Technology

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ফাঁদ চেনার উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত ফাঁদ চেনার উপায়

ক ত র ম ব দ ধ – ডিজিটাল বিশ্বে এখন একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি চলছে। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া পৃষ্ঠায় যে মানুষের সুন্দর হাসিমুখ ভেসে ওঠে, তা কি আসল মানুষের নকল, নাকি কম্পিউটারের সৃষ্টি হয়েছে তা আজ চট করে বোঝা যায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সৃষ্ট মুখগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত হয়ে উঠেছে যে মানুষের চোখে সেগুলো আসল ছবির সাথে আলাদা করে তোলা কঠিন হয়ে আসছে।

আরও পরিষ্কার অনুভূতি

প্রাকৃতিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষের মস্তিষ্ক এআই ফাঁদ সনাক্ত করতে কৌশলী হতে পারে এমন একটি সূত্র প্রকাশ করেছেন গবেষকদের দল। তাঁরা বলেন, মানুষ যে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এআই দ্বারা তৈরি ছবিকে আসল ছবি থেকে আলাদা করতে পারে সে বিষয়ে জোর দিয়েছেন। বর্তমানে এআই দিয়ে তৈরি মুখগুলো সাধারণত বেশি সম্পূর্ণ এবং আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যার ফলে আমাদের নজর দিতে হয় মানুষের চিরন্তন অপূর্ণতার ওপর।

‘আমাদের প্রশিক্ষণটি মানুষের মনোযোগ কিছু সার্বিক বৈশিষ্ট্যের দিকে চালিত করে, যা এআই এবং মানুষের মুখের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।’ বলেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক অ্যামি ডাওয়েল।

এআই প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি একটি গবেষণার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নকল চেনার সম্ভাব্য উপায় খুঁজছে। তাঁদের মতে চোখে পড়া ছবির বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা প্রাকৃতিক অপূর্ণতা হল এগুলো আসল মানুষ থেকে আলাদা করার কৌশল। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাবারডিন এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের এই পরিচয় জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এআই সৃষ্ট ডিপফেক স্ক্যাম শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী বছর ক্ষতি করে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হংকংয়ে একটি সংস্থা নকল ছবি দেখার মাধ্যমে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ড হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন রাজনীতিতে কেটি জোন্স নামক কৃত্রিম নারী প্রোফাইল ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়েছে। সেই কৌশলের কারণে এআই যে কতটা হতাশাজনক তা দেখা যাচ্ছে।

গবেষকদের মূলত ৬টি প্রাসঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করেছে। যার মধ্যে অনুভূতিগুলো স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি ডেলয়েট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলেছে যে এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠান আগামী বছর ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি করতে পারে। সূত্র: বিবিসি, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

Leave a Comment