Bangladesh

দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া: অব্যাহত নদীভাঙনে দিশেহারা

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলার নিরাপত্তি হারিয়েছে

দ ব প উপজ ল হ ত – প্রতিবছর মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন বিপর্যয় ক্ষতিগ্রস্ত করে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া এবং চানন্দী, নলচিরা, সুখচর ও চর ঈশ্বর ইউনিয়নের হাজারো ঘরবাড়ি হারিয়ে যাচ্ছে। ফসলি জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কয়েক হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে আছে। এই পরিস্থিতি ছাড়াও সম্প্রতি নদীভাঙন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে শুধু নদীতীর বিলীন হওয়ার পর থেকে ভাঙন চলছে বছরজুড়ে।

পরিবার নিঃস্ব হয়ে চরে আশ্রয় নিয়েছেন

তীরের কয়েক হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে চরে বসবাসের জন্য নিঃস্ব হয়ে আছে। সুজতী বালা মজুমদার নামের একজন মহিলা আশ্রয় নিয়েছেন নদীতীরে। তিনি ৬৫ বছর বয়সী। তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নরসুন্দর পেশায় জড়িত। ভিটেমাটি হারানোর পর টাকাপয়সা না থাকায় ছেলের বউদের গয়না বিক্রি করে ছোট একখণ্ড জমি কিনে বসবাস শুরু করেন তিনি।

“আগ্রাসী মেঘনা মাসখানেক আগে গিলে খেয়েছে তাঁর শেষ সম্বল। বাড়িটি সরিয়ে নিতে পারেননি আমাদের কারও। পরে বাধ্য হয়ে আমার পরিবারের আট সদস্য চরে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।”

ভূমিহীন বাজারে ক্ষতির মুখে আছেন

চানন্দী ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্র ভূমিহীন বাজার। সেখানে কিছুকাল আগে ৫ শতাধিক দোকান ছিল। পাকা রাস্তা ও দৈনিক বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ আসত এখানে। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে বাজারের অর্ধেক অঞ্চল নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

“এক সপ্তাহ আগে নদীভাঙনে বাজারের অর্ধেকের বেশি বিলীন হয়ে গেছে। অনেকে শেষ সম্বল দোকানঘরও নিয়ে যেতে পারেননি।”

বাজারের পূর্ব পাশে সবচেয়ে বড় মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারত। মসজিদের পাশে রয়েছে গণকবরস্থান। সেখানে প্রায় ৮০০ মরদেহ দাফন করা হয়েছে। কিন্তু ভাঙন চলছে বাজার ও কবরস্থান নিয়েও।

“১০ বছর আগে আমার বড় বোনকে এখানে কবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা ভেঙে যাচ্ছে। অনেকে মরদেহ তুলে অন্যত্র নিয়ে দাফন করছেন। কবর স্থানান্তরে অনেক টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু আমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।”

সরকারের ব্যবস্থা আসেনি পরিবারের ভবিষ্যতে

বিভিন্ন সময় সরকার বা রাজনৈতিক নেতারা ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বছরে বছরে ভাঙন চলছে অব্যাহত ভাবে। এ জন্য বর্তমানে চরের বাসিন্দারা বেড়িব

Leave a Comment