গ্যাস সরবরাহ: দুই মাসের অচলাবস্থার পর আবার কর্মচঞ্চল শিল্পাঞ্চল
Table of Contents
গ্যাসের চাপ বাড়ায় শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কাজের গতি
Banglajibon.com – গ য স সরবর হ – দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের জ্বালানি সংকটের পর ঢাকার আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে আবার উৎপাদনের ছন্দ দেখা যাচ্ছে। জাতীয় সঞ্চালন লাইনে গ্যাসের পরিমাণ বাড়ার ফলে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন কারখানায় কাজের পরিবেশ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে শিল্পমালিকেরা বলছেন, বর্তমান উন্নতি স্বস্তিদায়ক হলেও চাহিদামাফিক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে না।
মঙ্গলবার দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছায়। শিল্পাঞ্চলে এর বাস্তব প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করে পরের দিন, বুধবার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় ঘণ্টাপ্রতি ২ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস প্রবাহিত হচ্ছিল।
এই সরবরাহের মধ্যে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে আসছিল ৯৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। দেশের নিজস্ব কূপগুলো থেকে যুক্ত হচ্ছিল আরও ১ হাজার ৬১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সমুদ্রে থাকা দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দিনে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের।
সংকটের সময় কী ঘটেছিল
গত ২১ জুলাই একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত কমে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায়। পরে নির্ধারিত সময়ে কার্গো না পৌঁছানো, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়া এবং অন্য কিছু জটিলতার কারণে এই পরিমাণ একপর্যায়ে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে।
সে সময় এলএনজি ও দেশীয় গ্যাস মিলিয়ে জাতীয় ব্যবস্থায় দৈনিক সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের সামান্য বেশি। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিল্প এবং গৃহস্থালি—সব খাতে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়েছিল, বহু কারখানায় উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ থাকে, সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকেরা ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তিতে পড়েন। বাসাবাড়ির রান্নাঘরেও গ্যাসের সংকট দেখা দেয়।
সেপ্টেম্বর থেকে নতুন এলএনজি কার্গো আসতে থাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। দুটি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হওয়ার পর জাতীয় সরবরাহ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে ওঠানামা করছিল। সোমবার মধ্যরাতের পর এলএনজি সরবরাহ ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিক্রম করায় শিল্প খাতে দ্রুত উন্নতির প্রত্যাশা তৈরি হয়।
কারখানায় বাড়ছে উৎপাদন
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। হ্যামস গার্মেন্টস, স্প্যারো ফ্যাশন, ডিবিএল গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম আগের তুলনায় বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যেসব শ্রমিক কাজের অভাবে অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার ব্যস্ত সময় পার করছেন।
আমান গার্মেন্টসের শ্রমিক মনিরা বেগম বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কারখানায় কাজ খুব কম ছিল। গ্যাস সমস্যার কারণে অনেক শ্রমিককে অলস সময় কাটাতে হয়েছে। তবে গত দুই দিনে কাজ কিছুটা বেড়েছে।
“গত কয়েক সপ্তাহ কারখানায় তেমন কাজ ছিল না। গ্যাসের সমস্যার কারণে কারখানার শ্রমিকেরা অলস সময় পার করেছেন। গত দুদিন কাজ একটু বেড়েছে।”
ডিবিএল গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মেদ আব্দুল কাদির অনু মনে করেন, গ্যাসের চাপ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে কারখানাগুলোর প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া গেলে এ উন্নতি আরও দৃশ্যমান হবে।
“গ্যাসের চাপ বাড়ায় শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও স্বাভাবিক হবে।”
হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমানও আগের তুলনায় পরিস্থিতিকে অনেক স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, গ্যাস প্রবাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় শ্রমিকেরা এখন আগের মতো পুরোদমে কাজ করতে পারছেন।
টঙ্গীর নদীবন্দর এলাকার রাব্বানি ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব রাব্বানি জানান, টানা দুই দিন গ্যাসের চাপ বাড়তি থাকায় অবৈধভাবে পাম্পের গ্যাস কেনার প্রয়োজন পড়ছে না। পোশাক রপ্তানির সময়সূচি ঠিক রাখতে তাঁদের ২৪ ঘণ্টাই কারখানা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনো কম
গাজীপুরের শিল্পকারখানাগুলোতে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত কয়েক সপ্তাহ সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছিল প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। মঙ্গলবার রাত থেকে সেই পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো হলেও শিল্পাঞ্চলটির মোট চাহিদা এখনো পূরণ হয়নি।
ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ফজলুল হক তুষার জানান, কম গ্যাসচাপের সময় তাঁদের উৎপাদন অর্ধেকের কাছাকাছি ছিল। বর্তমানে সেটি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে তোলা সম্ভব হচ্ছে।
“আমাদের এত দিন উৎপাদন চলছে ৫০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ৭০-৮০ শতাংশ উৎপাদন করা যাচ্ছে।”
বিদ্যুৎকেন্দ্রেও বাড়তি বরাদ্দ
গ্যাস সরবরাহ বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে। আগে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। গ্যাসচাপ বাড়ার পর তা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য গ্যাস বরাদ্দও দৈনিক ৮৫০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।
তবে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন তেমন বাড়েনি। একই সময়ে রামপাল ও পটুয়াখালীর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট বিকল থাকায় গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের বাড়তি সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। ফলে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি এখনো আগের মতোই রয়েছে।
ঢাকার আবদুল্লাহপুর আরএসআর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে ৪ থেকে ৫ পিএসআই চাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, এতে যানবাহনগুলো অপেক্ষা ও বিঘ্ন ছাড়াই প্রয়োজনীয় সিএনজি নিতে পারছে।
তবে কিছু এলাকায় অবকাঠামোগত কাজের কারণে সাময়িক গ্যাস বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজের জন্য আশুলিয়া ও সাভারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাই জাতীয় সরবরাহ বাড়লেও স্থানীয়ভাবে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে প্রকল্পকাজ ও বিতরণব্যবস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ য স সরবর হ?
গ য স সরবর হ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ য স সরবর হ matter?
গ য স সরবর হ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
