Bangladesh

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ: চর চান নেতা, স্থানীয়দের ক্ষোভ

Dhadhar-Char
Foto : Richard Smith - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ধাঁধার চরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ঘিরে জীবিকা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ধাঁধার চরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ঘিরে জীবিকা ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

Banglajibon.com – স রব দ য ৎক ন দ – শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্রের মিলনাঞ্চলে গড়ে ওঠা ধাঁধার চরকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাপাসিয়া উপজেলার এই চরে ৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার জন্য প্রায় ২৪০ একর খাসজমি দীর্ঘমেয়াদে বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে। কিন্তু চরের কৃষক, নৌকার মাঝি, পশুপালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রকল্পটি এগোলে বহু পরিবারের আয়ের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পাখি ও প্রাকৃতিক পরিবেশও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সাননোভা এনার্জির পরিচালক কামাল জামান মোল্লা ধাঁধার চরসহ ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্তের আবেদন করেছেন। গত ১৬ আগস্ট গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে ১৯৯৫ সালের অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে জমি চাওয়া হয়।

প্রকল্পের জন্য যে জমি চাওয়া হয়েছে

প্রস্তাবিত জমিগুলো কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ ধাঁধার চর মৌজায় অবস্থিত। আবেদনে নদী, বালুচর, শিকস্তি ভূমি ও নাল শ্রেণির বিভিন্ন দাগের জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে নদী শ্রেণির দুই দাগে ৩০ দশমিক ৭০ একর, বালুচর শ্রেণির তিন দাগে ১৩ দশমিক ৬৩ একর, শিকস্তি ভূমির ১০৬ দাগে ৪৫ দশমিক ৮২ একর এবং নাল শ্রেণির ৯০ দাগে ১৫২ দশমিক ১৫ একর জমি রয়েছে।

চাওয়া জমির বড় অংশই নাল শ্রেণির, যার পরিমাণ প্রায় ৬৩ শতাংশ। শিকস্তি ভূমি রয়েছে প্রায় ১৯ শতাংশ, নদীর জমি প্রায় ১৩ শতাংশ এবং বালুচরের অংশ প্রায় ৬ শতাংশ। আবেদনপত্রে সৌরপ্যানেল বসিয়ে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখা এবং সবুজ শক্তির প্রসারে অবদান রাখার কথা বলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, প্রকল্পটির জন্য নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোরিয়া ও চীনের সঙ্গেও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে ভূমির বর্তমান ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কৃষি, পশুপালন ও নৌকাভিত্তিক জীবিকার চর

ধাঁধার চরের বর্তমান চিত্রটি প্রকল্পের প্রস্তাবের সঙ্গে স্থানীয়দের আপত্তির মূল কারণ। নদীর দুই পাড়ের মাঝখানে বিস্তৃত এই ভূখণ্ডে আছে ফলের বাগান, ফসলের ক্ষেত, ঘাসে ঢাকা জমি, ঝোপঝাড় ও ছোট-বড় গোয়ালঘর। প্রতিদিন নৌকায় করে মানুষ সেখানে গিয়ে জমিতে কাজ করেন, পশুর দেখাশোনা করেন কিংবা বাজারে বিক্রির জন্য ফল সংগ্রহ করেন।

স্থানীয়দের বক্তব্য, চরে আম, জাম, পেয়ারা ও বরইয়ের মতো ফল উৎপাদিত হয়। ধান, গম, আখ ও বাদামসহ নানা কৃষিপণ্যও ফলানো হয়। কেউ জমি চাষ করে জীবিকা চালান, কেউ গবাদিপশু পালন করেন, আবার অনেকে নৌকায় যাতায়াতকারী কৃষক ও শ্রমজীবীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ করেন।

ঘিঘাট গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল হক ভূঁইয়া বলেন, চরের সঙ্গে প্রায় ৩০০ পরিবারের জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এটি শুধু চাষাবাদের এলাকা নয়; পাখির আবাসস্থল এবং সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রও।

“এই চর আমাদের রুটি-রুজির জোগান দেয়।”

জাহিদুল হক ভূঁইয়া আরও বলেন, চরে পাখির জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, স্থানীয় মানুষের কাছে জায়গটি হারানোর প্রশ্নই ওঠে না।

আরেক বাসিন্দা জহিরুল হক আঙ্গুরের দাবি, প্রতিদিন সকালেই অর্ধশতাধিক নৌকায় শত শত মানুষ চরে যান এবং প্রায় ৫০০ পরিবারের জীবিকা এ এলাকার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আশঙ্কা, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জমি ব্যবহার শুরু হলে চাষাবাদ ও ফল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ভেঙে যাবে।

“এই জমিতে কোনোভাবেই কিছু করতে দেওয়া হবে না।”

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পর্যটনের সম্ভাবনা

চরের ঝোপঝাড়, গাছপালা ও খোলা জমিতে নানা প্রজাতির পাখির বিচরণ দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে পাখির কিচিরমিচির, নদীর দৃশ্য এবং সবুজ ফসলের মাঠ ধাঁধার চরের আলাদা পরিচয়। তাই তাঁরা মনে করছেন, সৌরপ্যানেল ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো স্থাপন হলে চরের খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশ বদলে যেতে পারে।

স্থানীয়রা এটিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন যে, চরভিত্তিক বিনোদন ও ভ্রমণের সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি বিকশিত না হলেও জায়গটি মানুষের আগ্রহ তৈরি করছে। কৃষিজমি, নদী, নৌপথ এবং পাখির উপস্থিতি মিলিয়ে যে বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে, সেটি রক্ষা করা দরকার বলে তাঁদের মত।

নদীসংলগ্ন ভূমি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, ধাঁধার চরের অধিকাংশ জমি নদী, বালুচর ও শিকস্তি ভূমি শ্রেণির। তাঁর মতে, নদী এবং নদীসংলগ্ন ভূখণ্ড পরিবেশ ও জনস্বার্থের দিক থেকে বিশেষ সংবেদনশীল।

“নদী একটি পাবলিক ট্রাস্ট প্রপার্টি।”

মো. মনির হোসেনের বক্তব্য, ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নদী ও সংলগ্ন ভূমি বন্দোবস্তযোগ্য নয়; ফলে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আইন ও পরিবেশগত বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রশাসনের প্রতিবেদনের অপেক্ষা

কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক জানান, ধাঁধার চর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানে ২৩৯ দশমিক ৫৭ একর জমি রয়েছে। এই জমির শ্রেণির মধ্যে নদী, শিকস্তি ভূমি, নাল, ছনখোলা, বালুচর ও লায়েক পতিত জমিও আছে। বন্দোবস্তের আবেদন ঘিরে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

সাননোভা এনার্জির পরিচালক কামাল জামান মোল্লার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন এবং মাদারীপুর-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে মনোনয়ন স্থগিত হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন; নির্বাচনে পরাজয়ের পর দল তাঁকে বহিষ্কার করে। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতিও ছিলেন।

ধাঁধার চরের ভবিষ্যৎ তাই কেবল একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জমি-আবেদনের মধ্যে সীমিত নয়। এখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিকল্পনা, নদীভূমির আইনি মর্যাদা, কৃষিনির্ভর মানুষের আয়, পশুপালন, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পর্যটনের সম্ভাবনা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে।

Frequently Asked Questions

What is স রব দ য ৎক ন দ?

স রব দ য ৎক ন দ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does স রব দ য ৎক ন দ matter?

স রব দ য ৎক ন দ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment