদের মতে, স্টারমার নিজের শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেননি।

তিনি ধনী পেনশনভোগীদের শীতকালীন জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা করেন এবং প্রতিবন্ধীদের কিছু ভাতা কাটার উদ্যোগ নেন। এ ছাড়া কয়েকটি উপহার গ্রহণের অভিযোগ তাঁর দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। বিপুল বিতর্ক তৈরি হয় পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে। এ বিষয়ে তাঁকে দীর্ঘদিন জবাবদিহি করতে হয়।

পদত্যাগের ঘোষণায় স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে তিনি সব সময় অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

পরিবর্তনের আশা রাখা সত্ত্বেও স্টারমার শুরু থেকেই সতর্ক বার্তা দেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভালো হতে সময় লাগবে। এ কথায় অনেক ভোটার হতাশ হন। ক্ষমতায় আসার আগে দলটি কর না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সরকারে এসে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পড়ে তারা ব্যয় কমানোর পথে হাঁটে। এতে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিবাসন নীতিতেও স্টারমারকে অবস্থান বদলাতে হয়। কখনো কঠোর, কখনো নমনীয় অবস্থান নেওয়ায় অনেক ভোটারের কাছে তাঁর নীতি অস্পষ্ট বলে মনে হয়। গত মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফল ও সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের বড় জয় তাঁর অবস্থানকে আরও দুর্বল করে।

অনেক বিশ্লেষকের মতে, স্টারমার দক্ষ প্রশাসক হলেও বর্তমানের দ্রুতগতির, গণমাধ্যমনির্ভর রাজনীতির সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি। তাই বিপুল বিজয়ের মাত্র দুই বছরের মধ্যে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।