National

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা জরুরি: মহিলা পরিষদ

মহিলা পরিষদ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা জরুরি ঘোষণা

ন র র প রত সহ সত – বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সহিংসতা প্রতিরোধ এবং প্রতিকার প্রক্রিয়ায় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে যে নারী ও শিশুদের পুনর্বাসনের সাথে সাথে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনোয়ারা বেগম ও মুনিরা খানের মিলনায়তনে সহিংসতা প্রতিরোধ-প্রতিকার, মানসিক স্বাস্থ্য ও করণীয় শীর্ষকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

“কেউ ধর্ষক বা নির্যাতনকারী হিসেবে জন্ম নেয় না। সামাজিক বিভিন্ন প্রক্রিয়া তাকে অপরাধী হওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মেহজাবিন হক এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

“নির্যাতনের ঘটনা গোপন রাখা ভুক্তভোগীর মানসিক কষ্টকে আরও গুরুতর করে তোলে।”

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এম এ সালাউদ্দিন কাউসার বলেন, স্কুল-কলেজে সহিংসতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, ফটো কার্ড, পডকাস্ট ও রিলস তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নারী নির্যাতনের প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সেবাদাতা ও ভুক্তভোগীদের স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, ধারাবাহিক সহিংসতার কারণে নারী ও কন্যাদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যার ঘটনার বৃদ্ধি এ সংকটের গভীরতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম আরও জানান যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের প্রতিটি ধাপে মানসিক স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ভুক্তভোগী, অপরাধী ও সেবাদানকারী তিন পক্ষের মানসিক স্বাস্থ্য বিবেচনায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও বক্তব্য দেন মনোবিজ্ঞানী এনজেলা খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট সাদেকা বানু এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট নুজহাত-ই-রহম

Leave a Comment