রৌমারী হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ, নীতিমালা লঙ্ঘনের দাবি
র ম র হ ট অত র – কুড়িগ্রামের রৌমারী হাটে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে দুই হাটবারে ক্রেতা-বিক্রেতারা বলেছেন যে অতিরিক্ত টাকা করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) হাটে গরুর হাসিল প্রায় ২০০ টাকা বেশি হিসাবে আদায় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইজারা নেওয়া হাটটির নেতৃত্ব বিএনপি নেতার ছেলের হাতে
রৌমারী উপজেলা শহরের হাটটি রৌমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শাকিল আহমেদের নামে ইজারা নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রায় ৬ কোটি টাকায় হাটটির পরিচালনা করছেন। বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে কিছু টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার ছাগল কিনতে আসা উপজেলার চাকতাবাড়ির বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “কোরবানির জন্য ছাগল কিনেছি। সরকারি হাসিল ছাগলের জন্য ২৫০ টাকা হলেও ৪০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কেউ নিয়ম মানে না। আমরা নিরুপায়।”
অভিযুক্ত ইজারাদারের লোকজন অস্বীকার করেছেন যে তারা নিয়ম মানতে চায় না। তারা প্রশাসন ম্যানেজ করে বেশি টাকা আদায় করছে বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “৫০০ টাকার হাসিল ৮০০ টাকা নিচ্ছি না। বেশি আদায় হলে আপনারা আইনগত ব্যবস্থা নিন। প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।”
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসনের নীরবতা
ফাঁকা রসিদসহ অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে জানালে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “জেলার অন্য হাটেও খোঁজ নেন। কুড়িগ্রামে বসে কথা বললে তো হবে না। যাতে জনভোগান্তি না হয় আমি চেষ্টা করছি।”
ইউএনও আলাউদ্দিন বলেন, “অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে হাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও হাটে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রৌমারী বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হাসিল বেশি আদায়ের অভিযোগ আমিও পেয়েছি। ইউএনওর সঙ্গে কথা হয়েছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায় না করার বিষয়ে আমার অবস্থান তাঁকে জানিয়েছি।”
