খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষে সাফল্য
Table of Contents
খানসামায় গ্রীষ্মকালীন শিমে লাভের আশা কৃষক ময়েজ উদ্দিনের
Banglajibon.com – খ নস ম য় গ র ষ – দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সিট আলোকডিহি গ্রামে গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করে আশাব্যঞ্জক ফলন পেয়েছেন কৃষক ময়েজ উদ্দিন। প্রচলিত ফসলের বাইরে লাভজনক সবজি উৎপাদনের চিন্তা থেকে তিনি চলতি মৌসুমে ২০ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম আবাদ করেছেন। ফুল ও কচি শিমে ভরা খেতটি এখন এলাকার অন্য কৃষকদের কাছেও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ আবাদ শুরু করেন তিনি। গ্রীষ্মের সময়ে শিমের ফলন এবং বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ তাঁকে উৎসাহিত করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ জমি থেকে তাঁর বিক্রির পরিমাণ ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।
মাচাজুড়ে কচি শিম
বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ময়েজ উদ্দিনের শিমগাছে ফুলের সঙ্গে ফলও এসেছে প্রচুর। মাচার বিভিন্ন অংশে ঝুলছে কচি শিম। খেতের পরিচর্যা, শিম তোলা এবং বাজারে পাঠানোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। একটি সবজি খেত থেকে ভালো উৎপাদন পেতে নিয়মিত পরিচর্যার গুরুত্ব এখানেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শিম সাধারণত শীতকালীন সবজি হিসেবে বেশি পরিচিত হলেও উপযোগী জাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনা ব্যবহার করলে গ্রীষ্মেও এর আবাদ করা সম্ভব। হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি গরম মৌসুমে চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ময়েজ উদ্দিনের জমিতে ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসরণ করে তিনি খেতের রোগবালাই ও পরিচর্যার বিষয়গুলোতে নজর রাখছেন।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এবং ফলনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর লাভের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা হতে পারে।
“২০ শতক জমিতে শিম চাষে এ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বর্তমান ফলনের ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তাঁর প্রায় ৩৫ থেকে ৪২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।”
বিকল্প ফসলে বাড়ছে আগ্রহ
ময়েজ উদ্দিনের সাফল্য একই গ্রামের অন্য কৃষকদেরও গ্রীষ্মকালীন শিম আবাদে উৎসাহিত করেছে। কৃষক কায়েসসহ ওই এলাকার কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে শিম চাষে নেমেছেন। এতে শুধু একটি খেতে উৎপাদন বাড়ছে না, এলাকাজুড়ে মৌসুমভিত্তিক বিকল্প সবজি আবাদ নিয়ে আগ্রহও তৈরি হচ্ছে।
একই ধরনের ফসলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে জমিতে বৈচিত্র্য আনা কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মৌসুমের উপযোগী উন্নত জাত বাছাই করা গেলে একই জমি থেকে তুলনামূলক লাভজনক ফসল উৎপাদনের সুযোগ বাড়ে। গ্রীষ্মে স্থানীয় বাজারে শিমের সরবরাহ বাড়লে ক্রেতারাও মৌসুমের বাইরে এ সবজি পাওয়ার সুযোগ পান।
ময়েজ উদ্দিন জানান, ভবিষ্যতে তিনি আরও বেশি জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের শিম চাষ করতে চান। তাঁর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে গ্রীষ্মকালেও শিম থেকে ভালো আয় সম্ভব।
কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনের শিমখেতে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গ্রীষ্মকালীন চাষের উপযোগী হওয়ায় হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতটি কৃষকদের জন্য ফলনের ভালো সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক পদ্ধতিতে কম খরচে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সবজি চাষে সঠিক সময়ে পরিচর্যা, রোগবালাই পর্যবেক্ষণ এবং বাজারে পণ্য পৌঁছানোর প্রস্তুতি কৃষকের লাভের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, জলবায়ু ও মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং একই জমিতে অধিক লাভজনক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যেই কৃষকদের নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাত ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকের আয় বাড়ানোর পথ তৈরি করছে।
খানসামার এই শিমখেত দেখাচ্ছে, সঠিক জাত নির্বাচন, মাঠপর্যায়ের পরামর্শ ও নিয়মিত ব্যবস্থাপনা থাকলে গ্রীষ্মকালেও সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ময়েজ উদ্দিনের উদ্যোগ অন্য কৃষকদের সামনে একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছে; ফলে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিম চাষের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is খ নস ম য় গ র ষ?
খ নস ম য় গ র ষ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does খ নস ম য় গ র ষ matter?
খ নস ম য় গ র ষ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
