International

‘ইনটু থিন এয়ার’ ট্র্যাজেডির ৩০ বছর পর নতুন যে হুমকিতে এভারেস্ট

ইনটু থিন এয়ার বইয়ের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে এভারেস্টের নতুন সংকটে

ইনট থ ন এয় র ট র – ১৯৯৬ সালের অনুপ্রস্থ তুষারঝড়ের আঘাতে আট জন পর্বতারোহী মৃত্যুবান হওয়ার ৩০ বছর পূর্ণ হয়েছে। তুষারঝড়ের কারণে সেই সময় আঘাতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ছড়ায়। এই ঘটনার স্মৃতি জন ক্রাকাওয়ারের সার্বিক আলোচিত বই ‘ইনটু থিন এয়ার’ আরও জীবন্ত করে।

১৯৯৬ সালের আগে এভারেস্ট আরোহণ ছিল অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের জন্য প্রায় ক্ষেত্রে সীমাহীন কাজ। কিন্তু তুষারঝড় ঘটনার পর এই শৃঙ্গের আকর্ষণ সাধারণ মানুষের ‘বাকেট লিস্ট’ হয়ে উঠেছে। পর্বতারোহণ সম্পর্কে ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে, যে যথেষ্ঠ অর্থ ব্যয় করলে শীর্ষে ওঠা সম্ভব।

প্রসঙ্গত, অভিযানে স্থানান্তরিত হওয়া বিশেষজ্জ্ঞদের মতে বর্তমানে সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হল অতিরিক্ত ভিড়। চলতি মৌসুমে এক দিনে ২৭৪ জন আরোহী শীর্ষে পৌঁছেছেন, যা ১৯৮৯ সালের চেয়ে বেশি। আধুনিক প্রযুক্তি এভারেস্ট অভিযানকে বেশি নিরাপদ করেছে। জিপিএস ও স্যাটেলাইট ফোনের আবহাওয়া পূর্বাভাস আশার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।

গাই কটার মতে, বর্তমানে এভারেস্টে সবচেয়ে বড় সমস্যা অতিরিক্ত ভিড়। অনেক অভিযানে ৫০-৬০ জন ক্লায়েন্ট থাকেন। শীর্ষের কাছাকাছি এলাকায় সরু পথে অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়া, হাইপোক্সিয়া এবং হিমশীতল আবহাওয়ার জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

খুম্বু আইসফল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। ফলে বরফখণ্ড ধস ও ফাটল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সম্পর্কে সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা তুলে ধরেছে ঝুঁকির বাস্তবতা—২০১৪ সালে তুষারধসে ১৬ জন কর্মী মৃত্যুবান হন এবং ২০১৫ সালের ভূমিকম্পে অভিযানের এলাকায় প্রাণ হানি ঘটে।

বর্তমানে এভারেস্টের আকর্ষণ কমেনি। বিশ্বের নানা কোনও প্রান্ত থেকে প্রতিবছর হাজারো মানুষ শীর্ষে ওঁটানোর স্বপ্ন নিয়ে সেখানে আসছেন। সরকারও পর্বতারোহণের আগে একটি শৃঙ্গ আরোহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। এই বিতর্ক সত্ত্বেও এভারেস্ট এখনো মানব সাহস, সহনশীলতা এবং অভিযাত্রিক চেতনার একটি প্রতীক।

Leave a Comment