তিতাস নদীতে শতাধিক চামড়া ফেলে দিলেন ব্যবসায়ী
ত ত স নদ ত শত ধ – ঈদুল আজহা উপলক্ষে হেলাল মিয়া মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসাবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। তিনি আশা করেছিলেন যে কষ্ট করে সংগৃহীত এই চামড়াগুলো বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতে পারবেন।
ঈদের পর দুই দিন তিনি ঘুরে দেখেন কিন্তু কোন ক্রেতা পান না। লাভ করা তো দূরের কথা, তিনি শেষ পর্যন্ত মূলধন হারিয়ে চরম লোকসানে পড়েন। হতাশ হয়ে হেলাল মিয়া বলেন, খুব বিপাকে পড়ে যাই। পরে আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কেউ চামড়া নিতে রাজি হয়নি। দুই দিন ধরে চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত বিক্রির কোনো ব্যবস্থা করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ১০৫টি চামড়া নদীতে ফেলে দিয়েছি। আর মাত্র ২০টি চামড়া কোনোমতে লবণ মাখিয়ে রেখেছি।
‘চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে এখন সরকারের সুদৃষ্টি দেওয়া খুব দরকার।’
আজ রোববার সকালে আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকার তিতাস নদীর পাড়ে গিয়ে বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া ভাসমান অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চামড়াগুলো নদীতে ফেলেছেন হেলাল মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি মূলত পার্শ্ববর্তী বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
চামড়া শিল্পকে রক্ষা করতে নতুন সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জোর দাবি জানান মো. আব্দুস ছাত্তার মিয়া। তিনি আখাউড়া উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং সিঙ্গারবিল বাজার কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
‘চামড়া আমাদের দেশের একটি মূল্যবান জাতীয় সম্পদ। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থ সাধারণত গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গরিব মানুষেরাও তাদের হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
