National

আন্দোলনের সময় নানক–তাপসের হাতে অস্ত্র ছিল: ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর জবানবন্দি

nanok-taposh
Foto : Michael Davis - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুরের হত্যাকাণ্ড মামলায় ট্রাইব্যুনালে মায়ের সাক্ষ্য
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ধানমন্ডি–মোহাম্মদপুরের হত্যাকাণ্ড মামলায় ট্রাইব্যুনালে মায়ের সাক্ষ্য

Banglajibon.com – আন দ লন র সময় ন নক – বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ইসমাইলের মা। সোমবার তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তাঁর ছেলে।

জবানবন্দিতে তিনি ওই দিনের পরিস্থিতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের খোঁজ এবং পরে মরদেহ শনাক্ত করার বর্ণনা দেন। তাঁর বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ কয়েকজনের হাতে অস্ত্র দেখার কথাও উঠে এসেছে।

আন্দোলনে যাওয়ার পর গুলিবিদ্ধ ইসমাইল

ইসমাইলের মা ট্রাইব্যুনালকে জানান, ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষ করে দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে বাসা থেকে বের হন তাঁর ছেলে। এরপর তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। সন্ধ্যার পর ইসমাইলের খালা আকলিমা তাঁকে ফোন করেন, কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করার পর ইসমাইলের বন্ধু কালু ফোন ধরেন।

কালু ফোনে জানায়, ইসমাইল গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

এই খবর পাওয়ার পর ইসমাইলের মা, খালা, নানী ও পরিবারের অন্য কয়েকজন ঢাকা উদ্যান থেকে রিকশায় করে ঢাকা মেডিকেলের দিকে রওনা দেন। পথে তারা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দেখতে পান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়।

পথে আগুন ও অস্ত্রধারীদের দেখার দাবি

ঢাকা মেডিকেলের পথে কিছু দূর এগোতেই রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখেন তাঁরা। ইসমাইলের মা বলেন, সেই সময় কমিশনার আসিফ, কমিশনার রাজিব, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং বিপ্লবের হাতে অস্ত্র ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের সামনে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাক্ষীর এ বক্তব্য মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্যের অংশ। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের অভিজ্ঞতা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিচারিক কার্যক্রম শেষে নির্ধারিত হবে।

হাসপাতালে ছেলের সন্ধান

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ইসমাইলকে খুঁজতে থাকেন তাঁর স্বজনেরা। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও তাঁকে না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা কর্তব্যরত একজন চিকিৎসকের কাছে ছেলের বিষয়ে জানতে চান। তখন চিকিৎসক মোবাইল ফোনে কয়েকটি ছবি দেখান। ছবির মধ্যে ইসমাইলকে শনাক্ত করেন তাঁর মা ও পরিবারের সদস্যরা।

পরে তাঁদের মর্গে নেওয়া হয়। সেখানে আনুমানিক ৩০০ থেকে ৪০০ মরদেহ দেখতে পাওয়ার কথা জানান ইসমাইলের মা। তিনি বলেন, মরদেহগুলো একটির ওপর আরেকটি রাখা ছিল। ছেলের পরনের পোশাক দেখে তিনি ইসমাইলকে চিনতে পারেন। তাঁর মাথায় গুলির আঘাত ছিল বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

মর্গে ছেলের পোশাক দেখেই আমি তাকে চিনতে পারি; তার মাথায় গুলি লেগেছিল।

স্বজনেরা মরদেহ নিতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের অনুমতি ছাড়া তা দিতে রাজি হয়নি বলে তিনি জানান। পরদিন মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তা সাইফুল সেখানে যাওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ইসমাইলের মরদেহ বাসায় নেওয়া সম্ভব হয়।

মরদেহ নেওয়ার সময় স্বাক্ষরের অভিযোগ

ইসমাইলের মা আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ গ্রহণের সময় তাঁদের একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই স্বাক্ষর নেওয়া হয় মামলা না করার মর্মে। এই অভিযোগও তাঁর সাক্ষ্যের অংশ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উঠে এসেছে।

একজন নিহতের স্বজনের এমন বর্ণনা শুধু ব্যক্তিগত শোকের কথা নয়, বরং ঘটনার পর আহত ও নিহতদের পরিবারের সামনে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিরও একটি বিবরণ। হাসপাতালে পৌঁছানো, পরিচয় নিশ্চিত করা, মরদেহ গ্রহণ এবং আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো মামলার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মামলার বিচারিক অগ্রগতি

ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা এ মামলায় গত ১০ মে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে ১৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এখন সাক্ষীদের জবানবন্দি ও অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে মামলার কার্যক্রম এগোচ্ছে।

মামলায় মোট ২৮ জন আসামি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ফজলে নূর তাপসসহ ২৪ জন পলাতক বলে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য থেকে জানা গেছে। গ্রেপ্তার চারজন হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি।

অভিযুক্তদের তালিকায় নানক ও তাপসের পাশাপাশি ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের নাম রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও এ মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন।

সাক্ষ্য গ্রহণের এই ধাপের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বক্তব্য শুনছে। ইসমাইলের মায়ের জবানবন্দিতে একদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার মুহূর্ত, অন্যদিকে রাজধানীর পথে দেখা সহিংসতার চিত্র এবং হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্তের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে অন্য সাক্ষ্য ও প্রমাণও আদালতের সামনে আসবে।

Frequently Asked Questions

What is আন দ লন র সময় ন নক?

আন দ লন র সময় ন নক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does আন দ লন র সময় ন নক matter?

আন দ লন র সময় ন নক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment