ওমানে ৪ ভাইয়ের মৃত্যু: মাকে বাঁচাতে ফটকে তালা একমাত্র জীবিত ছেলের
ওম ন ৪ ভ ইয় র ম – ওমানে গাড়ির ভেতরে মারা যাওয়া চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর সুখে মায়ের কাছে পৌঁছে না এখন পর্যন্ত। এই খাদিজা বেগম অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও নিজের ছেলেদের কারণে বিদেশে পাঠানোর জন্য তাঁর বেশ কষ্ট হয়েছিল। বিদেশে আসার পর তাঁরা চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া লালানগর ইউনিয়নে জায়গা কিনে পাকা বাড়ি করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ঘরের নিরাপত্তি সম্পর্কে আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে। ছোট দুই ভাইয়ের বিয়ের পরিকল্পনাও সম্প্রতি চলছিল।
১৩ মে সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহ উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাঁদের একজন আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা জানান। গাড়ির লোকেশন পাঠিয়ে বলেন যে তাঁদের গাড়ি থেকে বের হওয়ার অবস্থাও নেই। নাকেমুখে ফেনা আসছে এবং নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
তাঁদের মায়ের কাছে ফোন করেও দোয়া চান বলে জানা গেছে।
একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চার ভাই অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে মৃতদেহ উদ্ধার করে। রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমানের খবরে বলা হয়েছে যে গাড়ির এসি থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাস গ্রহণের ফলে চার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় বিষাক্ত গ্যাস বিপর্যয়ে তাঁদের জীবন হারিয়েছে।
তাঁদের বাবা জামাল উদ্দিন পূর্বেই মারা গেছিলেন। তাঁর ছেলেদের বড় করে সম্পদ অর্জনে দুর্দান্ত চেষ্টা করেছিলেন। তবে আগামী মঙ্গলবার চার ভাই নিথর দেহে কফিনে বন্দী হয়ে দেশে আসবেন বলে জানা গেছে। কিন্তু মায়ের কাছে তাঁদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানো হয়নি। এ জন্য একমাত্র জীবিত ছেলে মো. এনাম তালা দিয়ে ফটকে রেখেছেন। মাকে বাঁচাতে তাঁরা তাঁদের মৃত্যু খবর বুঝিয়ে দেননি। বিশ্বাস করেন যে মারা যাওয়া ছেলেদের খবর শুনলে মাকে বাঁচাতে পারবেন না। এমনিতে মায়ে খুব অসুস্থ।
নিহত চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাঁদের কোনো বোন নেই। রাশেদুলের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। শাহেদুলের স্ত্রী ও এক সন্তান আছে। সিরাজুল ও শহিদুল অবিবাহিত ছিলেন। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় অসুস্থ বড় ভাই রাশেদুল ইসলামকে ডাক্তার দেখাতে ক্লিনিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বাকি তিন ভাই শাহেদুল ইসলাম
