বেঙ্গল রেনেসাঁর বিস্মৃত আলো সুনয়নী দেবী
জন্ম ও প্রাথমিক শিক্ষা
ব ঙ গল র ন স র – ১৮৭৫ সালের ১৮ জুন বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন সুনয়নী দেবী। তিনি গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং অবনীন্দ্রনাথ ও গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোট বোন ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া তাঁর চিত্রশিল্পে হাতেখড়ি হয়েছিল দুই ভাইয়ের ছবি আঁকার সময় গোপনে দেখার মাধ্যমে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ক্রমশ প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা প্রবর্তনে সাহায্য করেছিল। তাঁর সাথে যুক্ত হয়েছিল বেঙ্গল রেনেসাঁর গৌরবপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং বাংলা শিল্প সম্প্রদায়ের আদর্শ ধারণা।
স্বামীর প্রেরণা ও প্রতিক্রিয়া
১২ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেলেও তিনি বৃদ্ধ বয়সে স্বামীর প্রেরণায় ছবি আঁকার শুরু করেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর জীবন আরও গভীরভাবে সাংস্কৃতিক আলোকে ঢাকা পড়ে। গ্রামের পটচিত্র, মাটির পুতুল এবং কালীঘাটের পট ছিল তাঁর মূল প্রেরণা। তাঁর চিত্রগুলোতে মূলত পৌরাণিক চরিত্র এবং জনজাতির পরিবেশ ফুটে উঠত। এই শিল্প প্রকাশ ছিল তাঁর বেঙ্গল রেনেসাঁ পরিবেশের সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম।
তাঁর ছবির একটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল মাছের মতো টানা টানা অর্ধনিমীলিত চোখ। যা ছবির পাত্র-পাত্রীর আধ্যাত্মিক ভাব প্রকাশ করত। জাপানি ওয়াশ টেকনিকের ছোঁয়ায় তাঁর জলরঙে আঁকা চিত্রকর্মগুলো সরলতা ও গভীর শিল্পের এক অপূর্ব মিশ্রণ। এই মিশ্রণ ছিল বেঙ্গল রেনেসাঁ শিল্প ধারণার অংশ হিসেবে সুনয়নী দেবী বিশেষ করে সৃষ্টি করেছিলেন একটি নতুন স্তর যার মধ্যে পূর্ববর্তী শিল্প পরিবেশ ও আধুনিক প্রতিভার একটি সমন্বিত প্রকাশ।
অস্ট্রীয়-আমেরিকান শিল্প ইতিহাসবিদ, কিউরেটর ডা. স্টেলা ক্র্যামরিশ বলেন, তাঁর ছবিগুলোর লাইনের সাবলীলতা ও গভীর শান্তি সরাসরি তাঁর অন্তরের প্রকৃতি থেকে উৎসারিত হত। এই
